প্রশাসনে বদলি পদায়ন ও নিয়োগ নিয়ে তালগোল

সহযোগীদের খবর

প্রশাসনে বদলি পদায়ন ও নিয়োগ নিয়ে তালগোল

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘প্রশাসনে বদলি পদায়ন ও নিয়োগ নিয়ে তালগোল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশাসনের বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তালগোল লেগে যাচ্ছে। সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান, এসপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বদলি, পদায়ন কিংবা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিতর্কের মুখে দুই মাসে অন্তত ১৫ জনকে প্রত্যাহার করছে সরকার। বাছাই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, তথ্যের ঘাটতি আর তাড়াহুড়া করে প্রজ্ঞাপন দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে।

এতে বিব্রত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবার সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর আলোচনা বা অন্যভাবে প্রভাবিত হয়ে নিয়োগ বাতিলের নজিরও রয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬ এপ্রিল ১৫ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অধিদপ্তর-সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত সাত কর্মকর্তা বদলির আদেশ না মানার ধৃষ্টতাও দেখিয়েছেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পুরো প্রশাসনে ছিল অস্থিরতা। এসব কারণে সেই সময় আন্দোলনও করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সচিব ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়েও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আন্দোলন হয়েছে। কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে প্রজ্ঞাপন জারির পর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অন্তত আট ডিসির পদায়ন বাতিল করেছিল সরকার। নিয়োগের পরপরই সাত সচিবের পদায়ন বাতিল করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া পিএসসির ছয় সদস্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা ও যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় ১১ দিনের মাথায় তাদের সবার নিয়োগাদেশ বাতিল হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সে সময় চার উপদেষ্টা ও দুই সচিবের সমন্বয়ে গঠিত ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটিও’ বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই কমিটি জনপ্রশাসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন বিষয়ে পরামর্শ দিত।

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে তা বাতিল করলে সরকারের দুর্বলতা দৃশ্যমান হয়। এতে তৈরি হয় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা। কর্মকর্তাদের মধ্যে দলাদলিও বাড়ে। এ জন্য ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যেন পদায়ন বা নিয়োগের পর সমালোচনা হলেও পরিবর্তন করা না লাগে।

তারা বলেন, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এরপর তারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবকে সে তথ্য জানাবেন। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।

বিতর্কের মুখে প্রত্যাহার

আবদুর রশীদ মিয়াকে গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের পাঁচ দিন পর আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আবদুর রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির দুদিনের মাথায় তা বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। গত ৩ মে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানকে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই সে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে রদবদল আনা হয়। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। গত ৯ মে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের আলাদা দুই আদেশে ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়। এসব আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ হয়।

গত ২৫ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক; বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের পদে অন্য তিনজন সচিব নিয়োগ করা হয়। পরে এক দিনের মধ্যে এই তিন সচিবের বদলি আদেশ স্থগিত করে নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন সচিবের আদেশ বাতিল করা হয়।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সমকালকে বলেন, সরকারের নিয়মেই নিয়োগগুলো হয়। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

সমালোচনায় বাতিল, তবু সমালোচিত নিয়োগ

গত ১০ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান। এই নিয়োগের পর কয়েকজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুকে লেখেন, তিনি ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। পত্রিকার লেখাগুলোও ফেসবুকে জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৪ মে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়। ওমর ফারুক দেওয়ান তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। এরপরও তাঁকে একই দিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তার পদ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠায় গত মঙ্গলবার ওমর ফারুক দেওয়ানের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়নের আদেশও বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কোনো কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রয়োজনে নিতে হবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন। সেই কর্মকর্তার বিষয়ে নেতিবাচক কোনো বিষয় থাকলে সেটা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে জানাতে হবে।

জানতে চাইলে সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, আমি উপসচিব থাকার সময় একজন মন্ত্রী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ডিও লেটার দেন। ওই কর্মকর্তার বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সদয় অবগতির জন্য মন্ত্রীকে তা জানানো হয়।

সকালে আদেশ, বিকেলে বাতিল

এদিকে, গত সোমবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে তোলপাড় চলছে।

বদলি আদেশ মানছেন না অনেকে

গত ২৬ এপ্রিল পরিবেশ ও খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনে সরকার। নিয়োগ পাওয়া সবাই অতিরিক্ত সচিব। ওই ১৫ কর্মকর্তার মধ্যে সাতজন এখনও তাদের পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগ দেননি। অথচ ওই পদগুলো শূন্য আছে। অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান পদে বদলির প্রায় এক মাসেও যোগদান না করায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলের ৮১ ধারায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বদলি আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ছয় দিন সময় পাবেন। তবে একই শহরে বদলির আদেশ হলে প্রস্তুতির কোনো সময় পাবেন না।

বদলির পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া কর্মকর্তারা হলেন– নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজা, পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আবদুল হাইকে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক পদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল পদে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কেউ এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা জানান, রাজা মো. আবদুল হাই গত ৫ মে এখানে শুধু পরিচিত হতে এসেছিলেন। এরপর আর আসেননি। তবে রাজা মো. আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেনি সমকাল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও রিলিজ করেনি। তাই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারিনি।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান দপ্তরের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারিনি। শিগগির যোগ দেব, তবে কত তারিখ সেটা বলতে পারছি না।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমার আরও একটা প্রকল্পের দায়িত্ব আছে। এ জন্য সচিব ও ডিজি স্যার বলেছেন, ১ জুন আমাকে ছাড়পত্র দেবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ বলেন, যোগদান না করার কোনো কারণ নেই। তবে আরও কিছু দিন পরে যাব।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বদলির নির্দেশনা না মানার অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সমকালকে বলেন, বদলির ক্ষেত্রে কারও মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, যুগ্ম সচিব থেকে ওপরের পদে বদলির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।

প্রথম আলো

‘টিকার জন্য টাকা ছিল, সময়মতো কেনা হয়নি: ইউনিসেফ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ইউনিসেফ বলেছে, টিকার ঘাটতির কারণে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে—এমন সতর্কবার্তা অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা সংস্থাটির অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকার সংকটের কথা ছিল। তারা ১০টি বৈঠকে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি। তবে টিকার জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল।

গতকাল বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর, ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালে টিকার মজুত শেষ হওয়ার ব্যাপারে বারবার সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল।

গত বছরের আগস্টে ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকাসংকটের কারণ, টিকাসংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এ সংকট আর যেন না হয়—সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের কমিউনিকেশন শাখার একাধিক কর্মকর্তা। অনলাইনে যুক্ত হন আরও দুজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টিকার জন্য রাজস্ব বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছিল। অর্থের অভাবে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছে, বিষয়টি ঠিক নয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তহবিলের জন্য অপেক্ষা করার তথ্যটিও ভুল। মূল সমস্যা ছিল টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে, কীভাবে কিনতে হবে। এটাই বিলম্বের কারণ। এটাই তদন্তের বিষয়। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কি না—একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।

টিকা ও হাম নিয়ে ইউনিসেফের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউনিসেফের সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। ২০২৫ সালে হামের টিকার অভাবে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে কোনো মানুষ হামের টিকা না পেয়ে টিকাকেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন বলে জানা যায়নি। এমনকি ডিসেম্বরের আগপর্যন্ত টিকার কাভারেজেও সেটা প্রতিফলিত হয়। বিশেষ ক্যাম্পেইন–সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ইন্টার-এজেন্সি কো-অর্ডিনেশন কমিটি (আইসিসি) কর্তৃক নেওয়া হয়, যেখানে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকেন। ইউনিসেফের পক্ষ থেকে করা যোগাযোগসমূহে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’ নিয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে এটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। পরে বিশদ জানানো হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

সংবাদ সম্মেলনে হাম পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টি জেলায় হাম ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনের (৮০ শতাংশ) বয়স পাঁচ বছরের নিচে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদান বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে এক সপ্তাহ বিলম্ব হলে সংক্রমণ আট গুণ বেড়ে যেতে পারত।

এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বড় অর্জন। অনেক দেশে এত মানুষই নেই বলে উল্লেখ করেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (গ্যাভি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্সের অর্থায়ন) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয়েছিল টিকা কেনার প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে। ইউনিসেফ বহু বছর ধরে বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা আনে। টিকা শুধু আনলেই হবে না, কোল্ড চেইন বজায় রেখে টিকা সংরক্ষণ, টিকা সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, টিকা থেকে ইউনিসেফ কোনো লাভ করে না। টিকার কোনো টাকা ইউনিসেফ কার্যালয়ে আসে না।

সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ফিলিপাইন উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা কিনতে চেয়েছিল, তাদের এক বছরের বেশি দেরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়া হয়। আর দেওয়া হয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রয়োজনের এক-তৃতীয়াংশ টিকা আসে। ইপিআইয়ের টিকা আসে ওই বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে। নতুন করে শুরু হয়েছে এ বছরের ৫ মে। অন্যদিকে হামের ক্যাম্পেইনের টিকা আসে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ এ বছরের মার্চে। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, দেশে এখন টিকার কোনো সংকট নেই। মানুষ টিকাকেন্দ্রে গেলে টিকা পাবে।

প্রথম আলোর আরেক খবরে বলা হয়, পাসপোর্টে ফিরছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’, বাদ পড়ছে টুঙ্গিপাড়ার সমাধিসৌধ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ। ছয় বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাদ দেওয়া এই শব্দবন্ধ পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বাংলাদেশের পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরায়েল বা ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ বহাল করার কথা বলা হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেয়া চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বাইরে বড় পরিসরে কার্যকর হয়নি। এখন বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টে এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পাসপোর্টে বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এপ্রিল ও চলতি মাসের শুরুতে এ নিয়ে একাধিক সভা করে। পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ মহলের সবুজসংকেত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করা হয়। এ সময় পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ বাদ দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ছাড়া। এর পর থেকে ই-পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করতে দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা করে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘সবার আগে জরুরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচারকদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসাবে অভিহিত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কার্যত বাতিল করার পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথক্করণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক চেতনার পরিপন্থি। অথচ গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্য সবার আগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বুধবার যুগান্তরের কাছে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

এদিকে আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বুধবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সুপ্রিমকোর্টে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় হবে কি না, এ প্রশ্ন আপনাদের সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছি, আমরা তড়িঘড়ি করে কিছু করতে চাই না। আমরা আবার পৃথক সচিবালয়ের স্কিম নিয়ে হাজির হব। আইনটি যাচাই-বাছাই করছি। বিচার বিভাগকে যুগোপযোগী করার জন্য একটি স্বচ্ছ, সুন্দর, মেধা ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন বার প্রয়োজন। যদি সেটা না থাকে, তাহলে ভালো জাজ তৈরি হবে না।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এর আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার। তবে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বুধবার যুগান্তরকে বলেন, সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে তারা আরও ভালো আইন করবেন। তাদের কথায় আমি আশা রাখতে চাই। আমার প্রত্যাশা, আগামী বাজেট অধিবেশনে সরকার এ বিষয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক আইন পাশ করবে। তবে যদি কোনো অগ্রগতি দেখা না যায়, তাহলে বুঝতে হবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের জন্য মোটেও সহায়ক হবে না। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচারকদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের কাছে এর চেয়ে বেশি ভালো কিছু আশা করা ভুল। দেশে যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, র‌্যাব বিলুপ্ত করবে; কিন্ত করেনি। পোশাক বদলালে কি চরিত্র বদলাবে?

কালের কণ্ঠ

‘ঋণ খরায় ব্যবসা-শিল্প’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শুধু মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সব অর্থনৈতিক গতিপথ প্রায় রুদ্ধ করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনীতির প্রাণ বেসরকারি খাত এখন ঋণ খরায় প্রায় অচল হওয়ার পথে।

সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কঠোর কড়াকড়িতে বলতে গেলে ঋণই পাচ্ছেন না বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত থেকে বেসরকারি খাতের ঋণের ‘কঙ্কালসার’ চিত্র ফুটে উঠছে। গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সবচেয়ে কম ঋণ পেয়েছে বেসরকারি খাত। এ সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৭২ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

এটা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দশকের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন কম ঋণপ্রবাহ দেখানো হলেও বাস্তবে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ঋণপ্রবাহ। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যাবসায়িক আস্থার ভাঙন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরেই বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী। ২০২৫ সালের নভেম্বরের ৬.৫৮ শতাংশ থেকে ধীরে ধীরে কমে ডিসেম্বরে ৬.২ শতাংশে নামে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তা ৬.০৩ শতাংশে স্থির থাকলেও মার্চে হঠাৎ বড় পতন ঘটে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়নি। বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি, নীতিগত অস্পষ্টতা ও জ্বালানিসংকট একসঙ্গে বিনিয়োগকে নিরুৎসাহ করছে। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হলো উচ্চ সুদের হার। বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। এই সুদের হারে বিনিয়োগ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা প্রায় কঠিন। এমন অবস্থায় কেউ ঋণ নিতে আগ্রহী নয়। ফলে কমতে কমতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে এসে ঠেকেছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আংশিক ফিরলেও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত এখনো অনুপস্থিত। মূল্যস্ফীতি, লজিস্টিক ব্যয় ও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের নতুন করে ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহ করছে। মার্চ মাসে জ্বালানিসংকট পরিস্থিতিকে আরো চাপের মধ্যে ফেলেছে। একাধিক সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানিসংকট। মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় এবং অন্য বিষয়গুলো অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ কমেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এক বছর আগে এটি ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.০৩ শতাংশ। মার্চে সেই ঋণের পরিমাণ আরো কমেছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রেখেছে ৮.৫ শতাংশ। এই লক্ষ্য কোনো মাসেই অর্জন হয়নি।

ব্যাংকারদের ভাষ্য আরো উদ্বেগজনক। তাঁরা জানান, বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর উৎপাদন কমে যাওয়া কিংবা কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের চাহিদা কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে নতুন ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তলানিতে নেমেছে।

নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ব্যাংক খাতে। ব্যাংকারদের মতে, সুদের হার, বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতি—এই তিনটি মৌলিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। এতে ঋণ অনুমোদন ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

ইত্তেফাক

‘প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধি: অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি, টিকার সংকটের কথা বলেছি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে হামের টিকা সংকটের বিষয়ে সতর্ক করতে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। একই সঙ্গে আমি বলতে পারি, আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।’ গতকাল বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলোর ক্ষেত্রে। আমি এটুকু জানি যে, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যে, যিনি নতুন করে এই দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ‘আমার মনে হয় না এ ধরনের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি আপনারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাচাই করে নিতে পারেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের দাবি, ইউনিসেফ হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তত্কালীন সরকারকে সতর্ক করেনি। এ বিষয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার হাতের কাছে একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।’ রানা বলেন, ‘এটা স্পষ্ট ছিল যে দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।’ গত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো টিকা সংকট ছিল কি না জানতে চাইলে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে যা প্রভাব ফেলতে পারে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে রানা মত দেন যে, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ বা পরবর্তী আলোচনা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমরা খতিয়ে দেখব কেন অনেক বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিল।’ তবে তিনি এই সংখ্যাটিকে ‘মোটা দাগের অনুমান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও প্রাক-বিদ্যালয়, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জায়গাগুলোতে শিশুদের একত্রিত করতে আমাদের সক্ষমতা আমরা ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখব।’ রানা বলেন, ‘এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে (টিকাদান প্রক্রিয়া) কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।’

টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রানা বলেন, ‘আমরা যা যা কিনি, তার জন্য জনসম্মুখে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। এখানে আপনি শুধু ১ লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড় সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না। আপনি সেই টিকাই নেবেন, যেটার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই ইউনিসেফ বহু বছর আগে বিশ্বের জন্য টিকা সংগ্রহ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ রানা বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ করি। টিকা প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমরা অনেক বেশি পরিমাণে কিনি, তাই আমরা দামে সাশ্রয় করতে পারি। ইউনিসেফ যে দামে টিকা পায়, তার চেয়ে কম দামে দরপত্র পাওয়া সম্ভব নয়।’

দেশের হাম পরিস্থিতি: গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন নিশ্চিত হামে এবং তিন জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪০১ জন। এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮১ জনে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন ইস্যু’। খবরে বলা হয়, চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আইনি সংশোধনীর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিতব্য নির্দলীয় এই নির্বাচন দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতে তৃণমূলে আরো ব্যাপকভিত্তিক গণসংযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ নানাভাবে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা থাকবে সবার। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা এ নিয়ে বিরোধী দলগুলো তাদের সংশয় প্রকাশ করছে। তারা বলছে, বিএনপি সরকারের অধীনে একটি স্থগিত ও একটি উপনির্বাচনে যেভাবে দলীয় ও প্রশাসনিক শক্তির প্রয়োগ হয়েছে, তাতে স্থানীয় নির্বাচনেও পেশি শক্তির ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কমিশনের সামনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তিনি বলছেন, এ নির্বাচন আয়োজনে ইসি প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা তাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।

সূত্র মতে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো এখনই নির্বাচন করার উপযোগী। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। এ ছাড়া সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যে ১৮০ দিন সময়সীমা রয়েছে, তা এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরো তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদের সময়সীমা শুরু হবে। এ অবস্থায় সরকারের সবুজ সঙ্কেত পেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি। সরকারের তরফে এ বছরের শেষ দিকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হচ্ছে। তবে বিএনপি তাদের প্রস্তুতি শেষ করেই তফসিল ঘোষণার দিকে যাবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিসহ অন্য দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তাদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অলিগলি ও জনসমাগমস্থল। নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এসব প্রার্থী। ভোটারদের মনোযোগ টানতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জোর দিচ্ছেন তারা। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এ প্রচারণা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বণিক বার্তা

‘পাইকারি বিদ্যুতের দাম ২১% পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব, গণশুনানিতে তীব্র বিরোধিতা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অব্যাহত লোকসান, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি কমানোয় বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

এ প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ইউনিটপ্রতি দাম ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়বে। খুচরা পর্যায়েও বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ছয় বিতরণ কোম্পানি। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গতকাল আয়োজিত গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব দেয়া হয়।

গণশুনানিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা। অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশত্রুতে পরিণত হবে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের নামে বারবার গণশুনানির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতাকারীরা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে। বিশেষ করে দেশের শিল্প-কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

দেশের বিদ্যুতের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বিপিডিবি। সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সংস্থাটি বিদ্যুৎ কিনে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কাছে সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি ভারত ও নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। তবে বিদ্যুৎ ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রতি বছর বিপুল আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়ছে বিপিডিবি। সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার পরও সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। এ অবস্থার পেছনে কাঠামোগত সংকট, দুর্বল পরিকল্পনা ও অকার্যকর বিদ্যুৎ ক্রয়নীতিই প্রধানত দায়ী বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিইআরসিতে জমা দেয়া বিপিডিবির প্রস্তাব থেকে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে সরকার প্রায় ৫ টাকা ৪৭ পয়সা ভর্তুকি দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সায়। তবে বিইআরসির টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) মতে, উৎপাদন ব্যয় হতে পারে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বর্তমান ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী, সম্ভাব্য আয় হবে ৭৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বেসরকারি খাত: সুরক্ষিত হচ্ছে চাকরি-সুবিধা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরি সুরক্ষা ও তাঁদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য একটি সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শ্রম আইনকে ভিত্তি ধরে এই রুলস বা বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই বিধিমালা হলে বেসরকারি খাতের চাকরিতে ন্যূনতম বেতন ও স্থায়ী নিয়োগপত্র প্রাপ্তি, ছুটির অধিকার, অযৌক্তিক চাকরিচ্যুতি ও হয়রানি বন্ধ, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বৈষম্য দূর হওয়া ছাড়াও নিয়োগের শর্তানুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা দেওয়া, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ছুটি, পদোন্নতি, আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের চাকরি, চাকরি স্থায়ীকরণ, চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তৈরি পোশাক, পাটকল, ট্যানারিসহ বর্তমানে ৪৭টি খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এসব খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে ধরা হয়। এর বাইরে আরও ১২টি খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এসব খাতের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো উদ্যোগ নেই। এসবের বাইরে অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর্মীদের চাকরিচ্যুতি, ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেওয়া, চাকরির শর্ত ভঙ্গসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় সমাধানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, বেসরকারি চাকরিজীবীরা যাতে প্রাপ্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কাজে নিয়োজিত আছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেসরকারি খাতে, ৪ দশমিক ৭ শতাংশ সরকারি খাতে এবং বাকিরা খানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নের লক্ষ্যে ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি ছাড়াও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দেশ রূপান্তর

‘খেলার বয়সেই কফিনে!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সাত বছর বয়সী শিশু সিরাজুল আল সামস। ছোট শরীরের এমন কোনো স্থান বাদ নেই, যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। সামসকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর পায়ের রগ কেটে, ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় পুরো শরীর। শরীরজুড়ে ১৭টি আঘাতের দাগ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্ন নীরবে বলে যাচ্ছে, কতটা নির্মমতার ভেতর দিয়ে শেষ হয়েছে ছোট্ট এই জীবন। পারিবারিক কোন্দলে সম্প্রতি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চাচাত ভাই আমানুর ইসলাম এভাবে হত্যা করে শিশুটিকে।

এত ছোট শিশুর সঙ্গে কার কী এমন শত্রুতা ছিল যে, তাকে হত্যা করা হলো? কেন খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করা হলো? সামসের এই বয়সে খেলার কথা, স্কুলব্যাগ কাঁধে স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলার কথা অথচ সাদা কাফনে কফিনের ভেতর আটকে গেল তার জীবন। শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যার নজির শুধু এটাই নয়। গত মঙ্গলবারই রাজধানী ঢাকাতে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। আর গত ১৬ মাসে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ৫২৫ শিশু। এ সময় চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২০১ শিশু। কখনো পাশবিকতার শিকার হয়ে, কখনো পারিবারিক দ্বন্দ্বের বলি হয়ে, আবার কখনো বড়দের হিংসা-বিদ্বেষের আগুনে পুড়ে থেমে যাচ্ছে ছোট ছোট প্রাণ। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা শিশুরা নিরাপত্তা হারাচ্ছে পরিচিত মানুষের কাছেই; যাদের হাত ধরে বেড়ে ওঠার কথা, কখনো সেই হাতই হয়ে উঠছে মৃত্যুর কারণ।

সমাজবিজ্ঞানী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মকে আরও মানবিক গুণাবলির হতে হবে। শিশুহত্যা থামাতে শুধু আইন নয়; দরকার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের একসঙ্গে দাঁড়ানো। কারণ, একটি শিশু হত্যার সঙ্গে হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন শিল্পী, শিক্ষক, বিজ্ঞানী কিংবা শুধু একজন ভালো মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা। আর তখন সমাজের বুকেও জমে থাকে এক অদৃশ্য প্রশ্ন, আমরা কি সত্যিই আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখতে পেরেছি?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. নেহাল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হিংস্রার বশবর্তী হয়ে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। একজন বয়স্ক লোককে হত্যা করতে অন্তত ২/৩ জনের দরকার হয়। আর একজন শিশুকে চাইলে একজনই হত্যা করতে পারে। অর্থাৎ দুর্বল হওয়ায় শিশুদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশে আইনের শাসন নেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব আছে। সবকিছু সিস্টেমের মধ্যে চললে শিশু হত্যাও কমে আসবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘কেন বাড়ছে খুনাখুনি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক. গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সম্প্রতি বসতঘরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় একই পরিবারের পাঁচজনকে। হত্যাকারী নিহতদের বাবা, স্বামী ও দুলাভাই। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সেই ফোরকান মিয়ার লাশ মেলে নদীতে। নিজেদের বসতঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে থাকা লাশগুলো ছিল তারই তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিহার (২)। জানালার পাশে ছিল স্ত্রী শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ এবং বিছানার ওপর শ্যালক রসুলের রক্তাক্ত লাশ। ৯ মে এ পাঁচ লাশ উদ্ধারের ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল সারা দেশে। লাশের ভয়ানক দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন সবাই। চোখের জল ফেলতে বাধ্য হন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। সেই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে-যে বাবা নিজের জীবন দিয়ে সন্তানদের বাঁচান, স্ত্রীকে নিরাপত্তা দেন, কীসের ক্ষোভে, কেন, কীভাবে একজন বাবা নিজের সন্তানদের জবাই করতে পারলেন? কেনইবা হত্যা স্ত্রী ও শ্যালককে?

