নাটোরের লালপুরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে অটোভ্যানচালকদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও গবাদিপশু চুরি এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকার সাজিদ জুট মিলে। সশস্ত্র ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি ডাকাতদল মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে রাতভর লুটপাট চালায়।
এ সময় ডাকাতরা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, মোটর, যন্ত্রাংশ, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন রোববার রাতে উপজেলার বাকনাই এলাকায় অটোভ্যানচালক মো. কলিমদ্দিনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ভ্যান, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে ২৫শে মে ভোরে কদিমচিলান ইউনিয়নের পুকুরপাড়া এলাকায় অটোভ্যানচালক মো. সিদ্দিক মালিথা ও তার যাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এর আগে একই স্থানে ১২ই মে রাতে ভ্যানচালক সারোয়ারের হাত-পা ও চোখ বেঁধে তার ভ্যান ছিনতাই করা হয়। এ ছাড়া ৫ই মে দিবাগত রাতে থানা সংলগ্ন একটি জুয়েলার্স দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে ৪ঠা মে কুজিপুকুর এলাকায় ছাগল চুরি করে পালানোর সময় এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।
এ ছাড়া গত এক বছরে উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে- যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের বেলায় নির্জন সড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় অপরাধের ঝুঁকি বেড়েছে। তারা পুলিশের টহল জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ মানবজমিনকে বলেন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
