শিশা লাউঞ্জে ডিএনসির বড় অভিযান, হুক্কা কলকি কয়লা উদ্ধার

শিশা লাউঞ্জে ডিএনসির বড় অভিযান, হুক্কা কলকি কয়লা উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর কড়াইল বস্তি, গুলশান ও খিলক্ষেত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিশা, হুক্কা সেট, মাদকসামগ্রী ও গাঁজা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির বিটিসিএল কলোনির কল্যাণ-১৫ নম্বর টিনশেড বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিশা, হুক্কা সেট, মাটির কলকি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জাহানারা বেগম (৫৫) ও শাহীন রাড়ী (১৯) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এক্সোটিক লাউঞ্জ নামের একটি শিশা বারের মালিক শরীফ আল জাওয়াদ (৩৬) পলাতক রয়েছেন। বারের মালিকের সংশ্লিষ্ঠতা থাকায় তাকে পলাতক দেখিয়ে পরিদর্শক মোঃ তমিজ উদ্দিন মৃধা বাদী হয়ে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

ডিএনসি ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপ পরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, অভিযানে ২০ কেজি অবৈধ শিশা, ৩৪টি হুক্কা সেট, ৭৪টি মাটির কলকি, ৪ কেজি ব্যবহৃত কয়লা, একটি মোবাইল ফোন এবং এক্সোটিক লাউঞ্জ এর ৫০ পাতার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামতের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পলাতক আসামি শরীফ আল জাওয়াদ কড়াইল বস্তিতে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে শিশা ও সরঞ্জাম মজুত রাখতেন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বনানীর ১১ নম্বর রোডের আনজারা বিল্ডিংয়ের নবম তলায় অবস্থিত এক্সোটিক লাউঞ্জ-এ সরবরাহ করা হতো। সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান-বনানী এলাকার বিভিন্ন অবৈধ শিশা বারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলো কড়াইল বস্তিকে নিরাপদ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে একই দিনে খিলক্ষেত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মো. এমদাদুল হক খানের নেতৃত্বে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজউক ট্রেড সেন্টার শপিং মলের সামনে গাজীপুরগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে এ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৬), ইরন মিয়া (৪৫), মো. ইয়াছিন (৩৯) ও মোছা. আলেয়া বেগম (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএনসি জানিয়েছে, কড়াইল বস্তিতে উদ্ধার হওয়া শিশা সংক্রান্ত ঘটনায় বনানী থানায় এবং গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গুলশান-বনানী এলাকায় অবৈধ শিশা বার নির্মূলে তাদের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন