আজ ১লা জুন, রাষ্ট্রীয় স্মৃতির ভেতরে এক দীর্ঘ নীরবতার নাম। প্রায় ৪৫ বছর আগে, ১৯৮১ সালের এই দিনে, এই স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সিপাহসালার, ৮ নম্বর সেক্টরের বীরত্বপূর্ণ কমান্ডার এবং বীর-উত্তম মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনানিবাসে স্থানান্তরের পর ‘উপরের নির্দেশ’-এর অদৃশ্য অথচ সুসংগঠিত ছায়ার আড়ালে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ও জটিল রাজনৈতিক-সামরিক সংকটের ভেতরে নির্মিত, যার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীর সেনানি, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার ও বীর-উত্তম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, ঐতিহাসিক সত্য এবং দায় নির্ধারণের প্রশ্ন এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক নৈতিক প্রশ্নও উপেক্ষা করা যায় না কোনো অভিযুক্ত সেক্টর কমান্ডার ও বীর- উত্তমকে কি যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে? কারণ একটি সভ্য রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি কেবল অপরাধের বিচারেই নয়; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্যও আইনের ন্যূনতম নিশ্চয়তা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং বিচারিক শুনানির অধিকার রক্ষার মধ্যেও নিহিত।
আজ আপনার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি এই চিঠি লিখছি কোনো আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে নয়; বরং একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘ নৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে।
এটি এক নাগরিকের অপরাধবোধের দলিল- যে রাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য আপনি নিশ্চিত জীবন উপেক্ষা করেছিলেন, মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছিলেন, অসম সাহসিকতায় যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং একটি জাতির স্বাধীনতায় আপনার অনন্য অবদান রেখেছিলেন, সেই রাষ্ট্রই আপনাকে রক্ষা করতে পারেনি; বরং আপনার মৃত্যু সম্পর্কে সত্য বলার নৈতিক সাহসও অর্জন করতে পারেনি।
আপনার মৃত্যু কেবল একজন মানুষের হত্যাকাণ্ড ছিল না; এটি ছিল এই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের ধারণাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। নায়েক, সুবেদার কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্যে ঘুরে ফিরে আসা শব্দগুলো- ‘ওপরের নির্দেশ’, ‘বিশেষ অভিযান’, ‘সুবিধামতো স্থান’- আসলে কোনো প্রশাসনিক শব্দ ছিল না; এগুলো ছিল রাষ্ট্রীয় অপরাধের সাংকেতিক ব্যাকরণ।
আপনার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কীভাবে নিজের স্বার্থে আইন, ন্যায়বিচার এবং সত্যকে বিকৃত করতে পারে- তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত।
সেদিন শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেই হত্যা করা হয়নি; হত্যা করা হয়েছিল রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার ধারণাকেও।
সবচেয়ে ভয়াবহ সত্য হলো- আপনাকে হত্যা করার পরও রাষ্ট্র সেই অপরাধের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করার নৈতিক সততা দেখায়নি। বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ‘উচ্ছৃঙ্খল সৈনিকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অথচ বিভিন্ন সাক্ষ্য, বর্ণনা ও পরবর্তী বিবরণ থেকে যে নির্মম বাস্তবতা উঠে আসে, তা আরও ভয়াবহ। চোখ বাঁধা, হাত বাঁধা এক মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল বারবার শুধু একটি সুযোগ চেয়েছিলেন- নিজেকে ব্যাখ্যা করার, বিচারের মুখোমুখি হওয়ার, জাতির সামনে সত্য বলার। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। সামরিক হেফাজতে থাকা অবস্থায় সেনানিবাসের ভেতরেই তাকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্র তাকে আদালতে দাঁড় করায়নি; বরং নীরবতার অন্ধকারে সরিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ সত্য হলো- দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে এটি কেবল একজন জেনারেলের হত্যাই নয়; বরং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের দীর্ঘ স্থগিতাবস্থার এক নির্মম প্রতীক হয়ে আছে।
পরবর্তী বর্ণনাগুলো আরও শীতল ও ভয়াবহ। সেনানিবাসের সেই ‘সুবিধামতো স্থান’-এ পড়ে ছিল এক মুক্তিযোদ্ধা জেনারেলের ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ- যেন রাষ্ট্র নিজেই তার এক বীর সন্তানকে অস্বীকার করার নির্মম সাক্ষ্য রেখে গেছে।
অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- সেখানে কোনো আকস্মিকতা ছিল না; ছিল পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, নীরব সমন্বয় এবং দায়হীন ক্ষমতার ঠান্ডা নির্মমতা।
যে সেনানিবাস একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বীর-উত্তমের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল, সেই সেনানিবাসই আপনার জীবনের শেষ গন্তব্যে পরিণত হলো।
কারণ ইতিহাসে বহু হত্যাকাণ্ড বন্দুকের গুলিতে যতটা সংঘটিত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি সংঘটিত হয়েছে ভাষার আড়ালে। ক্ষমতা যখন নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থাপন করে, তখন হত্যা আর হত্যা নামে পরিচিত থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে ‘অভিযান’, ‘নির্দেশ পালন’, কিংবা ‘সুবিধামতো স্থানে স্থানান্তর’।
একটি সভ্য রাষ্ট্রে ভাষা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু ক্ষমতার অন্ধকারে ভাষাই কখনো কখনো হত্যার আড়াল হয়ে ওঠে।
‘সুবিধামতো স্থান’- এই দুটি শব্দ কেবল একটি জায়গাকে নির্দেশ করেনি; এটি নির্দেশ করেছিল এমন এক রাষ্ট্রীয় মানসিকতাকে, যেখানে আইন নয়, নির্দেশই চূড়ান্ত; বিচার নয়, আনুগত্যই সর্বোচ্চ নৈতিকতা।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পরবর্তীতে এই সুসংগঠিত হত্যাকাণ্ডকে ‘উচ্ছৃঙ্খল সৈনিকদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অথচ ইতিহাস সাক্ষী- সেখানে কোনো উত্তেজিত জনতা ছিল না; ছিল পরিকল্পনা, ছিল নীরব সমন্বয়, ছিল দায়িত্ববোধহীন ক্ষমতার ঠান্ডা যন্ত্র।
যে সেনানিবাস হওয়া উচিত ছিল আপনার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জই হয়ে উঠলো আপনার জীবনের শেষ ‘সুবিধামতো স্থান’।
আপনি যে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, সেই দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আপনাকে রক্ষা তো করেইনি; উল্টো গত ৪৫ বছর ধরে আপনার রক্তকে রাজনৈতিক দরকষাকষির উপকরণে পরিণত করেছে।
আপনার হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ বিচারহীন মামলা নয়; এটি বাংলাদেশের ক্ষমতার কাঠামোর এক গভীর নৈতিক প্রতিচ্ছবি।
প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতার বাইরে থাকতে আপনাকে ‘নির্যাতিত বীর’ বানিয়েছে, আর ক্ষমতায় গিয়ে ‘রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা’, ‘সমঝোতা’ কিংবা ‘প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য’-এর নামে সত্যকে সমাধিস্থ করেছে।
মামলার রায় ঘোষণার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক পরিবর্তন, প্রভাবশালীদের অদৃশ্য সুরক্ষা এবং আইনি জটিলতার অন্তহীন চক্র প্রমাণ করে- রাষ্ট্র আপনাকে বিচার দিতে চায়নি; রাষ্ট্র আপনাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে, কখনো ক্ষমতার অলিখিত চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য, কখনো বা সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের নীরব ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যাগুলো সরাসরি মিথ্যা নয়; বরং ‘আংশিক সত্য’।
রাষ্ট্র ঠিক সেটাই করেছে- আপনাকে স্মরণ করেছে, কিন্তু সত্য বলেনি; আপনাকে সম্মান দিয়েছে, কিন্তু সুবিচার দেয়নি; আপনাকে বীর বলেছে, কিন্তু আপনার হত্যাকারীদের রাজনৈতিক নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে।
একজন সাধারণ মানুষের কাছে ইতিহাস হয়তো কিছু কাগুজে তথ্য মাত্র।
কিন্তু আপনার সন্তানদের কাছে আপনি কোনো ইতিহাস নন; আপনি ছিলেন আশ্রয়, নিরাপত্তা, অস্তিত্বের কেন্দ্র।
গত ৪৫ বছর ধরে প্রতি ১লা জুনে তারা যখন শূন্যতার সামনে দাঁড়ায়, তখন তারা কেবল একজন পিতাকে স্মরণ করে না; তারা রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে একটি অব্যক্ত কিন্তু অবিচল প্রশ্ন ছুড়ে দেয়-
‘যে রাষ্ট্রের জন্য আমার বাবা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই রাষ্ট্র আমার বাবাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলো কেন?’
এই প্রশ্নের পরও তাদের ভেতরে আরও একটি নীরব, অধিকতর ভারী প্রশ্ন রয়ে যায়- এই রাষ্ট্রে কি ন্যূনতম সেই অধিকারটুকুও আমাদের প্রাপ্য নয়, যেখানে আমাদের পিতার হত্যার বিচার অন্তত ইতিহাসের কাছে স্বীকৃত সত্য হয়ে দাঁড়াবে?
এই প্রশ্ন কোনো ক্ষণিক আবেগ নয়; এটি এক দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতির নাম, যা সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না; বরং আরও গভীরভাবে রাষ্ট্রের নীরবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দেয়নি।
কোনো সরকার না। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান না। কোনো প্রতিষ্ঠান না।
কারণ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়- রাষ্ট্রের ক্ষমতার নৈতিক ভিত্তিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয়।
নির্মম বাস্তবতা হলো, এই রাষ্ট্রে আপনার মতো একজন সূর্যসন্তানের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিকে ঘিরে কোনো সুসংগঠিত জাতীয় অনুশোচনা গড়ে ওঠেনি; তৈরি হয়নি কোনো দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক আন্দোলন বা রাষ্ট্রীয় আত্মসমালোচনার ধারা। আপনার ঐতিহাসিক অবদানও রাষ্ট্রীয় স্মৃতিচর্চার মূলধারায় যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা হলো- আপনার জন্মবার্ষিকী কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী কোনো দিনই জাতীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়নি; এমনকি রাষ্ট্রীয় স্মৃতির কাঠামোতেও আপনার নাম সেই অর্থে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে আপনি ইতিহাসে উপস্থিত থেকেও রাষ্ট্রীয় স্মৃতিতে এক ধরনের নীরব অনুপস্থিতি হয়ে রয়ে গেছেন।
আমরা এমন এক জাতিতে পরিণত হয়েছি, যারা শহীদদের স্মৃতি ভালোবাসে- কিন্তু তাদের রক্তের দায় বহন করতে চায় না।
একটি দেশ কেবল মানচিত্র, পতাকা কিংবা জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মহান হয় না।
রাষ্ট্র মহান হয় তখন, যখন সে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।
সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশ আজও ব্যর্থ- এবং এই ব্যর্থতা কেবল বিচার বিভাগের নয়; এটি আমাদের সমষ্টিগত নৈতিক পরাজয়।
তবুও ইতিহাসের একটি অলিখিত নিয়ম আছে- ক্ষমতা সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু সত্যকে নয়। ন্যায়বিচার দীর্ঘদিন নির্বাক থাকতে পারে, কিন্তু বিলুপ্ত হয় না। রাষ্ট্র তার নথি পরিবর্তন করতে পারে, সাক্ষ্য গায়েব করতে পারে, বিচার বিলম্বিত করতে পারে; কিন্তু রক্তের স্মৃতি মুছে ফেলতে পারে না।
কারণ কিছু মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; কিছু মৃত্যু একটি রাষ্ট্রের বিবেকের বিরুদ্ধে লেখা স্থায়ী অভিযোগপত্র।
আপনার প্রতি আমাদের ঋণ কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণের নয়; এটি বকেয়া ন্যায়বিচারের ঋণ।
জেনারেল মঞ্জুরের হত্যাকাণ্ড এবং এর বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার রাজনীতি যখন সত্যকে গ্রাস করতে চায়, তখন রাষ্ট্রের বিবেকও কীভাবে নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
তবু ইতিহাস সম্পূর্ণ নীরব থাকে না। ন্যায়বিচারের বিলম্ব তার আবেদন মুছে দিতে পারে না- তা কেবল তাকে আরও গভীর ও অনিবার্য করে তোলে।
মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর-উত্তম, রাষ্ট্রের দীর্ঘ নীরবতা এবং আমাদের অনুচ্চারিত দায়ভার আপনি ক্ষমা করবেন- এই নীরবতার ভেতর দিয়েই আমরা আপনাকে স্মরণ করি, এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষাকে বহন করি।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]
