শিশু রামিসাসহ সারা দেশে সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, মব-সন্ত্রাস এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
গতকাল সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ হয়। এতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেÑ সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী ও শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্থানসহ সব জায়গায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ সাধারণ সম্পাদক রিফতি আল জাবেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেনÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশী কবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেলা ছাত্রকল্যাণের সভাপতি আনোয়ার মঞ্জু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার মীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাইফ জাওয়াদ জিসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমির হামযা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিষদ সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান দিমন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মুহুরী শারদ। এ ছাড়াও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জামাল, টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তনু থেকে নুসরাত, আছিয়া থেকে রামিসা, তানিয়া থেকে চিংমা- নাম বদলালেও বাংলাদেশের নারীদের প্রতি সহিংসতার চিত্র বদলায়নি। বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বক্তারা সোহাগী জাহান তনু, নুসরাত জাহান রাফি, শিশু আছিয়া, শিশু রামিসা, নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া এবং চিংমা খিয়াংয়ের মতো আলোচিত ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও সামাজিক নীরবতা নতুন অপরাধ সংঘটনের পথ তৈরি করছে। তারা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতেও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
