খুলনায় একই বাসা থেকে নানি ও তার দুই নাতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার তমিজ উদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লায় ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-নানি বেবি (৫৫), নাতি মুস্তাকিম (৪) ও শামিম (১৩)। নিহত দুই সন্তানের মা ফাতেমা বেগম মেরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাতেমা বেগম জানান, তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল তার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতো না। গত শুক্রবার রাতে সে বাড়িতে আসে। এরপর সারারাত তার সঙ্গে থাকেন। এরপর সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। এরপর সে তার মা ও দুই সন্তানকে না দেখে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিকালে পাশের রুম থেকে গন্ধ আসলে সবাইকে জানায়।
এদিকে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত নিয়েছে। মরদেহ তিনটির সুরতহাল শেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ, চার বছর পূর্বে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর (৪৫) বিয়ে হয়। তিনি নগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের কাশেম বেপারীর ছেলে। মাসুম বেপারীর সঙ্গে ফাতেমা বেগমের ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর তাদের সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। এর ভেতরে আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাতেমার। সেও প্রায় ফাতেমা বেগমের মায়ের বাসায় এসে থাকতো।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দু’টি শিশু মিুস্তাকিম ও শামিম এবং তাদের নানি বেবী বেগম-এর মরদেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুসন্তান দু’টির মা ফাতেমা বেগমকে (৩৫) হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার দেয়া তথ্যমতে, দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল-এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
