স্বপ্নভঙ্গ আর্সেনালের, টানা দ্বিতীয় শিরোপা পিএসজি’র

স্বপ্নভঙ্গ আর্সেনালের, টানা দ্বিতীয় শিরোপা পিএসজি’র

ফন্ট সাইজ:

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষ হলো ১-১ সমতায়। পেনাল্টি শুটআউটে তখন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) এগিয়ে ৪-৩ গোলে। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী, শেষ শটটি নিতে আসলেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। ম্যাচে থাকতে হলে জাল খুঁজে নিতেই হবে। তবে নার্ভ ধরে রাখতে পারলেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। স্পটকিক থেকে বল মারলেন গোলপোস্টের উপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালো ফরাসি জায়ান্টরা। ১৯৯২তে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নামকরণের পর রিয়াল মাদ্রিদের পর স্রেফ দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখলো তারা। ম্যাচের শুরুতে কাই হাভার্টজের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। তবে বিরতির পর পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে ম্যাচে ফেরে পিএসজি।

সংখ্যায় সংখ্যায় চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল
৭৫.৩%: চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই কোনো দলের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড।
২৪.৭%: রেকর্ড শুরু হওয়ার পর ফাইনালে যেকোনো দলের মধ্যে আর্সেনালের এই বল দখলের গড় সর্বনিম্ন।
৪৫: পিএসজির এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (বার্সেলোনার সমান)

রেকর্ড বুক কাঁপানো পিএসজির ‘অবিশ্বাস্য’ পরিসংখ্যান
ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে মুকুট রক্ষা: রিয়াল মাদ্রিদের (২০১৬-২০১৮) পর এই শতাব্দীতে দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লীগ ধরে রাখার কীর্তি গড়লো পিএসজি। একইসঙ্গে, প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ইউরোপের মঞ্চে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস লিখলো তারা।

আধুনিক যুগের প্রথম: চ্যাম্পিয়নস লীগ যুগে পিএসজিই প্রথম দল, যারা টানা দুই মৌসুমে নিজেদের ঘরোয়া লীগ এবং চ্যাম্পিয়নস লীগ্তদুটি শিরোপাই একসঙ্গে ধরে রাখতে পারলো। ইউরোপিয়ান কাপের আমলে রিয়াল মাদ্রিদ ও আয়াক্স এই কীর্তি গড়ে।

৮ ট্রফির মহোৎসব: গত মৌসুমের পর থেকে এটি পিএসজির শোকেসে ওঠা অষ্টম ট্রফি।
এনরিকের চেনা ছক: কোচ লুইস এনরিকে গত মৌসুমের ফাইনালের ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কেই এবারও শুরুর একাদশে রাখেন। এর আগে কেবল ২০১৭ ও ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ এই দুঃসাহস দেখায়।

সেভহীন চ্যাম্পিয়ন গোলকিপার: পিএসজি গোলকিপার সাফোনভ পুরো ম্যাচ কিংবা টাইব্রেকারে একটি সেভও না করেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ার এক অদ্ভুত স্বাদ পেলেন।
লুইস এনরিকের ‘এলিট’ ক্লাব: জিনেদিন জিদানের পর প্রথম কোচ হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতলেন লুইস এনরিকে। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা। বব পেসলি, জিদান ও গার্দিওলার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এখন তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। ৫টি ট্রফি নিয়ে সবার ওপরে কার্লো আনচেলত্তি।

আর্সেনালের ট্র্যাজেডি ও প্রাপ্তি
এক দশক পর টাইব্রেকার ও ইংলিশ ট্র্যাজেডি: ২০১৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে টাইব্রেকার দেখলো ফুটবল বিশ্ব। এবং ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে আর্সেনালই প্রথম ইংলিশ ক্লাব, যারা কোনো বিদেশী দলের কাছে টাইব্রেকারে শিরোপার স্বপ্ন বিসর্জন দিলো।

কাই হাভার্টজের অনন্য কীর্তি: চেলসির পর এবার আর্সেনালের হয়ে ফাইনালে গোল করলেন হাভার্টজ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও মারিও মানজুকিচের পর মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন দলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়লেন এই জার্মান তারকা।

ব্যস্ততম মৌসুম ও প্রতিরোধ: গত ৪৬ বছরের মধ্যে এটি ছিল গানারদের সবচেয়ে ব্যস্ততম মৌসুম (সব মিলিয়ে ৬৩টি ম্যাচ)। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র ৪২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের জন্য ম্যাচে পিছিয়ে ছিলো, যা যেকোনো দলের চেয়ে কম। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ হাসিটা হাসতে পারলো না তারা।

তরুণ তুর্কি: ১৯ বছর ২৪৬ দিন বয়সে আর্সেনালের হয়ে ফাইনালে খেলতে নামেন মাইলস লুইস-স্কেলি। ফলে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের (১৯ বছর ২৩১ দিন) পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন এ তরুণ তারকা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন