বেঁচে আছে, তবু হত্যার অভিযোগে মামলা

সহযোগীদের খবর

বেঁচে আছে, তবু হত্যার অভিযোগে মামলা

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

‘বেঁচে আছে, তবু হত্যার অভিযোগে মামলা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল চলাকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে এক নারী মামলা করেন। পরে তার স্বামী থানায় এসে হাজির হয়ে জানান, তার অজান্তে স্ত্রী তাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা করেছেন। ঘটনাটি ঢাকার আশুলিয়ার। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর কুলসুম বেগম (২১) নামের ঐ নারী তার স্বামীকে হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ৮ নভেম্বর ঢাকার আশুলিয়া থানায় তা এজাহারভুক্ত হয়।

কুলসুম বেগম এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৫ আগস্ট সকালে তার স্বামী মো. আল আমিন মিয়া (৩৪) মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিকাল ৪টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বিজয়মিছিলে তিনিও ছিলেন। তবে পরাজয় মেনে না নিতে পেরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বিচার গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার স্বামী নিহত হন।

বাদী কুলসুম বেগম আরো বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করে তিনি স্বামীর সন্ধান পাননি। পরে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ৬ আগস্টের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন, এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা লাশ দাফন করেছে। এসব কাগজপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আছে। পরে তিনি হাসপাতালে থাকা কাগজপত্র, ছবি ও ভিডিও দেখে তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। আল আমিন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুরের বাসিন্দা। মামলা দায়েরের প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি জানতে পারেন, তাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে স্ত্রী মামলা করেছেন। মামলা থেকে আসামির নাম প্রত্যাহার করার কথা বলে নাকি তার স্ত্রী লোকজনের কাছ থেকে টাকাপয়সাও নিচ্ছেন। আল আমিন তখন মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলায় ছিলেন। বিষয়টির সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে তিনি জুড়ী থানায় যোগাযোগ করেন।

আল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, তার ভাইকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভাবি যে মামলা করেছেন সেটি জানতে পেরে তারা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশের পরামর্শে তার ভাই আশুলিয়া থানায় যান। আল আমিন জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে মেকানিকের কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রীসহ জুড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে। ৫ আগস্ট সে (স্ত্রী) আমার সঙ্গে সিলেটেই ছিল। এর তিন-চার দিন পর ঝগড়া করে মানিকগঞ্জে বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর আর তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। পরে জানতে পারি, আমি ৫ তারিখের (৫ আগস্ট) আন্দোলনে মারা গেছি উল্লেখ করে সে একটা মামলা করছে। ঐ মামলার একজন আসামি আমাকে ফোন দিয়া ঘটনাটি জানায়। এরপরই আমি পুলিশের কাছে যাই। অবশেষে পুলিশ এই মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আমি একটা ঘটনা জানলাম, কেরানীগঞ্জে ১২ বছরের এক কিশোর মারা গেছে বলে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসলে ঐ কিশোর মারা যায়নি। তার পরিবারকে বলা হয়েছে, পালিয়ে থাকতে। ছেলেকে নিয়ে তার বাবা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমন বহু ঘটনা আছে।

একইভাবে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া এলাকার দুলাল হোসেন ওরফে সেলিম (৪৮) নামের এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় তার বড় ভাই মোস্তফা কামাল যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। এছাড়া ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান কামাল, শামীম ওসমানসহ ৪১ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে। অথচ এই সেলিম কখনো ঢাকায় আসেননি। এমন মামলার কথা জানার পর তিনি ফুলবাড়িয়া থানায় হাজির হন। জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কা থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম মো. সেলিম উল্লেখ থাকলেও এজাহারে বলা হয়েছে তার নাম দুলাল হোসেন ওরফে সেলিম। যদিও এলাকার লোকজন তাকে সোলায়মান সেলিম নামেই চেনেন। সেলিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তার সন্দেহ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ভাই সাজানো হত্যা মামলা দিয়ে থাকতে পারে।

