রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা জোরদার এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রসারের লক্ষ্যে মে মাসে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ২০শে মে পাকশী রেলওয়ে কলেজ-এ ‘লেকচার সিরিজ: পারমাণবিক বিদ্যুৎ- ‘মিথ ও বাস্তবতা এবং জনস্বার্থ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অংশীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’র ফোকাল পয়েন্ট (গণমাধ্যম) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
সেমিনারে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মৌলিক ধারণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, Reactor Physical Start-up I Power Escalation, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশগত সুরক্ষা, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রটির ভূমিকা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আশিক হায়দারের সঞ্চালনায় এবং পাকশী রেলওয়ে কলেজ-এর অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে আয়োজনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনার শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খাইরুল ইসলাম। এছাড়াও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর পক্ষ থেকে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, গণমাধ্যম ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রের কমিউনিকেশন ম্যানেজার আহসান হাবিব। সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ এফ এম রাজিবুল আলম, সহকারী অধ্যাপক, আইসিটি; এস এস এম তারিকজজামান, সহকারী অধ্যাপক, ইতিহাস; মো. শফি কামাল, প্রভাষক, সমাজকর্ম; মো. আশরাফুল আলম, প্রদর্শক, জীববিজ্ঞান; মো. শফিকুল বারী, শরীরচর্চা শিক্ষক এবং মো. সিয়াম, রোল ৪২, দ্বিতীয় বর্ষ (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রমুখ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এসময়ে আলোচকবৃন্দ তার উত্তর দেন।
সেমিনারের পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানে একটি ঐতিহ্যবাহী ও মনোজ্ঞ গম্ভীরা পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রযোজনা এবং ‘স্মার্ট গম্ভীরা দল’-এর পরিবেশনায় উক্ত গম্ভীরার মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশগত সুরক্ষা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এর অবদান অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও আকর্ষণীয় উপায়ে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের নিবিড় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা ও গভীর আস্থা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
