চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক জন। ২৮শে মে রাত থেকে ১লা জুন পর্যন্ত জেলার কর্ণফুলী, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড ও বাঁশখালীতে উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৭টি দুর্ঘটনা বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের মো. ইউসুফ (৫৩), আশিয়া ইউনিয়নের রুবেল (২৬), পটিয়া পৌরসভার হারুনুর রশিদ (৫১) এবং কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সজীব হোসেন (২৬)। আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা মোটরসাইকেল আরোহী মো. আলী আব্বাস (২৮), মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ইউনিয়নের নাফিজ আয়ন (১৬), চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার ছানিতুন নাহার (২৫) এবং গাইবান্ধার মন্টু মিয়া (৪৫)। নিহত নাফিজ আয়ন ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন, ফটিকছড়ির আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের জয় মল্লিক (১৮) এবং রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের সীমান্ত দাশ (২২), উত্তর পাইন্দং এলাকার মুহাম্মদ শাহজাহান (৪৮) ও তার ছেলে মুহাম্মদ আরিফ (১৮), কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বাহাদুর আলম (২৮) ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে নোমান মোহাম্মদ ইলাহি (৩৫)।
থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৮শে মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ভেল্লাপাড়া এলাকায়। বেপরোয়া গতির ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর জামান জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত বাসচালককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় পিএবি সড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মো. আলী আব্বাস (২৮) আহত হয় পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
৩০শে মে বিকালে ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, ডাম্প ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়। এতে জারিয়া বেগম (৫৪) নামে এক নারী নিহত হন এবং অন্তত ৯ জন আহত হন। বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই মিল্টন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১লা জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার মনছুরিয়া এলাকায় মাছবোঝাই একটি পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হন। নিহতরা হলেন- মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদা ঘোনার বাসিন্দা বাহাদুর আলম (২৮) এবং বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নোমান মোহাম্মদ ইলাহি (৩৫)। আহত হন মনি বেগম (২৪) ও মো. হেলাল (২৩)। বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আছরার উল্লাহ নূরী জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গুরুতর আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী অটোরিকশার সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়াগামী মাছবাহী পিকআপের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যান জব্দ করা হয়েছে।
একইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে বিআরটিসি বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বাবা-ছেলে মুহাম্মদ শাহজাহান (৪৮) ও মুহাম্মদ আরিফ (১৮) নিহত হন। নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক জানান, মোটরসাইকেলে করে শহরের দিকে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে একটি বিআরটিসি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
