ফরোয়ার্ডদের সুযোগ নষ্টের মহড়া আর গোলপোস্টের নিচে মেহেদী হাসান শ্রাবণের বীরত্বের দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করলো বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। মালদ্বীপে চার জাতির ডায়মন্ড জুবিলি টুর্নামেন্টের বাংলাদেশ-পাকিস্তানের উদ্বোধনী ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে মারুফুল হকের শিষ্যরা। মালে স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল উৎসবে মাততে পারতো বাংলাদেশ। নাজমুল ফয়সালের বাড়ানো ক্রসে ছোট বক্সের ভেতর সৌরভ দেওয়ানের আলতো টোকা পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। শুরুর ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা বারবার হতাশ করেছে। ২৮ মিনিটে ম্যাচের সহজতম সুযোগটি হাতছাড়া করেন মুরশেদ আলী। রাহুলের পাসের পর সামনে কেবল প্রতিপক্ষ কিপার থাকলেও মুরশেদ শট নেন সরাসরি তার শরীর বরাবর। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে রাব্বিকে ফাউল করা হলেও রেফারির সাড়া না মেলায় পেনাল্টি-বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়ায় পাকিস্তান। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও যুদ্ধাংদেহীভাব দেখা যায় এ সময়। মিরাজুলকে ধাক্কা মেরে কার্ড দেখেন আব্দুল্লাহ ইকবাল।
ওই ঘটনার রেশেই কিনা ৬১ মিনিটে বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমানকে পুশ করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পাকিস্তান ডিফেন্ডার সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহ। খানিক পর অবশ্য লাল কার্ড তুলে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তেঁতে থাকা পাকিস্তান প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল ৬৬ মিনিটে। গোলমুখের সামনে আলী হায়দার শাহের সাইড ভলি জাল খুঁজেই নিচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে উঠে কর্নারের বিনিময়ে ফিস্ট করেন শ্রাবণ। এ সময় টানা কয়েকটা আক্রমণ শানায় পাকিস্তান। প্রতিপক্ষের কঠিন চাপ সামলে বাংলাদেশও বেশ কিছু আক্রমণ শানায়। ৭৯ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগও আসে। এবার আব্দুল্লাহ ওমর দূরের পোস্টে শট না নিয়ে তিনি আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান, যদিও পাকিস্তানের এক ডিফেন্ডার এসে বল ক্লিয়ার করেন। পরের মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড তালগোল পাকিয়ে ফেলেন বক্সে ঢুকে।
