ঈদের অলস ছুটি কাটিয়ে চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ক্রিকেটাররা ফিরছেন নিজেদের ডেরায়; অপেক্ষায় এক রোমাঞ্চকর মহাযজ্ঞের। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের হিসাব চুকিয়ে আগামী ৬ই জুন থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। মূলত অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজকে সামনে রেখেই এই রণপ্রস্তুতি। প্রায় ১৫ বছর পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামী ৬ই জুন বাংলাদেশে আসছে অজিরা।
ফুটবল বিশ্বকাপের জমজমাট উন্মাদনার সমান্তরালেই দেশের মাঠে গড়াবে টাইগারদের এই কঠিন ক্রিকেট যুদ্ধ। ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও মানসিক শক্তির চরম পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত মিরপুর স্টেডিয়াম। বিদেশি কোচিং স্টাফের সিংহভাগ সদস্য ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। তবে ছুটি কাটাতে ব্যস্ত থাকায় শুরু থেকে থাকছেন না স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তীব্র গরম ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আজ থেকেই ঐচ্ছিক অনুশীলন শুরু করতে পারবেন ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সব সুযোগ উন্মুক্ত করে দিয়েছে যাতে তারা নিজেদের সেরাটা ঝালিয়ে নিতে পারেন। তবে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু হবে ৬ই জুন।
আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ অনুশীলনের আদর্শ মঞ্চ তৈরি করেছে ডিপিএল। ঈদের আগে ১ রাউন্ড খেলার সুযোগ থাকলেও টেস্ট দলের পেসার এবং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে লীগের পরবর্তী ২ রাউন্ডে তারা মাঠে নামবেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে।
রূপগঞ্জের জার্সিতে তাদের সতীর্থ হিসেবে খেলবেন তারকা পেসার শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে মাঠ কাঁপাবেন নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ। তবে এই আসরে খেলছেন না বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। জাতীয় দলের প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্লাবগুলোকে সামলাতে হবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে আগামী ৮ই জুন থেকে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য এই সিরিজের জন্য ক্লাবগুলোকে ১৫ জন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিতে হবে।
আগামী ৬ জুন বগুড়ায় ‘এ’ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তারা। এই দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাকির হাসান। স্কোয়াডে আরও ডাক পেতে যাচ্ছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন, আলিস আল ইসলাম, ইফতেখার হোসেন ইফতি, অমিত হাসান ও ইয়াসির আলী রাব্বির মতো প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটাররা। তারকা খেলোয়াড়দের এমন দলছুট হওয়ার ফলে ঘরোয়া লীগের শেষ রাউন্ডগুলো তারকাশূন্য হয়ে পড়বে। তা সত্ত্বেও ক্লাব ম্যানেজমেন্ট দেশের স্বার্থে সানন্দেই খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসে অজিদের বিপক্ষে সিরিজগুলো সবসময়ই এক কঠিন পরীক্ষা। দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে ফরম্যাটে দুই দলের পূর্বের ২২টি লড়াইয়ে জয়ের পাল্লা একচেটিয়াভাবে অস্ট্রেলিয়ার ভারী, যেখানে ২০টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে সফরকারীরা। বিপরীতে স্বাগতিকদের একমাত্র জয়টি এসেছিল ঐতিহাসিক কার্ডিফে, আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। এই সংস্করণে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৯৫ রান এবং সর্বনিম্ন স্কোর মাত্র ৭৪ রান। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লড়াইয়ের আবহ অনেকটাই ভিন্ন। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের মোট ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৭টি অজিরা জিতলেও ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ ভালো। শেষ ৫ ম্যাচের হোম সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতিই এখন টাইগারদের বড় আত্মবিশ্বাস।
আগামী ৯ই জুন মিরপুরের মাঠে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজে ক্রিকেটারদের বড় শত্রু হতে পারে তীব্র দাবদাহ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার এড়িয়ে সব ম্যাচ দিনের আলোয় আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সকাল ১১টা এবং দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচগুলোতে জুনের প্রচণ্ড গরমে ফিল্ডিং করা ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। আধুনিক ক্রিকেটের আগ্রাসী ব্যাকরণে বড় চ্যালেঞ্জ পাওয়ার হিটিং।
টাইগার ব্যাটিং লাইনআপে এখন এই সামর্থ্য বাড়ানোর তাগিদ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে টপ অর্ডারে ধারাবাহিকতা এবং মিডল অর্ডারে রান তোলার গতি বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে। দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬ ও ৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা। অভিজ্ঞ রহীম কিংবা অলরাউন্ডার মোসাদ্দেকের মতো তারকাদের দলে ফেরানোর জোরালো দাবি উঠলেও টিম ম্যানেজমেন্ট হুট করে দলে আমূল পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নয়। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয়ের সেই ধারাই ধরে রাখতে চায় স্বাগতিকরা।