এ হত্যা মামলার বাদীর পাশাপাশি যে দুই জন সাক্ষী তারাও সেলিমের আপন ভাই হেলাল উদ্দিন ও আবুল হোসেন। তিন ভাইয়ের সঙ্গে সেলিমের ১৫০ শতাংশ জমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেলিম বলেন, তাদের সঙ্গে এই বিরোধ অনেক দিনের। মূলত আমারে মারার জন্যই এই মামলা করছে, জুলাই আন্দোলন উছিলা করে। এর মধ্যে আমারে মারতে পারলে এই মামলায় যারা আসামি তারা বিনা কারণে জেল খাটতো। এখন পর্যন্ত পাঁচ বার ঢাকায় এসে তিনি আদালত, থানা ও ডিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করেছেন।

শুধু হত্যা মামলা নয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলায়ও ‘বাণিজ্যে’র অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগের দিন অর্থাত্ ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গুলিবিদ্ধ হন মো. জহুর আলী। ঘটনার এক মাস পর তার বড় ভাই হাফিজ আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় আসামি ধরা ও ছাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গুলিবিদ্ধ জহুর আলী। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি বলেন, পুলিশ আমারে গুলি করছে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করব। কিন্তু পরে দেখি মাসুম হেলাল সবাইরে মামলায় ঢুকাইয়া দিছে। এই মামলা নিয়া এখন ব্যবসা শুরু হইছে। সে (মাসুম হেলাল) কোটি টাকা নিছে। শুনছি সে এখন ক্যানাডা চইলা যাইব। টাকা নিয়ে জেলে ঢুকায়, বের করে। লোকজন বলে, আমরা টাকা নিচ্ছি। এটা মিথ্যা। আমরা কোনো টাকা পাই নাই। আমরা গরিব মানুষ। এখন আমরা পড়ছি মহাবিপদে।

এ ধরনের ভুয়া মামলা নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন ইত্তেফাককে বলেন, জুলাই-আগস্টের মতো ঘটনাকে ম্লান করার একটা প্রচেষ্টা যখন একটা জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে মামলা করা হয়। একজন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তারই আত্মীয়স্বজন মামলা করছেন, এটি কল্পনার বাইরে। এটি সরাসরি জুলাই-আগস্টের শহিদদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী এলিনা খান ইত্তেফাককে বলেন, আন্দোলনের সময়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। কিন্তু ভুয়া মামলার কারণে সেই বিচারের পথও দুর্বল হয়ে যায়। প্রতিটি মামলার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। আমার মনে হয়, খুঁজে বের করতে হবে এখানে কারা কারা সত্যিকারের আসামি। যেমন দেশেই ছিল না তাদেরকেও এখানে জড়ানো হয়েছে। সেই জায়গাগুলোকে যদি বাছ করে তাহলে খুব দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি হবে এবং যারা হয়রানির শিকার হচ্ছে তারাও এর থেকে নিষ্কৃতি পাবে। যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরও বিচার করা উচিত।

প্রথম আলো

‘ঈদযাত্রায় ঝুঁকি ৯৪টি স্থানে, বৃষ্টি–দুর্ঘটনায় দুর্ভোগের শঙ্কা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদ উদ্‌যাপনে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। তবে এখনো মূল চাপ বাকি আছে। রেল ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘরমুখী মানুষের মূল ভিড় হবে আগামী সোম থেকে বুধবার—এই তিন দিন। একদিকে ঢাকা থেকে মানুষ ছুটবে বাড়ির পথে আর ঢাকার পথে আসতে থাকবে কোরবানির পশু।

এবার দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভালো বলা যায়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-উত্তরবঙ্গের পথে জটের আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের ৯৪টি স্থান চিহ্নিত করেছে, যেসব স্থানে যানজট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বড় সেতুর বেশ কিছু টোল প্লাজা, মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাজার এলাকা রয়েছে। ফলে শেষ তিন দিনের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হবে কি না, তা ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ঈদের আগের তিন-চার দিনে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। কিন্তু বাস, ট্রেন, লঞ্চ, মোটরসাইকেলসহ সব মিলিয়ে ২২ লাখ মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে। অন্যদের চাহিদা মেটাতে চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন নেমে যায়।

এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি সাত দিন। ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি থাকবে। গত কয়েকটি ঈদে লম্বা ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এতে কিছুটা সফলতাও পাওয়া গেছে। তবে শেষ দু-তিন দিনের চাপ রয়েই গেছে।

তিন মহাসড়ক নিয়ে উদ্বেগ বেশি

প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গাজীপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে এবার যানজটপ্রবণ হিসেবে ৯৪টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থান দেশের মূল সাতটি মহাসড়কের ওপর পড়েছে। এই সাত মহাসড়ক দেশের প্রায় সব বিভাগ ও জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

৫ মে সচিবালয়ে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে ঈদ প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। সেখানে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্থানের বিস্তারিত তুলে ধরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হাইওয়ে পুলিশের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই তিন মহাসড়কের মধ্যে উত্তরের পথে ২৫টি, চট্টগ্রামের পথে ২৫টি ও সিলেটের পথে ২১টি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে।

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরের পথে মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা উড়ালসড়কের পশ্চিম প্রান্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পথে চার লেনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু কিছু পাতাল ও উড়ালসড়কের কাজ এখনো কিছুটা বাকি আছে। এসব স্থানে যানজটের আশঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের মধ্যে প্রচুর পোশাক কারখানা রয়েছে। অনেক কারখানার পাশে মহাসড়কের বিভাজক কেটে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেগুলোতেও যানজটের শঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশের বাসস্ট্যান্ড এবং বাজারগুলোকেও নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড় গত দুই ঈদে যাত্রীদের ভুগিয়েছে। এবারও এই দুটি স্থানে খানাখন্দ রয়েছে। আছে অব্যবস্থাপনাও। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্প এলাকার অনেক স্থানে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় প্রায়ই যানজট হয়। এবার ঈদেও সেতুর টোল প্লাজা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার মাধাইয়া, চান্দিনা ও নিমসার বাজারগুলো মহাসড়কের পাশেই। এই এলাকাতেও যানজট হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ঢাকা-বরিশাল পথে মহাসড়কের অবস্থা ভালোই। তবে মাদারীপুরের মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভয়ংকর অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি’। খবরে বলা হয়, সর্বনাশা মাদকের থাবায় বাড়ছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। বেপরোয়া কিশোর গ্যাং। বখাটেদের উৎপাতও সীমাহীন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নৃশংস খুন ও ধর্ষণের মতো পৈশাচিকতা। যার সর্বশেষ শিকার পল্লবীর হতভাগ্য স্কুলছাত্রী রামিসা। বেশ কয়েক বছর আগে যার শুরুটা হয়েছিল সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে আরেক রসু খাঁরূপী সাভারের সেই নরপিশাচ সম্রাট।

এসব ভয়ংকর অপরাধীর অন্যতম পরিচয় ‘মাদকসেবী।’ মাদকাসক্ত হয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। চেহারা মানুষের মতো হলেও তাদের সব কর্মকাণ্ড চলে পশুর মতো। এভাবে মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তারে তছনছ বহু সাজানো সংসার। পরিবার থেকে সামাজিক জীবন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান ছাড়াও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সব সরকারের আমলে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মতো শব্দ উচ্চারণ করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। খোদ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশয় দেওয়া হয় বিগত সরকারের আমলে। এমনকি তাদের সংসদ-সদস্য বানিয়ে সংসদে আনা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার রোধ করতে না পারার পেছনে অন্যতম কারণ দুটি। এর মধ্যে একটি হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং দ্বিতীয়ত, সব সরকারের আমলে মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক গডফাদারদের অপতৎপরতা। তাদের কারণে পাড়া-মহল্লায় মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং-এর সংখ্যাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি খাতায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম দেখানো হলেও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। এর একটি বড় অংশ কক্সবাজার, টেকনাফসহ দেশের সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত এবং নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি স্কুলেও মাদকের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং সমাজে এর বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, মাদকের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া এবং সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়াটাও অন্যতম কারণ। এছাড়া মাঠবিমুখ প্রজন্ম মোবাইল ফোনে আসক্ত। সেখানে ফিল্টার ছাড়া কনটেন্ট তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি করে।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘বন্ধ কারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা ফের চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক ভাবে কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮ শতাংশ, পরে তা ৪.২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্য-প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে এবং আমানতকারীদের আস্থা কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহ হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এই বিশেষ স্কিম নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনরর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

৪১ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে তিন হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরো তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিলের মধ্যে রয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে দুই হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে এক হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও ফিশ এক্সপোর্টে দুই হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে এক হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য এক হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য দেওয়া ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

সমকাল

‘সমন্বয়হীনতায় কমছে না হামের প্রকোপ’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬৯ দিনে ৫০০ ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে সংক্রমণের হার কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। বরং সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি ও কার্যকর সমন্বয়ের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

তাদের মতে, শুরু থেকেই রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতো। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক চলাচল সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে যাতায়াত ও জনসমাগম বাড়লে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ। তিনি বলেন, হামে মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর সর্বাত্মক উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়; বরং বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৩টি শিশু মারা যাচ্ছে। বিষয়টিকে যেন স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, আমাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, আমরা যেন হামে মৃত্যু কমাতে চাইছি না। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে অনেকেই হামের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আছে বা সংক্রমণ কমে আসছে বলে মন্তব্য করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব কমিয়ে দেয় এবং মৃত্যু কমানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। হামে মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে পরিস্থিতিকে 'যুদ্ধকালীন অবস্থা' হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। এজন্য দ্রুত আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানো, হাসপাতালে অতিরিক্ত বেড ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা এবং বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা জরুরি ছিল। চিকিৎসা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হতো। শুরু থেকেই সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক কম মৃত্যুর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়ে ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে একাধিক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ডেথ অডিট পরিচালনা করতে হবে। কেন মৃত্যু হচ্ছে, কোথায় ব্যর্থতা বা ঘাটতি রয়েছে-এসব নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে হবে। ভয় বা সংকোচ না রেখে বাস্তবতা প্রকাশ করতে হবে। হামকে মহামারি ঘোষণা করার পক্ষেও মত দেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, মহামারি ঘোষণা করা হলে সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেত, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হতো।

তিনি আরও বলেন, মহামারি ঘোষণা করলে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া, চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আইসিইউ সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হতো। এসব বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়া দুঃখজনক। এখনই গুরুত্ব না দিলে মৃত্যুহার আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম ও হামের জটিলতায় মারা গেছে ৫১২ শিশু। এর মধ্যে ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে। বাকি ৪২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এই ভাইরাস ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ জন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে হামে, বাকি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

হামে বরিশালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে দুই, সিলেটে চার, বরিশালে এক এবং ময়মনসিংহে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৫ হাজার ১১ জন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বলপ্রয়োগের পর সীমানা অতিক্রম করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি গাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্ত এলাকায়। গতকাল দ্বিতীয়বার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিজিবির প্রবল বাধায় বিএসএফ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

এদিকে গত ২৫ বছরে বিএসএফের সাথে সীমান্ত এলাকায় সাত বার মুখোমুখি সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে। সাতটি ঘটনায় বিজিবি বা বিডিআরের পাঁচজন ও বিএসএফের ১৮ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির স্থানীয় ক্যাম্প সূত্র জানায়, বিএসএফ অন্যায় করতে এলেই জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করা হবে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ৩০৫ জন বাংলাদেশী নিহত এবং অন্তত ২৮২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ বছরে বিএসএফ কর্তৃক মোট ৬১৮ জন বাংলাদেশী বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৮০২ জন আহত হয়েছেন। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের পর চলতি বছর ১৮ মে পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফ আর কোনো সম্মুখযুদ্ধে জড়ায়নি।

