কলকাতায় মেসি কান্ড

সাবেক ক্রিড়া মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গত ডিসেম্বরে লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় রোববার সাবেক ক্রিড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
অরূপের বিরুদ্ধে অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২) ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে অনুষ্ঠানের আগে মেসির সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ। তার কথা অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। শতদ্রুর থেকে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। সেই টিকিটগুলি পরে কালোবাজারি করা হয় বলে অভিযোগ। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, নেতা, মন্ত্রী এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ।
গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। তার দাবি, অরূপ-সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের আঁচড়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্রুদ্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় শতদ্রু গ্রেফতার হয়েছিলেন। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি রুপির টিকিট বিক্রি হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন