নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষ হলো ১-১ সমতায়। পেনাল্টি শুটআউটে তখন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) এগিয়ে ৪-৩ গোলে। শেষ শটটি নিতে আসলেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। ম্যাচে থাকতে হলে জাল খুঁজে নিতেই হবে। তবে নার্ভ ধরে রাখতে পারলেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। স্পটকিক থেকে বল মারলেন গোলপোস্টের উপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালো ফরাসি জায়ান্টরা। ১৯৯২তে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নামকরণের পর রিয়াল মাদ্রিদের পর স্রেফ দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখলো তারা।
গত সপ্তাহেই দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে আর্সেনাল। তবে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় লীগ ও ইউরোপিয়ান ডাবল জয়ের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক টাইব্রেকারের লটারিতে। অথচ ২০ বছর পর ফাইনালে ওঠা মিকেল আর্তেতার আর্সেনালের শুরুটা হয় স্বপ্নের মতো।
ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের পাস থেকে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে পিএসজির জাল কাঁপান কাই হাভার্টজ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধ জুড়েই রক্ষণাত্মক মাস্টারক্লাস দেখায় গানাররা। বিশেষ করে গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও উইলিয়াম সালিবার রক্ষণভাগ পিএসজির আক্রমণগুলোকে একের পর এক নসাৎ করে দিতে থাকে।
তবে বিরতির পর দৃশ্যপট বদলায়। ৭৫ শতাংশ বলের দখল রাখা পিএসজি আক্রমণের ধার বাড়ায়। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে চোটাক্রান্ত বেন হোয়াইটের জায়গায় খেলা ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা ডি-বক্সের ভেতর খিচা কাভারেৎস্কেলিয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে আর্সেনাল ভক্তদের প্রথমে হতাশ করেন এবেরেচি এজে। তবে ইংলিশ জায়ান্টদের গোলকিপার দাভিদ রায়া নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখেন। তবে শেষ রোমাঞ্চে আর্সেনালের পঞ্চম ও শেষ শটটি নিতে এসে আকাশে উড়িয়ে মারেন পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ডিফেন্ডার মাগালায়েস। আর তাতেই ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বুনো উল্লাসে মাতে প্যারিসের ক্লাবটি। ফলে ঐতিহাসিক এক ইউরোপিয়ান ট্রফির খুব কাছে গিয়েও গানারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।