বিজিবি সূত্র জানায়, এর আগে গত ১৮ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় দহগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ডিএএমপি ৬/১৬-এসের কাছে শূন্য লাইন থেকে ১০-২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রতিপক্ষ ১৭৪ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ তরুণ ক্যাম্পের সদস্য কর্তৃক ১৫টি বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে এলে বিজিবির বাধায় পিছু হটে চলে যায়।

গতকাল দহগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সীমান্ত পিলার ডিএএমপি ৭/৩০-এসের কাছে ফের বিএসএফ কর্তৃক বাঁশের খুঁটি স্থাপন অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিক বিজিবি টহলদল জোড়ালো প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ খুঁটি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে উক্ত সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে ৪-৫ সেকশন বিজিবি সদস্য এবং ভারতীয় অংশে প্রায় ৪০-৫০ জন বিএসএফ সদস্য প্রতিরক্ষায় অবস্থান নেয়। উদ্ভুত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে বিএসএফ কর্তৃক যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করলে এবং বিএসএফ উক্ত স্থান ত্যাগ করলে বিজিবি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসে এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে শূন্যলাইনে খুঁটি স্থাপনের অপচেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া আপত্তি ও কঠোর অবস্থানের কারণে খুঁটি অপসারণে বাধ্য হয় বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, শূন্যলাইনে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপনের অপচেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় জনগণ ও বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির কলসিরমুখ বিওপির সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানায় এবং ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে স্থাপিত খুঁটি অপসারণের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিজিবির অনড় ও কড়া অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের কার্যক্রম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং স্থাপিত খুঁটি দ্রুত অপসারণ করে নেয়।

বণিক বার্তা

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বন্ধ কলকারখানা চালু করাসহ স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বড় আকারের এ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা হবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। এ অর্থ আসবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে, যা থাকবে সরকারি গ্যারান্টির আওতায়। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে গতকাল এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে চার ডেপুটি গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রণোদনা প্যাকেজের ভিত্তি সুদহার হবে ১০ শতাংশ (নীতি সুদহার)। এর সঙ্গে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুদ যুক্ত করে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ঋণের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ। তবে এর মধ্যে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করবে। বাকি ৭ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবে গ্রাহক। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের সুদহার হবে ৭ শতাংশ। প্রণোদনা প্যাকেজের ভর্তুকি হিসেবে সরকারকে বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্দশ গভর্নর হিসেবে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন। এ পদে যোগদানের পর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিতে গতকালই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতির বিরাজমান পরিস্থিতি, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার প্রেক্ষাপট এবং এর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। ‘প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট, এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন অ্যান্ড ইকোনমিক রিভাইভাল’ শীর্ষক এ প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এতে বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু; নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি; কৃষি ও রফতানি খাতকে আরো শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়িয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থ পাচার ও আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত করছে।

শিল্প খাতে বিরাজমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন কমেছে কিংবা অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল রফতানি চাহিদা ও বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ঘোষিত প্রণোদনা ‘কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল’ ভূমিকা পালন করবে।

৬০ হাজার কোটি টাকার এ প্যাকেজকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কাঁচামাল আমদানি, শ্রমিকের মজুরি, ইউটিলিটি বিল, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ খাতে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা পুরো প্যাকেজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এ খাতে নয় লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় নির্বাহে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। রফতানি বহুমুখীকরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে পণ্য ও সেবার নতুন রফতানি বাজার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। এ খাতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আলাদা ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানির জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আরো এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্যাকেজের আওতায় ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের পুরোটাই বিতরণ হবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।
আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নেই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি’। খবরে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ১৭ বছর পরও দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন হয়নি। বিশেষ করে অধিকাংশ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কমিটি নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগ কার্যকর নয়। ইউজিসির সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত কমিটির কাজে গতি নেই। ইউজিসিরও এ-সংক্রান্ত কমিটি পুনর্গঠন হয়নি।

