পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তলব করতে চলেছে পুলিশ। তাকে তদন্তে সহযোগিতার জন্য ডাকা হতে পারে। বিধাননগর দক্ষিণ থানার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থা, ভয় দেখানোর মতো ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সেই পরিস্থিতিতে এই সপ্তাহেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। রোববার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে অনুষ্ঠানের আগে মেসির সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ। তার কথা অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়ার হুমকিও দেন তিনি। শতদ্রুর থেকে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেয়ার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। সেই টিকিটগুলো পরে কালোবাজারি করা হয় বলে অভিযোগ। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, নেতা, মন্ত্রী এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ।
গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। তার দাবি, অরূপসহ কয়েকজন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের আঁচড়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। বহু দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় শতদ্রু গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি ৩৮ দিন কারাগারে ছিলেন। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
