প্রতিবারের মতো এবারো জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। তবে ঝড়-বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে ঈদের প্রধান জামাত। সোমবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ঈদগাহের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ এই জামাতে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের পথ থাকবে চারটি, বের হওয়ার পথ থাকবে সাতটি। পাশেই অজুখানা রাখা হয়েছে, যেখানে ১৪০ জন করে একসঙ্গে অজু করতে পারবেন। জাতীয় ঈদগাহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টয়লেটও রয়েছে। প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে। আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সুশৃঙ্খলভাবে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করি।
বঙ্গভবনে সংবর্ধনার আয়োজন: এদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৮শে মে বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম বাসসকে জানান, ঈদের দিন সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের দরবার হলে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন। সংবর্ধনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, বিচারপতি, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিক এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।
রাতের মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঈদের দিন দুপুর দেড়টায় কলাবাগানে বর্জ্যরে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। পরের ৮ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ করা হবে। প্রশাসক বলেন, আমাদের লক্ষ্যÑ তিন দিনে প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণ করা। প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১১ হাজার ৭৭৬ টন এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ৬ হাজার ২৩১ টন বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল নিয়োজিত থাকবে। সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, আসুন আমরা বদলাই, তাহলে ঢাকা বদলাবে। ‘ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি’ আমরা করতে পারবো।