অবশ্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি করার বিষয়ে তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো কমিটি হয়নি, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে প্রথম যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা, অভিযোগ ও তদন্ত সেল গঠনের দাবি ওঠে। পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠলে এ বিষয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। ২০০০ সালে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) পক্ষে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ছয় বছর পর হাইকোর্ট ঢাকা সিটি বিশেষ করে ঢাবি এলাকায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনসহ একাধিক নির্দেশনা দেন। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএনডব্লিউএলএ ২০০৮ সালে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন করে দিকনির্দেশনা চেয়ে রিট করে। এরপর ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট ‘যৌন হয়রানি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনসহ একাধিক নির্দেশনা দেন।

ওই রায়ে বলা হয়েছিল, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিতে কমপক্ষে পাঁচজন সদস্য থাকবেন। কমিটির বেশির ভাগ সদস্য হবেন নারী এবং প্রধানও হবেন নারী। প্রতি শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রমের শুরুতে এবং প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪-এর তথ্য বলছে, দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪৪ হাজার ৫৭৩টি। এর মধ্যে বেসরকারি ৪১ হাজার ৮৪৫টি এবং সরকারি ২ হাজার ৭২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ জন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো ওই রায়ের ১৭ বছর পরও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এই কমিটি হয়নি। আবার যেগুলোতে হয়েছে, সেসব কমিটির বেশির ভাগই কার্যকর নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হলে কমিটির বিষয়টি সামনে আসে। কিছুদিন পর আবার চাপা পড়ে যায়।

হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গ্রাম অঞ্চলের কথা বাদই দিলাম, রাজধানী এবং জেলা শহরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো কমিটি নেই। আদালতের নির্দেশনার এত দিন পরও বিষয়টি কার্যকর না হওয়া হতাশাজনক।’ তিনি এই কমিটি না হওয়ার জন্য দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা দায়ী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এখন শিক্ষা প্রশাসনের উচিত নিয়মিত মনিটরিংয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা। তাঁর আশা, এতে কমিটি গঠনের বিষয়টি গতি পাবে।

দেশ রূপান্তর

‘মাদকে বাড়ছে ধর্ষণ-হত্যা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যশোরের শার্শায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুদিন আগে গ্রেপ্তার হন আলম গাজী নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে মাদক সেবন ও কারবারের তথ্য পায় পুুলিশ। আলম গাজী বাংলা মদ ও ইয়াবা সেবন করে শিশুদের টার্গেট করতেন। এর আগেও দুটি শিশুকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন তিনি। রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকান্ডের অভিযুক্ত সোহেল রানাও মাদকাসক্ত। গত শুক্রবার সিলেট নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে আসাদুল আলম নামে একজন মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য।

এ তিনটি ঘটনার মতোই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। এ ছাড়া তারা ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। সম্প্রতি পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের গোপন জরিপেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। জরিপে সতর্কবার্তা জারি করে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত সিন্থেটিক মাদক ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। এসব মাদক সেবনের পর তাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, হ্যালুসিনেশন ও অতিরিক্ত মাত্রায় হাইপার-অ্যাক্টিভিটি তৈরি করছে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে একজন আসক্ত ব্যক্তি খুব সহজেই যেকোনো নৃশংস অপরাধ ঘটিয়ে ফেলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষায় পৃথক কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন তারা।
মাদকের সহজলভ্যতায় বাড়ছে ধর্ষণ-হত্যা : পুলিশ সূত্র জানায়, দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক এমন ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত সাড়ে চার মাসে সারা দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর তিন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে, তার কারণ হিসেবে মাদকের সহজলভ্যতাকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন