সবশেষ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে মিশ্র বিভাগে রৌপ্য জিতেছিলেন জাভেদ আহমেদ ও খৈ খৈ মারমা। আসন্ন কমনওয়েলথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপে দলে নেই এরা দু’জন। শুধু জাভেদ ও খৈ খৈ নয় কমনওয়েলথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের দলে নেই রামহিম বম, মোহতাসিন আহমেদ হৃদয়, সাদিয়া রহমান মৌ, সোনম সুলতানা সোমা ও ঐশীর মতো শীর্ষ খেলোয়াড়রা। খেলোয়াড়দের দাবি ছিল র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দল গড়তে। কিন্তু ফেডারেশন সিলেকশন টুর্নামেন্ট করে দল গড়েছে। র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়ার কারণেই দলে নেই জাভেদ খৈ খৈরা।
কমনওলেথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের দল নিয়ে জাভেদ বলেন, ‘ফেডারেশন এই টুর্নামেন্টের জন্য সিলেকশন খেলতে বলেছিল। আমরা বলেছিলাম সিলেকশনের পরিবর্তে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দল গড়া হোক। তারা আমাদের অনুরোধ গ্রহণ করেনি, সিলেকশনের মাধ্যমেই দল গড়েছে। সিলেকশনে শীর্ষ কোনও খেলোয়াড়ই অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়েই কমনওয়েলথ টিটিতে দল যাচ্ছে।’
টেবিল টেনিসে নারী ইভেন্টে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম মৌ। তিনি র্যাঙ্কিং ও সিলেকশনের যৌক্তিকতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা সিলেকশন খেলে থাকি কোনও গেমসের সময়, যেমন ইসলামিক গেমসে যাওয়ার আগে খেলেছিলাম। যেগুলো টিটির সাধারণ টুর্নামেন্ট, সেগুলোর ক্ষেত্রে র্যাঙ্কিং প্রাধান্য পাওয়া উচিত। একজন খেলোয়াড় লীগ, টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়ে শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী হয়ে থাকে। সেখানে যদি র্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্ব না থাকে তাহলে আর র্যাঙ্কিং করে লাভ কী। আমাদের চাওয়া ছিল এই টুর্নামেন্টে র্যাঙ্কিংয়ের প্রাধান্যই হোক।’ গত বছর নেপালে বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টের সময় এই সিলেকশন ও র্যাঙ্কিং দ্বন্দ্বে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশন। পরবর্তীতে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতেই দল পাঠালেও খুবই বাজে ফলাফল করে বাংলাদেশ। এরপর ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে সিলেকশনের মাধ্যমেই দল নির্বাচন হয়।
আসন্ন কমনওলেয়থ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে আবার সেই সিলেকশন-র্যাঙ্কিং সমস্যা সামনে এসেছে। এ নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, ‘কয়েকজন আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা সিলেকশনে অংশগ্রহণ করবে না। চার-পাঁচ দিন সিলেকশন হয়েছে, আমরা আশা করছিলাম এরপরও তারা আসবে, শেষ পর্যন্ত আসেনি। ফেডারেশন একটা নীতি বা পন্থা নির্ধারণ করেছে, খেলোয়াড়দের সেটা অনুসরণ করা উচিত। তারা যদি আসত তাহলে তারাই সিলেক্টেড হতো। আমাদের সিস্টেমের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তারা এক প্রকার বিদ্রোহই করেছে, এরপরও আমরা অলিম্পিক, এনএসসি বা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানায়নি। কারণ তারা আমাদেরই সন্তান।’ সিলেকশন প্রক্রিয়ায় সকল খেলোয়াড় একে অন্যের সঙ্গে খেলে।
এরপর শীর্ষস্থান নির্ধারণ হয়। এতে অনেক গেম খেলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের যেমন সুযোগ থাকে, আবার একজন টানা কয়েক গেম জেতার পর চাইলে অন্য কাউকে ছাড় দিয়ে তাকেও পজিশন দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবার সিলেকশন প্রক্রিয়ায় ছেলেদের বিভাগে সাব্বির, মাসুদ রানা পরাগ, সাকিব, সাগর আলী এবং মহিলা বিভাগে বৈশাখী, অনিকা, আসমা, রাফিয়া, লক্ষী ২৭শে জুলাই-২রা আগস্ট দিল্লিতে কমনওয়েলথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সিনিয়র দল তো নয়-ই, অনেকে জুনিয়র জাতীয় দলেও খেলেননি। এমন দল নিয়ে কমনওয়েলথ টিটিতে ভালো করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়।
