শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়

সরজমিন

শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়

ফন্ট সাইজ:

জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো। শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। তবে হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ক্রেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রায় ব্যয়বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট সীমিত করতে হয়েছে তাদের। তারা অভিযোগ করছেন, এবার বিক্রেতারা দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন। বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দাম বেশি চাচ্ছেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সাধারণত শেষের তিনদিন পশু ক্রয় করে ক্রেতারা। এতদিন ক্রেতারা বাজার কেমন তা যাচাই-বাছাই করেছেন। এখন ক্রয় করা শুরু করেছেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুর ও কাজলা ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা ট্রাকে করে গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে এসেছেন। হাটগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ অনেকে আবার পশু রাখার জায়গা না পেয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। পরবর্তীতে হাট কমিটির পক্ষ থেকে বাঁশের সরবরাহ করে পশুগুলো রাখার ব্যবস্থা করা হয়। হাটকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতা, খামারি, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যস্ততা। কেউ গরুর গায়ে হাত বুলাচ্ছেন আবার কেউ মাথায়। ক্রেতা-বিক্রেতারা ছিল দরকষাকষিতে ব্যস্ত। তবে থাকার জায়গা না পাওয়ায় পশুগুলোর পাশেই খড়ের বস্তার উপর বিশ্রাম নিতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। তারা নিজেদের মতো করে বাঁশ ও নানা রঙের ত্রিপল দিয়ে শেড তৈরি করে গরুগুলোকে ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছেন। ইজারাদার কর্তৃপক্ষ থেকে বসানো হয়েছে পশুর চিকিৎসকদের ক্যাম্প, টয়লেট, সিসি ক্যামেরা ও পানির ব্যবস্থা। এবারের ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ও ঝোঁক এখন মাঝারি আকারের গরুর দিকে, বড় গরুর কম ক্রেতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাজেটের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পশুর আকার আকৃতি ও ওজন অনুযায়ী ছোট বড় মাঝারি আকারের গরু সর্বনিম্ন দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং বড় গরুর সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির পাশে ঝিনাইদহ থেকে গরু নিয়ে এসেছেন আবুল বাশার। তিনি বলেন, গতকাল গরু নিয়ে এসেছিলাম, প্রথমে বাঁধার কোনো স্থান পাইনি। পরে হাট কমিটির পক্ষ থেকে বাঁশের ব্যবস্থা করা হয়। এবারে গো-খাদ্যের দাম বেশি পাশাপাশি ট্রাকভাড়াও বেশি তাই পশুর দাম কিছুটা বাড়তি। দু’টো গরু বিক্রি করেছি ১ লাখ ২০ আর ৯৫ হাজার টাকায়।
আরেক বিক্রেতা টিপু বলেন, আগে ধনাঢ্য মানুষরা প্রতিযোগিতা করে বড় বড় গরু কিনতেন। বিগত কয়েক বছর ধরে এ প্রতিযোগিতা কমেছে। মানুষ এখন একটু ছোট গরুতেই ঝুঁকছে। আমার এখানে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত গরু রয়েছে। এর মধ্যে অধিকংশই দেশি এ ছাড়া শাহীওয়াল ও সিন্ধি জাতের গরু রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১টি গরু বিক্রি করেছি। সবাই দরকষাকষি করছেন কিন্তু গো-খাদ্য ও ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতো কষ্ট করে যদি দু-টাকা লাভ না করতে পারি তাহলে কীভাবে সংসার চলবে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু মানবজমিনকে বলেন, হাটের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পশুর গাড়িগুলো যেন নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেউ যেন প্রতারিত না হন সে জন্য জালটাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী বা পকেটমারদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিক্রেতাদের পশু বিক্রির টাকা হাট এলাকায় থাকা অস্থায়ী ব্যাংকে জমা দেয়ার এবং ক্রেতাদের টাকা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্রেতা বিক্রেতাদের আমরা সবাইকে সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন