আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দলগুলোর কোচিং কৌশলে নিশ্চিতভাবেই কিছুটা কাটছাঁট করতে হবে। খেলার গতি নষ্ট করতে ফুটবলাররা চোটের অজুহাতে মাঠে শুয়ে পড়বেন, আর সেই সুযোগে বাকিরা সাইডলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে নতুন দীক্ষা নেবেন—এই চেনা দৃশ্য এবারের বিশ্বমঞ্চে আর দেখা যাবে না। ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোলকিপার আহত হলে বাকি খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল এরিয়ায় গিয়ে কোচের সঙ্গে পরামর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফুটবলীয় ভাষায় একেই বলা হচ্ছিলো ‘গোলকিপার ট্যাকটিক্যাল টাইম-আউট’।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই কৌশলটি বেশ বিতর্ক ছড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণের ধার কমাতে অনেক সময়ই গোলকিপাররা হুট করে মাঠে বসে পড়তেন। আর এই ফাঁকে বাকি দল সাইডলাইনে গিয়ে মিনি-টাইমআউট সেরে নিতো। গত নভেম্বরের ম্যানচেস্টার সিটি ও লিডস ইউনাইটেডের ম্যাচে সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার এমন কাণ্ড দেখে লিডস বস ড্যানিয়েল ফার্কে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি জানান, তিনি নিয়ম ভেঙে খেলার গতি নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃত চোটের ভান করছেন।
ফিফা এবার এই নিয়মের ফাঁকফোকর বন্ধে কঠোর। ৪৮টি দেশের কোচদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা সাফ জানিয়ে দেন, ‘গোলকিপারের চোটে পড়ার অধিকার অবশ্যই আছে। তবে বাকি খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে এক ধরণের টাইম-আউট কাটানোর কোনো অধিকার নেই। রেফারিরা এবার কোনো দলকে বেঞ্চের দিকে যেতে দেবেন না।’
শুধু টাইম-আউটই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির নিয়মেও বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে কর্নার বা ফ্রি-কিক নেয়ার ঠিক আগমুহূর্তে যদি কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রক্ষণভাগের কাউকে অবৈধভাবে বাধা দেন (অ্যাটাকিং ফাউল), তবে গোল হওয়ার পরও ভিএআর তা বাতিল করতে পারবে। গত মার্চে উরুগুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের একটি গোল নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। নতুন নিয়মে এমন গোল বাতিল হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, ‘ডিফেন্ডারকে যদি ডিফেন্ড করতেই না দেয়া হয়, তবে সেই গোল মেনে নেয়াটা চরম অন্যায়। এটি একটি স্পষ্ট, অবৈধ ব্লক ছিল।’
আসন্ন বিশ্বকাপে সবচেয়ে কড়া নিয়মটি আসছে মাঠের আচরণের ওপর। কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় হাত বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন, তবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে হতে পারে। বর্ণবাদী বা আপত্তিকর মন্তব্য ঠেকাতেই এই অভিনব নিয়ম। কোলিনা এ বিষয়ে বলেন, ‘আলাপচারিতা যদি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, তবে সমস্যা নেই। তবে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার মানেই হলো আপনি সম্ভাব্য বড় কোনো অপরাধ করছেন, যার শাস্তি সরাসরি লাল কার্ড।’
সময়ক্ষেপণ রোধে আরও পাঁচ নিয়ম
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ইনজুরি টাইম এড়াতে এবং খেলার গতি সচল রাখতে আগেই একগুচ্ছ নতুন নিয়ম সংযোজন করা হয়েছে।
থ্রো-ইন কাউন্টডাউন: থ্রো-ইন করতে ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে বলের মালিকানা প্রতিপক্ষ পেয়ে যাবে।
গোল-কিক কাউন্টডাউন: গোল-কিকে ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় অপচয় করলে প্রতিপক্ষকে কর্নার দেয়া হবে।
দ্রুত মাঠ ছাড়ার নিয়ম: বদলি খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। ব্যর্থ হলে দল ১ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলবে।
মাঠের বাইরে চিকিৎসা: ফিজিওর চিকিৎসা নিলে খেলোয়াড়কে অন্তত ১ মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ভিএআর রিভিউ: এখন থেকে কোনো খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখলে, সেই সিদ্ধান্ত ভিএআর দিয়ে পুনর্বিবেচনা করা যাবে।