দুই. রামিসা আক্তার নামে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করার নৃসংসতাও কাঁপন তুলেছে দেশময়। কীভাবে সম্ভব? প্রতিবেশীর বাসায় প্রথমে শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ পান মা। এরপর খুঁজে পাওয়া যায় মাথা। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে এ ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একটি শিশুকে এমন রোমহর্ষক হত্যা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ঘাতক সোহেল (৩২) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে পুলিশ। আদালতে নিজের দোষও স্বীকার করেছেন ঘাতক। কিন্তু মেয়েকে হারানোর পর বিচারব্যবস্থার ওপর গভীর আক্ষেপ ও অনাস্থা প্রকাশ করে শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।’

তিন. তার এক দিন আগে উদ্ধার করা হয় প্রবাসী মোকাররম মিয়ার (৩৭) আট টুকরা লাশ। প্রথমে পাওয়া যায় মস্তকবিহীন সাত টুকরা; পরে মাথা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ১৭ মে মুগদা-মান্ডায় সংঘটিত এ ঘটনার রোমহর্ষক ও শরীর হিম করা বর্ণনা দেন খুনিরা। তবে হত্যা ও লাশ গুমের পর কীভাবে পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার, তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম ও হেলেনার মেয়ে (১৩) বিরিয়ানি খেতে পারেন? কীভাবে প্রতিবেশীদের নিয়ে ছাদে পার্টি করতে পারেন? ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হতবাক সবাই। খুনের পর এমনভাবে খাওয়া ও পার্টি করা কি কোনো স্বভাবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব?

শুধু এ ঘটনাগুলোই নয়, পুলিশ সদও দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) সারা দেশে ১ হাজার ১৪২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে দেশে। এপ্রিলে ২৮৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই চার মাসে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৭৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী একটা অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে প্রযুক্তির রেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে। আত্মিক বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে নিজের লোভ পূরণে উদ্গ্রীব হয়ে পড়া, পরিবারের সঙ্গে সংযোগ কমে যাওয়া, স্বজনদের সঙ্গে সহমর্মিতার অভাব, প্রযুক্তি আসক্তি, টেলিভিশনে ক্রাইম প্যাট্রলের মতো অনুষ্ঠান প্রচার, নেটফ্লিক্সে ভয়ানক ছবি দেখা, সংবেদনশীলতার সংকট, ছোট থাকতেই বিভিন্ন গেমসের মাধ্যমে খুন করা শেখা, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাধাগ্রস্ত হওয়া, নৈতিকতার অভাব, সংস্কৃতির চর্চার অভাবসহ নানান কারণেই সমাজে খুনাখুনি বাড়ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংস্কৃতিচর্চা, খেলাধুলার সুযোগ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি জোর দিতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারও সীমিত পরিসরে করতে হবে।’ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিকভাবে মানুষ খুব অল্পতেই ধৈর্যহারা হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধন কমে যাওয়া, অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর কারণে খুনাখুনি বাড়ছে। এমনিতে খুনাখুনির ঘটনা প্রতিরোধ করা খুবই কঠিন। এর পরও আমরা চেষ্টা করছি যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুন হয়েছে আর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমন ঘটনা নেই। এর পরও কেউ খুনাখুনিতে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগসমূহ:

রুহেল

২ মাস আগে

সতের বছরের জঞ্জাল সাফ করতে না পারলে প্রশাসনে অস্থিরতা থাকবেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসিনার পতনের পর থেকে গুপ্তদের পক্ষ নিয়েছে। তাদের সরাতে গেলে তারাতো সমস্যা করবেই। তারপরও তাদের সরাতে হবে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একটি উদাহরণ, ”১৯-২৫ মে ২০২৬ ভূমি সেবা মেলা, অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু কী চরম অব্যবস্থাপনা, সবাই সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে কারণ সার্ভার ডাউন।” সরকারের সব ভালো উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীই যথেষ্ট।

মন্তব্য করুন