সান মারিনোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লো ফুটবল দল

হামজা-শমিত যোগ দেবেন কাল

সান মারিনোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লো ফুটবল দল

ফন্ট সাইজ:

৫ই জুন প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ইউরোপের ছোট্ট দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে নতুন কোচ থমাস ডুলির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। ম্যাচটি খেলতে গতকাল দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ দল ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে ইতালির রোমের জন্য আরেক ফ্লাইট ধরতে হবে।

সান মারিনো ইতালির মধ্যেই ক্ষুদ্র একটি দেশ। রোম থেকে পরবর্তীতে সান মারিনোতে পৌঁছাবেন জামালরা। হামজা-শমিত-জায়ান ২রা জুন দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এই প্রসঙ্গে সিনিয়র ফুটবলার তপু বর্মণ বলেন, ‘তারা দেরিতে আসায় কোনো সমস্যা হবে না। এক বছর আমরা এক সঙ্গে খেলছি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো।’ সান মারিনোর র‌্যাঙ্কিং ২১১।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তারা সবচেয়ে পেছনে রয়েছে। বাংলাদেশ ত্রিশ ধাপ এগিয়ে থাকলেও ইউরোপের দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে না, সেটাও জানেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে তপু বলেন, ‘আসলে তারা র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও তাদের অনেক ফুটবলার ইউরোপে খেলে। আবার তারা ইউরোপিয়ান দলগুলোর সঙ্গে খেলে। আমরা তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটাই দেবো।’ থমাস ডুলি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এক সপ্তাহও হয়নি।

২৫শে মে থেকে একটানা চলা অনুশীলনই নতুন কোচ ও খেলোয়াড়দের একে অপরকে চেনার যা একটু সুযোগ করে দিয়েছে। আর সপ্তাহখানেকের এই অভিজ্ঞতাতেই কোচ নিয়ে বেশ খুশি তপু বর্মণ। জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডার ডুলির কোচিং ও মানসিক ধরন তুলে ধরে বলেন, এমন ব্যক্তিত্বের কোচই দরকার দলের জন্য। মার্কিন বংশোদ্ভূত জার্মান এই কোচের ফুটবল-দর্শনের সঙ্গে এগোলে দল ভালো করতে পারবে বলে বিশ্বাস তপুর।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ডুলি অনুশীলনে নতুন কী করেছেন প্রশ্নে তপু বলেন, ‘তিনি ডিফেন্সের খেলোয়াড় ছিলেন। দুই বিশ্বকাপ খেলেছেন। তার প্রথম কথাই হচ্ছে দল হিসেবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে গোল হজম না করা। আমরা যদি গোল না খাই, তাহলে আমরা আমরা গোল দিতে পারবো, ম্যাচও জিততে পারবো।’ যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলা ডুলি বাংলাদেশে আসার আগে গায়ানা ও ফিলিপাইনের কোচ ছিলেন। এক সপ্তাহের অনুশীলনে এই কোচ সম্পর্কে মিশ্র অভিজ্ঞতাই হয়েছে জানিয়ে তপু বলেন, ‘খুবই ফ্রি মেন্টালিটির (মুক্ত মনের), পাশাপাশি স্ট্রং এবং হার্ড। আসলে এটাই প্রয়োজন। একটা জাতীয় দলের কোচ এ রকম ব্যক্তিত্বেরই দরকার।’

তপুর আশা, যত বেশি দিন যাবে, কোচের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও বাড়বে, ‘তার যে দর্শন, সেটাতে আমরা পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারবো।’ হাভিয়ের কাবরেরার সময় কানাডা প্রবাসী ফুটবলার কাজেম শাহের বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছিল। তবে তিনি সেভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে নতুন স্বপ্ন দেখছেন কাজেম। নতুন কোচ ডুলি সম্পর্কে বলেন, ‘আগের কোচের চেয়ে একটু পার্থক্য তো রয়েছেই। সে ট্যাকটিস নিয়ে বেশি কাজ করে। পাসিং ফুটবল পছন্দ করে এবং ফুটবলারদের সঙ্গে ফ্রি-লি মেশে এবং স্বাধীনতাও একটু বেশি দেন।’ বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার আমের খান জানান, সান মারিনোতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও জায়ান আহমেদ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন