ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে: চিফ প্রসিকিউটর

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আমাদের বলা হয়েছেÑ আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশা করছি বিচার বিচারের মতোই চলবে। সরকার আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি, স্বাভাবিক গতিতেই সব কর্মকাণ্ড চলমান রাখবো। আর এটাই ন্যায়বিচারের দাবি। আমরা এখানে থাকি কিংবা না থাকি সেটা বড় কথা নয়। বিচার চলমান থাকবে অবশ্যই। সরকার সে ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন বলেই আমরা মনে করছি।


শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সাজা কার্যকর করতে হবে: আখতার
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি জানান। আখতার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ তিনটি মামলার রায় হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে একটি মামলায় দণ্ডিত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাই দণ্ডিত যারাই বিদেশে পলাতক রয়েছেন, সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। এটা তাদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালের দু’টি মামলার সাক্ষী। আমিও সাক্ষ্য দেবো। কবে নাগাদ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে তা জানতে আজ এখানে এসেছি। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখেছি। তিনি আরও বলেন, আপনারা দণ্ডিত সব আসামির সাজা কার্যকর করবেন। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যেক মামলায় পলাতকদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনবেন। আশা করি ট্রাইব্যুনালের বিচারের গতি মন্থর হবে না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে বিএনপি’র শপথ না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শপথ না নেয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, যে সংস্কার বিএনপি’র পক্ষে আসবে তারা কেবল সেটাই করবে। তারা শুরু থেকেই সংস্কারের বিপক্ষে ছিল। জনচাপে পড়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা করেছে। তবে তারা নিজেরাই যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনাটা আমরা ব্যর্থতা মনে করি। এই ব্যর্থতা বিএনপি সরকারকে দূর করতে হবে।
কামরুল ও মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২রা মার্চ: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ২রা মার্চ। গতকাল বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানির এই দিন ধার্য করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন