হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ

মোদি- রুবিওর বৈঠক

হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ

ফন্ট সাইজ:

চারদিনের ভারত সফরে এসে প্রথম দিনেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক চলাকালে এই শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রুবিওর সঙ্গে তার বৈঠকের খবর পোস্ট করে জানিয়েছেন, আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তাই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও।

রুবিওর ভারত সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনি জানান, এই সফর কোনও সম্পর্ক মেরামতের উদ্দেশ্যে নয়। বরং দুই বিশ্বস্ত অংশীদারের মধ্যে যোগাযোগের প্রতিফলন। তিনি এও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।

গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতে এটিই রুবিওর প্রথম সফর। সফরের প্রথম দিনেই তিনি কলকাতায় পা রাখেন। কলকাতায় স্বল্প সময়ের অবস্থানে তিনি সস্ত্রীক মাদার টেরিজার তৈরি মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দপ্তর মাদার হাউসে ঘন্টা খানেক সময় কাটান। এরপর যান শিশু সদনেও। দুপুরেই ফিরে যান নয়াদিল্লিতে।

শুক্রবার ভারত সফর প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, ভারতের সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চলমান রয়েছে, তাই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করবেন এবং মঙ্গলবার দিল্লিতে কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন। তিনি আগ্রা ও জয়পুরও সফর করবেন বলে সূত্রে বলা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রুবিও ভারত সফরে এসেছেন। রুবিওর সফরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে রুবিওর ভারত সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার সমাধান এবং শান্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছে। ভারত হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার বার দাবি জানিয়েছে ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন