যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘স্থানীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছে না আ.লীগ’। খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে। কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ দলগুলোর নেতাকর্মীরা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য নির্বাচন আচরণ বিধিমালাগুলোতে নতুন বিধি যুক্তের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। প্রস্তাবিত ওই বিধি হচ্ছে, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই-এই মর্মে ইসির তৈরি করা অঙ্গীকারনামায় সই দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অঙ্গীকারনামায় সঠিক তথ্য না দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে ইসির। এর ফলে পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ রয়েছে।
ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসির খসড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের প্রচারে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রী, এমপি ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পাশাপাশি তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না। সম্প্রতি এসব বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। ঈদের ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে রোববার ওই খসড়ার কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চার কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই খসড়া নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের আচরণ বিধিমালার খসড়া ‘অনেকটা মডেল’ হিসাবে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিধিমালায় যেসব সংশোধনী আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একমত হবে, সেই সংশোধনীগুলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ধরন অনুযায়ী আচরণ বিধিমালায় যতটা সম্ভব সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে। তারা আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের পর এসব খসড়া তৈরি করা হয়। ওইসব খসড়া সংশোধনীর ওপর নির্বাচন কমিশনাররা মতামত দিলে এতে আবারও সংশোধনী আসতে পারে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান রাখব ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের রাখতে হবে। আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে এ বিধি যুক্ত হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দল বা সংগঠনকে সামনে রেখে এটা করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে কয়েকটা দল নিষিদ্ধ আছে। দেশে বিদ্যমান অন্যান্য আইন বিবেচনায় নিয়ে এটা করা হচ্ছে। কোনো দলকে টার্গেট করে নয়।
আরও জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে আয়োজন করতে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সংশোধনী পাশ হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, আচরণ বিধিমালা ও পরিচালনা বিধিমালা থেকে রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট অংশগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। এই সংশোধনী আনতে গিয়ে আচরণ বিধিমালার কয়েকটি বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দ বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের চাঁদা বা অনুদান দিলে অথবা রাজনৈতিক ইস্যুতে নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ করলে তা আটকানোর ক্ষমতা হারাবে ইসি। এমনকি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে রাজনৈতিক দলের যে দণ্ডের বিধান রয়েছে, তাও বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে কাগজের পোস্টারে প্রচার এবং ব্যানার ও ফেস্টুনসহ নির্বাচনি সামগ্রীতে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর বিধানসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাবিত বিধান ইসির জন্য আত্মঘাতী হওয়ার আশঙ্কা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও পরোক্ষভাবে তাতে দলীয় প্রভাব থাকবেই। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে অন্য দলগুলো তাদের তৎপরতা বাড়াবে। এ বিষয়ে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী যুগান্তরকে বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে কাজ করেছে। নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে না, এমনটি বলা যায় না। ইসি যদি দলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার যুগান্তরকে বলেন, ইসি সচিবালয় খসড়া সংশোধনী তৈরি করেছে। সেখানে যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে, ঈদের ছুটি থাকায় সেগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। আমরা সব বিষয়ে আলোচনা করব। এরপর সিদ্ধান্ত নেব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহারে মানুষ হত্যার দায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনেরও সংশোধনী আনা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে ওই বিল পাশ করে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারেননি। তখন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি আচরণ বিধিমালায় ‘অঙ্গীকার’ নামক নতুন বিধি যুক্ত করা হচ্ছে। এতে নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার অঙ্গীকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগসহ নিষিদ্ধ দলগুলোর পদধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ রুদ্ধ হতে যাচ্ছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা রয়েছেন। তারা নির্বাচনি প্রচার চালাতে ও কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন না। এই সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ার্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, কাজী রকিব উদ্দীন নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময়েও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়ররা সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুবিধা পান কিনা-তা নিয়ে খোদ কমিশনের মধ্যেই প্রশ্ন উঠে। একপর্যায়ে ওই কমিশন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে সরে আসে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই। অনির্বাচিত প্রশাসকেরা স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানে আগে ভোট হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হলে সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধি না থাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কম। কিন্তু পরবর্তীতে যেসব নির্বাচন হবে সেগুলোতে প্রভাব বিস্তার রোধে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত খসড়া আচরণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০টির বেশি বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবার কয়েকটি বিধিতে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বহাল রাখা হয়েছে। যেসব বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-২(১১), (১৩) ও (১৬), ৩, ৪, ৫, ৭, ১৩, ১৮, ২৯ এবং ৩১। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার বিধান বাতিল হওয়ার সঙ্গে কয়েকটি বিধি-উপবিধি সম্পৃক্ত। এ কারণে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার অন্যতম কারণ, ইসি দলগুলোর সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না।
পর্যলোচনায় দেখা গেছে, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে বিধি ৩১ অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। ওই বিধিতে দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড রয়েছে। খসড়া আচরণ বিধির ৩১(২) উপবিধি বাতিলের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিধি লঙ্ঘনের পরেও কোনো দলকে ইসি কোনো দণ্ড দিতে পারবে না।
বিধি-৪ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পূর্ব সময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের আওতাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য বা গোপনে চাঁদা বা অনুদান দিতে পারে না। এ বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনী অনুমোদন পেলে রাজনৈতিক দলগুলো কারও পক্ষে কার্যক্রম চালালে ইসির কিছুই করার থাকবে না। এছাড়া বিধি-৫ এ প্রচারণা চালানো, বিধি-৭ এ নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ আয়োজন করা, বিধি-১৩ তে যানবাহন নিয়ে শোডাউন করা, বিধি-১৮তে উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া এবং বিধি-২৯ এ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে অহেতুক ঘোরাফেরা না করার বিধান রয়েছে। এসব বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায়’ প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি যুক্ত করেছে। এতে কোনো প্রার্থী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে কমিশন তদন্ত করে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা পর্যন্ত বাতিলের ক্ষমতা রাখে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের আচরণ বিধিমালায় ইসির ওই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত করেনি ইসি।
এছাড়া অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে কাগজের পোস্টার ও রেক্সিনের তৈরি প্রচার সামগ্রী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো কাপড় ও চটের তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। শুধু প্রার্থী ও প্রতীকের ছবি থাকবে। এমনকি দলীয় প্রধানের ছবিও ব্যবহার করা যাবে না। বিলবোর্ডের মাধ্যমেও প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে।
নির্বাচনি প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা যাবে। অনেকটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও বিরুদ্ধে বিষোদগার করা যাবে না।
প্রথম আলো
‘প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পর বিআরটির সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিআরটি প্রকল্প নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, বাস্তবায়ন হলে দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী বিশেষ বাসে যাতায়াত করতে পারবে। যানজট, সড়কপথের সংকেত (সিগন্যাল) কিংবা অন্য কোনো বাধায় বাস আটকে থাকবে না। ১৪ বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করার পর জানা গেল, এই উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার নয়; বরং যানজট ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রকল্পটি এখন পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকল্পটি সম্পর্কে এমন মত দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল। বুয়েটের চারজন বিশেষজ্ঞের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। তাঁরা গত মাসে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন।
বিআরটি প্রকল্প সম্পর্কে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, প্রকল্পটি দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ‘সিস্টেমেটিক ব্যর্থতার’ উদাহরণ। যথাযথ কারিগরি যাচাই, দক্ষ জনবল ও জবাবদিহির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ত্রুটি, নকশাগত দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহির ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষজ্ঞ দল বিআরটি কার্যক্রম পুরোপুরি বাতিল করে বিদ্যমান অবকাঠামোকে উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পটি বাতিল করার পক্ষে জোরালো মত আছে। আবার বাতিল না করে আরও কিছু টাকা খরচ করে পুরোপুরি না হলেও কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন মতও আছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সড়ক মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে যে প্রকল্পটি এখানেই শেষ, নাকি নতুন বিনিয়োগ করা হবে। এরপর বাতিল কিংবা নতুন বিনিয়োগ-চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।
ঋণের টাকার অবকাঠামো যাচ্ছে ক্ষয়ে
২৫ মে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের আওতায় সড়কের মাঝখানে ১৫টি স্টেশন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে এর কোনোটির কাজই শেষ হয়নি। স্টেশনগুলোর কোনো কোনোটি মাটিতে, আবার কিছু আছে উড়ালপথে। বিশেষ বাস চলাচল করলে যাত্রীরা রাস্তার দুই পাশ থেকে স্টেশনে যাতে-আসতে পারে, সে জন্য রয়েছে আধুনিক পথচারী পারাপার। এগুলোতে চলন্ত সিঁড়ি, কোনো কোনোটাতে লিফটের ব্যবস্থাও আছে। উত্তরার একটি চলন্ত সিঁড়ি চালু করা হয়েছিল। তবে এখন তা অচল। অন্য স্টেশনের পাশের চলন্ত সিঁড়ির যন্ত্রপাতিতে জং ধরছে, ভেঙে পড়ছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে মালামাল পরিবহন করেন কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. সোহেল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ২০২২ সালে এক বৃষ্টির দিনে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পার হতে তাঁর ১০ ঘণ্টা লেগেছিল। বিআরটি প্রকল্পের কষ্ট ভোলার নয়। তিনি বলেন, এখন বিআরটি লেন দিয়ে সব যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই জট লেগে থাকে। সাইন-সংকেত নেই, কোথাও উড়াল এবং কোথাও সমতল, কিছু স্থানে বেড়া দেওয়া, সড়ক সরু। চলার সময় রাস্তা ভুল হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিআরটি লেন আলাদা করতে উত্তরা এলাকার কিছু স্থানে সড়কের মাঝখানে লোহার বেড়া দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বেড়া ভেঙে মানুষ পারাপার হচ্ছে। পুরো ২০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশেই পোশাক কারখানা রয়েছে। কারখানার সামনে পাহারাদারদের লাল পতাকা হাতে যানবাহন থামিয়ে শ্রমিকদের পার হতে সহায়তা করতে দেখা গেছে।
বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত পুরো ২০ কিলোমিটার সড়কে এক ফুটের কাছাকাছি উঁচু সিমেন্টের প্রতিরোধক দিয়ে বিআরটি লেন আলাদা করা হয়েছে। প্রকল্প বাতিল করে সব ধরনের যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে সেগুলো ভাঙতে হবে।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘সংকটেও ধারকর্জের মহাবাজেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি জোট সরকারের প্রথম বাজেট প্রায় চূড়ান্ত। বিশেষ পরিবর্তন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটটি ১১ জুন সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সরকার এমন এক সময়ে বাজেট দিতে যাচ্ছে, যখন তহবিলসংকটে রীতিমতো ঋণ করে চলছে। এরই মধ্যে বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ঘাটতি লাখ কোটি টাকা বেশ আগেই ছাড়িয়েছে। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থর গতির কারণে সরকারকে অনেকটাই ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ঠিক এ সময়েই সরকার বড় অঙ্কের একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট দিতে যাচ্ছে, যা বাস্তবায়ন নিয়ে এখনই নানা শঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সামর্থ্য নেই কিন্তু ঋণ করেই বড় এ বাজেট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রাই বাস্তবায়ন প্রায় কঠিন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ঋণের পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহে মানুষের ওপর করের বোঝাও বাড়বে আসছে বাজেটে।
যেখানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটই বাস্তবায়ন থেকে অনেক পিছিয়ে, সেখানে আরেকটি বড় বাজেটে আকার বাড়ানো হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা, শতকরা হিসাবে যা চলতি বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
বাজেটে শুধু উচ্চাভিলাষী ব্যয়ই নয়, একইভাবে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এর পরও বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তবে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে প্রণীত এই বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের বাজেটের প্রস্তুত করা চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে, যা নিয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ীই বাজেটের এই সারসংক্ষেপ চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ।
সরকারের প্রস্তুত করা সর্বশেষ বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ, কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বাজেটকে দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখাতে চাচ্ছেন। এ জন্য ঈদের ছুটিতেই তিনি এ নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছেন। অবশ্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। এখন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বত্তৃদ্ধতার খুঁটিনাটি বিষয় কাটাছেঁড়া করা হচ্ছে।
সমকাল
‘শিক্ষায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, সমালোচনার পাল্লা ভারী’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের মধ্যে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিগত পরিবর্তন এসেছে। স্কুলে আবার ভর্তি পরীক্ষা ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু, পাবলিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা, মাধ্যমিক স্তরে তিনটি নতুন বিষয় সংযোজন, পাঠ্যবই পরিমার্জন, ডিজিটাল নকল ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদায়ন সমালোচনাকে উস্কে দিয়েছে। বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্তে সমালোচনার পাল্লাই ভারী।
সরকারের দাবি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষাবিদের একাংশের মত, দ্রুত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হলো ২৭ মে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর আগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখায়ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
স্কুলে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু
করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ভর্তি লটারির মাধ্যমে শুরু হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় গত ১৭ মার্চ স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিভাবকের একটি অংশের আশঙ্কা, ভর্তি পরীক্ষা শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি কোচিং-নির্ভরতা আবারও বেড়ে যেতে পারে।
১৬ বছর পর ফিরল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা
প্রাথমিক স্তরে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃত্তি পরীক্ষা আবার চালুর সিদ্ধান্তকে সরকারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি এবং মেধাবীদের আলাদা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
এগিয়ে আনা হলো এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আগের তুলনায় এগিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সময় আরও কমিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু যখন আধুনিক ও দ্রুত হচ্ছে, তখন ফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনা হবে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ চুক্তি বাতিল, নতুন করে ঋণ চাইল সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান ঋণচুক্তি থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে নতুন করে ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এবং আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বড় নীতিগত পরিবর্তনটি নিশ্চিত করা হয়।
এর পর ২৭ মে এক বিবৃতিতে আইএমএফ-এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভ ক্রজনার এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ-এর কাছে একটি নতুন কর্মসূচির জন্য অনুরোধ করেছে। আইএমএফ কর্মকর্তারা তাদের সংস্কার কর্মসূচি এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছেন। দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার প্রচেষ্টায় আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন কর্মসূচি হলে বর্তমান সরকারের পক্ষে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরো সময় পাওয়া যাবে। কারণ আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য পরিবর্তীত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সমন্বয় করতে হবে। তাছাড়া ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়ে যে চাপ ছিল—সে বিষয়গুলো নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হবে।
এজন্য নতুন কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। চলমান কর্মসূচি থেকে বের হওয়ার জন্য মোটা দাগে কিছু বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিসহ ভ্যাট সংস্কার, করছাড় কমানো এবং কর প্রশাসন আধুনিকায়নের বিষয়ে শর্ত পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি কম। এ ছাড়া ব্যাংক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা ও পরিচালনায় সুশাসন ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে আইএমএফের অসন্তোষ আছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠক থেকে ফিরে আসার পর থেকে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করার আগ্রহের কথা জানিয়ে আলোচনা শুরু হয়। চলমান কর্মসূচি থেকে বের হয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করার বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে বাংলাদেশ। নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার হতে পারে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। নতুন ঋণ কর্মসূচিতেও বিভিন্ন ধরনের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের শর্ত থাকবে। শর্তের ব্যাপারে আলোচনা করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই বা আগস্টে ঢাকায় আইএমএফের একটি মিশন আসার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফককে বলেন, নতুন ঋণ কর্মসূচিতে গেলেও সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে আসবে। আমাদের নিজেদের অর্থনীতির প্রয়োজনেই রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে। চলমান আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এটি বাদ দিয়ে নতুন করে ঋণের আলোচনায় স্বাভাবিক ভাবেই সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়গুলো উঠে আসবে। এমনও হতে পারে—আইএমএফ আরো শক্ত বা কঠিন শর্ত দিয়ে নতুন কর্মসূচিতে আসতে পারে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো, ভর্তুকি কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার শর্ত থাকে। নতুন ঋণ কর্মসূচিতে গেলেও এসব শর্ত থাকবে। এবার শর্তগুলো আরো শক্ত করে আসতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য কিছু বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সব শর্ত যে আমাদের জন্য অর্থনীতির জন্য সহনীয়, এমনটি নয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর চাপ সব সময় থাকে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর শর্তগুলো নিয়ে সরকার নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে। আমাদের অর্থনীতির জন্য যতটুকু সহনীয় হবে ততটুকু ভর্তুকির বিষয়ে আলোচনা করতে পারে।
নয়া দিগন্ত
‘৩০০ বছরের কয়লা মজুদ রেখে বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের মাটির নিচে রয়েছে বিলিয়ন টন কয়লার মজুদ। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় এই মজুদ দিয়েই অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ বছর দেশের কয়লার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। অথচ বাস্তবতা হলো- দেশ এখন দ্রুত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। প্রতি বছর বিদেশ থেকে কয়লা আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এতে এক দিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়ছে চাপ, একই সাথে ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দেশে এত বিপুল কয়লা মজুদ থাকা সত্ত্বেও কেন তা উত্তোলন করা হচ্ছে না। কেন দেড় যুগ পার হলেও জাতীয় কয়লানীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর কেন একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরও দেশকে বিদেশী কয়লার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
পাঁচ খনিতে ৭ বিলিয়ন টনের বেশি মজুদ
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লাখনির সংখ্যা পাঁচটি। এগুলোর অধিকাংশই দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লায় সমৃদ্ধ। বর্তমানে আবিষ্কৃত খনিগুলো হলো- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দীঘিপাড়া, রংপুরের খালাশপীর এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বড়পুকুরিয়ায় প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন টন, ফুলবাড়ীতে ৫৭২ মিলিয়ন টন, দীঘিপাড়ায় ৬০০ মিলিয়ন টন এবং খালাশপীরে ১৪৩ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় মজুদ রয়েছে জামালগঞ্জে, যেখানে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন টন কয়লা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে সম্ভাব্য কয়লা মজুদের পরিমাণ প্রায় ৭.১ বিলিয়ন টন।
৩০০ বছরের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা
বর্তমানে দেশে চালু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বার্ষিক কয়লার চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টন। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ী এবং বড়পুকুরিয়াসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ায় এই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে হিসাবে, পুরো ৭.১ বিলিয়ন টন কয়লা ব্যবহার করা গেলে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ৪৭০ থেকে ৫৯০ বছর পর্যন্ত দেশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।
তবে বাস্তবে পুরো মজুদ উত্তোলন করা যায় না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, ভূতাত্ত্বিক জটিলতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কয়লা উত্তোলনযোগ্য ধরা হয়। সে হিসেবে মোট মজুদের মাত্র অর্ধেকও যদি উত্তোলনযোগ্য হয়, তাহলেও প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন টন কয়লা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী এই কয়লা দিয়েই প্রায় ২৩০ থেকে ৩০০ বছর দেশের বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।
তবুও আমদানির ওপর পূর্ণনির্ভরতা
বিপুল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লাখনি হলো দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি। এখান থেকে বছরে গড়ে ৭ থেকে ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়, যা জাতীয় চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে দেশের প্রায় সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বিদেশী কয়লায় চলছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা আমদানি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে এর জন্য বছরে প্রায় ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় দেশের ডলার সঙ্কটকে আরো তীব্র করছে। একই সাথে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ খাতও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘রাজস্ব বোর্ডের কর পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তা-সংশয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর পুনঃপ্রবর্তন, বিভিন্ন কর অব্যাহতি ও রেয়াত সংকোচন, রফতানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর বৃদ্ধি এবং উৎসে কর ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এসব সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বড় ও নিয়মিত করদাতা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, রাজস্ব আহরণের বড় ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত নতুন করদাতা খোঁজার পরিবর্তে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় কর অব্যাহতি পুনর্মূল্যায়ন, করজাল সম্প্রসারণ এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে এনবিআর।
উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের পেছনে রয়েছে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের দুর্বল চিত্র। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রাজস্ব আহরণ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। ফলে টানা দশম বছরের মতো রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, রাজস্ব আহরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের দ্বিমত নেই। কিন্তু করজাল সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া একই করদাতাদের ওপর বারবার নতুন কর বা অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হলে বিনিয়োগ, সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বৃহৎ শিল্প ও করপোরেট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর মতে, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণের প্রধান উপায় হওয়া উচিত নতুন করদাতা শনাক্তকরণ। বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ করছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা যেটা শুনতে পাচ্ছি, যারা এক্সিস্টিং করদাতা তাদের ওপর নাকি আরো বেশি কর চাপানো হবে। একজন নিয়মিত করদাতা কত দেবে? আমরা সবসময় বলে আসছি করদাতার বেজটা (ভিত্তি) আরো বাড়াতে হবে। নতুন করদাতা না বাড়িয়ে যারা দিচ্ছে তাদের ওপর চাপাতে থাকলে তারাও তো একসময় আর দিতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ১৭-১৮ কোটি মানুষের দেশ। ট্যাক্সপেয়ার কি শুধু ১০-১৫ শতাংশ মানুষই? আর কারো কি কর দেয়ার সক্ষমতা নেই? অবশ্যই আছে।’
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরাও। তাদের মতে, করজাল সম্প্রসারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় নিয়মিত করদাতা ও কমপ্লায়েন্ট ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই বারবার নতুন চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে বহু পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী আছেন, যারা বিপুল অর্থ আয় করছেন, কিন্তু সরকারকে কর দিচ্ছেন না। ভালো ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের মধ্যে যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপরই এনবিআর নানা ধরনের শর্ত চাপাচ্ছে। এ কারণে নিয়ম মানতে চাওয়া মানুষের মধ্যেও সম্পদ গোপন রাখার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।’
আজকের পত্রিকা
‘ছয় শিশুর প্রাণ গেছে আদ্-দ্বীনের অবহেলায়’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর সঠিক কারণ চার দিন পরও অজানা। তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলের সুবিধাহীন কক্ষটিতে অক্সিজেনস্বল্পতায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেখানে স্প্লিট এসি রয়েছে, যা ইমারত নির্মাণ বিধিমালার লঙ্ঘন। সন্তানহারা পরিবারগুলোর কান্না থামছে না।
ঈদের আগের দিন গত ২৭ মে (বুধবার) প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে ওই ওয়ার্ডের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। কমিটির সূত্র বলেছে, প্রতিবেদন দিতে আরও দু-তিন দিন লাগবে।
এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতালটির মালিকানায় থাকা আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন। এদিকে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডে গত মঙ্গলবার রাতে ১১ জন প্রসূতি ও তাঁদের নবজাতক ছিল। এর মধ্যে ছয়টি নবজাতকের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। অন্য পাঁচটি শিশু আগে থেকেই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন মা শিশুদের ঠান্ডা লাগার কথা জানিয়ে ওই কক্ষের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ করতে বলেন। এ কারণে কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার পর আবার এসি চালু করা হয়। এরপর ওয়ার্ডে একরকম গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের দিকে একে একে ছয়টি শিশুর শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক অস্থিরতা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সকাল ৯টার মধ্যে ওই ছয় নবজাতকেরই মৃত্যু হয়।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোরের দিকে শিশুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর বুধবার সকাল ৬টার আগে একজনের এবং ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাকি পাঁচ নবজাতকের মৃত্যু হয়।
শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে তাদের সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান প্রথম পাতার খবর ‘দাম না পেয়ে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহা শেষে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুর চামড়া সংরক্ষণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ে সংশ্লিষ্টরা। সরকার চলতি বছর কোরবানির পশুর চামড়ার দাম বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। আগের ধারাবাহিকতায় এবারও কাঁচা চামড়ার কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে বিনামূল্যে মসজিদ-মাদ্রাসায় চামড়া দান করলেও সংরক্ষণ দক্ষতার অভাবে সেগুলোর মান খারপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যানারি মালিকরা বলছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অদক্ষতা, গুজবের কারণে কোরবানিদাতারা চামড়ার সঠিক দাম পাননি। এ কারণে অনেকে চামড়া ফেলে দিয়েছেন বা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। ফলে এ বছর চামড়া সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতি বছর কোরবানির চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে দাবি করছেন খাত-সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর প্রতিকারে কোরবানির সময় সরকারিভাবে চামড়া সংরক্ষণের দাবি জনিয়েছেন তারা।
এদিকে সরকারের তদারকি কমিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চামড়ার মূল্য নিয়ে নেতিবাচক তথ্য থাকলেও ব্যবস্থাপনাতে কোনো অনিয়ম হয়নি। ঈদ উপলক্ষে সরকার ঢাকাসহ সব বিভাগে তদারকি কমিটি ও সমন্বয় সেল গঠন করেছে। এখন তথ্য পর্যালোচনা চলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করেছেন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকা পর্যবেক্ষণে গিয়েছেন।
এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরি ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারটি। চাহিদা ছিল এক কোটি এক লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভারসাম্য আনয়ন, সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া এবং দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট পরিকল্পনা করেছে সরকার। যেখানে শুধু উচ্চাভিলাষী ব্যয়ই নয় একইভাবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তারপরও বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে।
যেখানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি, সে হিসাবে এবার বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি, যা ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। অবশ্য সংকট মোকাবিলায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার আগের বছরের (২০২৪-২৫) তুলনায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা এখনো ধীরগতিতে বাস্তবায়নাধীন। আগামী বছরের বাজেটের প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যা নিয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ীই বাজেটের এই সারসংক্ষেপ চূড়ান্ত করেছে অর্থবিভাগ।
সরকারের প্রস্তুত করা সর্বশেষ বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ, কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যু সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার, যা বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এ খাতের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া এ খাতের আওতার সঙ্গে বাড়ানো হবে উপকারভোগীর সংখ্যাও। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বছরজুড়ে।
অর্থবিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বাজেটটাকে দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখতে চান। এ জন্য ঈদের ছুটিতেই তিনি এ নিয়ে অবিরতভাবে কাজ করছেন। অবশ্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট, যা আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এখন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কাটাছেঁড়া করা হচ্ছে। এতসব চ্যালেঞ্জ ও সংকট সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার একটা জোর চেষ্টা থাকবে এবারের বাজেটে। এ জন্য নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে বিশেষ কৌশল। বাজেটে বাড়বে সামাজিক সুরক্ষার আওতা, বাড়ানো হবে করমুক্ত আয়সীমা। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে করা হবে বিনিয়ন্ত্রণ। কমানো হবে করপোরেট কর। বাড়ানো হবে করের আওতা। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে দেওয়া হবে এককালীন আর্থিক সহায়তা। বিনিয়োগ বাড়াতে আবারও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হ”েচ্ছ। বিশেষ করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করে সরকার।
প্রবৃদ্ধি ৬.৫, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ : ২০২৬-২৭ বাজেটের খসড়া নথির তথ্যানুযায়ী, আসন্ন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। অবশ্য বিশ্বব্যাংক বলছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ শতাংশের কম। এমনকি বৈশ্বিক অচলাবস্থা এবং ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের ফলে আগামী বছরও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীর গতিতে চলমান থাকবে। তবুও বাংলাদেশের নতুন এই নির্বাচিত সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান।
