দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। তিন দফা স্থগিতাদেশ, দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও ব্যবসায়ী নেতাদের পাল্টাপাল্টি রিটের পর অবশেষে ভোটের মাঠে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। তবে এক যুগ পর নির্বাচনের আমেজ ফিরলেও শেষ মুহূর্তে একটি প্যানেলের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নির্বাচনের পূর্ণতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দেখা যায়, চেম্বারের ভোটে অংশ নিতে ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত ভোটকেন্দ্রের চারপাশ। দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মুছে ভোট দিতে জড়ো হয়েছেন হাজার খানেক ব্যবসায়ী। তবে ভোটের বুথে তেমন ভিড় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যস্ত। চেম্বার সূত্র জানায়, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন চেম্বারের সদস্যরা। সংগঠনটির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর আর ভোট হয়নি। পরবর্তী কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সংগঠনটির মোট ভোটার ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার একজন এবং সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন। সাধারণ শ্রেণির ভোটাররা ১২টি এবং সহযোগী শ্রেণির ভোটাররা ৬টি করে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং ট্রেড গ্রুপ ও টাউন এসোসিয়েশন থেকে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণিতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৭ জন। সহযোগী শ্রেণিতে আছেন ১৫ প্রার্থী। ট্রেড গ্রুপ ও টাউন এসোসিয়েশন থেকে ৬ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’টি প্যানেল গঠিত হয়। একটি সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ, অন্যটি ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এরই মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ব্যালটে তাদের প্রার্থীদের নাম রয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ তৈরি হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আইনি টানাপড়েনে নির্বাচনের পরিবেশ বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের মতে, চেম্বার ও ব্যবসায়ী সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা আমিরুল হক বলেন, ‘আদালতের সব সিদ্ধান্ত মেনে ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া উচিত। সেটাই হচ্ছে। ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখেই তা-ই স্পষ্ট হয়েছে।’ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম জানান, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
