বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে ঝলক দেখাতে চায় বাংলাদেশ। আসর সামনে রেখে আইসিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘এটাই হবে আমাদের সেরা অভিযান।’ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর মাঠে গড়াতে দুই সপ্তাহ বাকি নেই। ১২ দল নিয়ে ১২ই জুন ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে শুরু হতে যাওয়া এ বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।
গত জানুয়ারিতে নেপালে হওয়া বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এবারের বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। যেখানে লাল-সবুজ মেয়েদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘২০২৪ সালে আমাদের দলের অগ্রগতি স্পষ্টভাবে বোঝা গিয়েছিল, যখন আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১০ বছরের মধ্যে আমাদের প্রথম জয় পেয়েছিলাম। স্কটল্যান্ডকে হারানো আমাদের দলের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। আমরা এবার সেই সাফল্যকে ভিত্তি করে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। আমরা এবার খুবই কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছি, যেখানে এমন দলগুলো আছে যারা নিয়মিত ফাইনাল ও সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো ম্যাচ জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে এবং আমরা আশা করছি এটাই হবে আমাদের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান।’ বাছাইপর্বে দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়ে প্রথমবারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে ডাচ্রা। কমলা জার্সিধারীদের বিপক্ষে জয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগ্রেসদের। সেই স্মৃতি মনে করে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখিও হবো, যারা এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে। কোয়ালিফায়ারে তাদের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আত্মবিশ্বাস নিতে পারি। প্রতিটি ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ঠিক যেমন বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়াও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগ্রেসরা। কন্ডিশন বিবেচনায় এখন এডেনবার্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। সিরিজে বাকি দুই দল নেদারল্যান্ডস ও স্বাগতিক স্কটল্যান্ড। দুই দলের বিপক্ষেই হেরেছে টাইগ্রেসরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ রানে হার দেখে জ্যোতির দল। তবুও বিশ্বকাপ ভালো করার আশা বাংলাদেশ অধিনায়কের। জ্যোতি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা কাক্সিক্ষত ফল পাইনি, তবে কিছু ভালো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল।
সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে স্বর্ণা আক্তার ও শারমিন আক্তার ভালো ব্যাটিং করেছে। সুলতানা খাতুন শেষ ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন। যদিও সেই ম্যাচ আমরা অল্প ব্যবধানে হেরেছি। এখন আমরা স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছি, যা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের সাহায্য করবে। এটা হবে ইংল্যান্ডে আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই সেখানে খেলার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে আমরা আমাদের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আশাবাদী।’ এটি বাংলাদেশের সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অধিনায়ক হিসেবে নিজের তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এ অর্জনে রোমাঞ্চিত জ্যোতি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এবং এখনও ২০১৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আমার প্রথম টুর্নামেন্ট খেলার স্মৃতি আমার মনে তাজা। তখন আমি ভাবিনি যে একদিন আমি তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবো। আমাকে বলতেই হবে, একাধিক বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার এই যাত্রা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এটি যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনি আমার জন্য এক বিশাল সম্মানও। সবচেয়ে বেশি যেটি আমাকে আনন্দ দেয়, তা হলো আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতি দেখা ও তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া, পাশাপাশি দলের মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ঐক্য।’
১৪ই জুন নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। ১৭ই জুন গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে টাইগ্রেসরা। ২০শে জুন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ২৫শে জুন প্রতিপক্ষ ভারত। ২৮শে জুন টাইগ্রেসরা গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে।
