যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদ: সবার নজরে দুই প্রবীণ নেতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবীণ দুই নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা। ফলে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর অনেকেরই নজর এখন এ দুই নেতার দিকে। প্রবীণ এ দুই নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে জনমনে। আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. মঈন খানকে সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করা হতে পারে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন-এমন অধিকাংশ বিএনপি ও শরিক দলের নেতা মঙ্গলবার গঠিত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ করা হয় উপদেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে দেখা যায়, বিএনপির প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই নেতাই কেবল সরকারের বাইরে আছেন। ফলে তাদের কোথায় রাখা হবে, সে আলোচনা শুরু হয় বিএনপির পাশাপাশি অন্য দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও।
সূত্র জানায়, দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই ওই দুই নেতার বাসায় গিয়ে আগাম শুভেচ্ছাও জানান। খন্দকার মোশাররফকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি এবং মঈন খানকে সম্ভাব্য স্পিকার হিসাবে টেলিফোনে অনেকে জানান আগাম শুভেচ্ছা। তবে দুই নেতার ঘনিষ্ঠজনরা যুগান্তরকে জানান, মন্ত্রিসভা গঠনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ধারণা করছেন, প্রবীণ দুই নেতাকে সংসদ ও সরকারের সম্মানজনক জায়গায় রাখা হবে। অবশ্য ওই দুই নেতার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারা কিছুই জানেন না বলেও উল্লেখ করেন কর্মী-সমর্থকদের কাছে। প্রবীণ দুই নেতাই বর্তমানে গুলশানের বাসায় রয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো কোনো দায়িত্ব পাননি। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও ২ আসন থেকে মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দল তাকে রাষ্ট্রপতির সম্মানজনক পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলেও ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পান। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরালো আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমানিত বোধ করছেন’। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
অন্যদিকে, শপথ গ্রহণের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। বিদায়ি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবার সভাপতিত্বে করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যেভাবে : বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুতর কোনো অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।
মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ কিংবা অভিশংসনজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে এই নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ-সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে কারও বয়স ৩৫ বছরের কম এবং সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এখন দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ-সদস্যদের ভোটে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের সিইসি ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাতদিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবে।
প্রথম আলো
‘নতুনদের কাঁধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। তবে এবার অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রথমবারই দায়িত্ব পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের। আবার জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে এনে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে। ফলে তাঁদের কাজের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
অবশ্য সরকার–ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিমন্ত্রীদের কাজ হয়তো ভাগ করে দেওয়া হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা (প্রধানমন্ত্রীসহ) যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথমবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ৪১ জন। গতকাল বুধবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক ও সেতু, রেল, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ কিছু মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এসব মন্ত্রণালয়ে বার্ষিক বাজেটে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হতো। উন্নয়ন প্রকল্পও ছিল অনেক। গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিটির জন্য আলাদা মন্ত্রী রাখা হতো। কিছু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী না থাকলেও প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতো।
এবার কিছু ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর অধীনে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। আবার মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকারও নজির তৈরি হয়েছে।
বড় দায়িত্ব দিয়ে শুরু
টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রথমবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন আমিন উর রশিদ। তিনি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতে এসব মন্ত্রণালয় আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সামলেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অতীতে জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন।
এই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), যিনি এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন।
ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর অধীনে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিগত বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই তিনটি মন্ত্রণালয় ছিল। পৃথক পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন, যাঁর দায়িত্বে থাকতেন জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এই তিন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেকগুলো বিভাগ ও অধিদপ্তর রয়েছে।
নতুন সরকারে এই তিন মন্ত্রণালয়ের জন্য দুজন প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। তাঁরা হলেন হাবিবুর রশিদ ও রাজীব আহসান। তাঁরা দুজন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। একজন মন্ত্রীর অধীনে দুজন প্রতিমন্ত্রীর নজির বিরল।
পুরো সিলেট বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। দুজনই সিলেট জেলা থেকে। তাঁরা হলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী। দুজনই এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে আরিফুল হক চৌধুরী অতীতে দুবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন।
আবদুল মুক্তাদীর শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। নিকট অতীতে এই তিন মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা মন্ত্রী সামলেছিলেন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, নিত্যপণ্য, শিল্প বিস্তার ও বস্ত্র খাত দেখার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয়গুলোর। এই তিন মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের শরিফুল আলম। তিনি এবার প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব রকম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোর-জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের এক দিন পর গতকাল বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তথা দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।’
দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যেন না যায় সে জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহবান : তারেক রহমান বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) থেকে সারা দেশে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান।
আমি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাই। রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আমার আহবান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।’
সমকাল
‘ছয় মাস পর মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগামী ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকের পর সচিবদের সঙ্গে সভা করেন তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সভার সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয় তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন তাঁর নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়। এর বাইরে পাঁচজন মন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। গতকালের বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও ১০ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান সবাইকে সততার সঙ্গে কাজ করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না বলেও সতর্ক করেন। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা এক করে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হবে। এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনাও দেন তারেক রহমান।
কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা, রমজান সামনে রেখে সাহ্রি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে রোজা ও ঈদের আগে-পরে যাতায়াত ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ বাধাবিঘ্নহীন ও আনন্দদায়ক করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়কের অবস্থা কী, কোথাও সমস্যা থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে; যাতে ঈদযাত্রায় কারও ভোগান্তি না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা সাজাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আলাদা দিকনির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা খুব শিগগির, এক-দুই দিনের মধ্যে, তাদের কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী। সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক মন্ত্রীর কর্ম, পরিকল্পনা, সততা, কাজের গতি সরাসরি তিনি তদারকি করবেন বলেও সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন, কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। আমরা এবার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন, জনগণ আমাদের ইশতেহারের ওপর সমর্থন দিয়েছে। সুতরাং যেটি জনগণের ইচ্ছা সেটিই প্রাধান্য পাবে। সে হিসেবে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্তরিক হবেন। সবাইকে আমরা বলেছি, কার কী অ্যাফিলিয়েশন আছে সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মানুষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথম বারের মতো সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের ইশতেহারের ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছেন। সুতরাং যেটা জনগণের ইচ্ছা, সেটাই প্রাধান্য পাবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে জনগণের স্বার্থে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সব মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী। দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সেই বিষয়েও। সরকারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হিসেবে পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা এবং গ্যাস-বিদ্যুত্ নিরবচ্ছিন্ন রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময়। এছাড়া ঈদে মানুষের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
বৈঠকের পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথামাফিক সরকারের প্রথম দিনে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সব সদস্য বসেছিলেন। বৈঠকে উপদেষ্টারাও ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন। সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে। সেটি পরে জানানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা এবং বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে (গ্যাস-বিদ্যুত্) যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা রয়েছে। এগুলো হলো অগ্রাধিকার।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি বলেন, ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করবে সরকার। এ সময়ের মধ্যে গৃহীত কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রমজানে যেন স্বস্তিদায়ক পরিবেশ থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম কমিশনের প্রস্তাবও হাতে আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা হবে।
বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে সে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, দুর্নীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে দৃশ্যমান কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নয়া দিগন্ত
‘নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রশাসনিক গতি ও নীতিগত অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও বৈঠক সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সরকার প্রাথমিকভাবে তিনটি জরুরি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
শপথের পরদিনই এমন দ্রুত কার্যক্রম সরকারের তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবেলা ও জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম বৈঠক : তিন অগ্রাধিকার, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের জন্য একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘœ না ঘটানো।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রথম দায়িত্ব মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বস্তিদায়ক করা। দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন তাৎক্ষণিক লক্ষ্য।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সামনে পবিত্র রমজান থাকায় ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দু-এক দিনের মধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন।
সচিবদের প্রতি নির্দেশনা : ‘অ্যাফিলিয়েশন নয়, মেধাই বিবেচ্য’
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সব সচিবের সাথে আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন জনগণ নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে রায় দিয়েছে, তাই সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন, “কে কোন দলের, কার কী সম্পৃক্ততা- এসব নয়, কাজের ক্ষেত্রে মেধা ও পেশাদারিত্বই হবে একমাত্র মানদণ্ড।”
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদও জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের সমন্বিত ও পেশাদার ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা চেয়েছেন।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট বিএনপি সরকারকে বড় পরীক্ষায় ফেলবে’। খবরে বলা হয়, দেশের বিদ্যুৎ খাতে এ মুহূর্তে বকেয়া ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে রয়েছে বড় সরবরাহ ঘাটতি। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের অব্যাহত লোকসান পিছু ছাড়েনি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। এদিকে চলমান সেচ মৌসুম ও রমজান মাস শুরু হয়েছে। আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে অনেক গুণ। সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া জটিলতা সামলানো, আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ সংকট মোকাবেলা বিএনপি সরকারকে বড় পরীক্ষায় ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল আঠারো মাস। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও কার্যত তার সেসব উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক লোকসান কমাতে পারেনি। বিশেষ করে বিদ্যুতের ট্যারিফ সংশোধন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও ক্যাপাসিটি চার্জ হ্রাস করা যায়নি। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিদ্যুতের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আর্থিক লোকসান বেড়ে গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত নতুন সরকার গতকাল প্রথম কর্মদিবসে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। তিনটি অগ্রাধিকারের একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথামতো সরকারের ১০০ দিনের কী কী অগ্রাধিকার থাকবে, সেগুলো নির্ধারণ করতে হয়। আমরা ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যাতে কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা—এগুলোই সরকারের অগ্রাধিকার হবে।’
এদিকে, সরকারের প্রথম কর্মদিবসে গতকাল সচিবালয়ে অফিস করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনই এ খাতের আর্থিক ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রমজান এবং সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করাকে প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ যদি রমজানের আগে পরিশোধ করা না হয় তবে তাদের পক্ষে পাওয়ার প্লান্ট পরিচালনা করা কঠিন হবে—এমনটি জানিয়ে উপস্থিত এক সংবাদকর্মী মন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চান। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ প্রসঙ্গে বলেন, বিপ্পা যদি এমনটা বলে থাকে তবে তা নতুন সরকারকে ব্ল্যাকমেইলের শামিল হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বেশকিছু দায় পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও আদতে আর্থিক চাপ ও লোকসান সে অর্থে কমানো যায়নি।
দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক লোকসানের বড় কারণ অপ্রয়োজনীয় ও নির্মাণাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন। এসব কারণে অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএনপি সরকারও বিদ্যুৎ খাতের এসব প্রকল্প দক্ষতার ভিত্তিতে বিবেচনায় না নিলে এ খাতের চাপ কমবে না।
আজকের পত্রিকা
‘মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক:দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুতে অগ্রাধিকার’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এসব অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে এই বৈঠক হয়।
মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও নেবে সরকার। এ লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিকল্পনা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সবার আগে কীভাবে ফ্যামিলি কার্ড মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সচিবদের নির্দেশনা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বিএনপি গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করে। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে যান। বেলা ৩টায় ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময়। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে। সেটি পরে জানানো হবে। সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা রয়েছে। এগুলো হলো অগ্রাধিকার।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘তদবির করলেই পুলিশে বদলি-নিয়োগ বাতিল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতির ও উন্নতির উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। পুলিশকে জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক করা, তাদের ভালো কাজের মূল্যায়ন করা, অহেতুক কাউকে হয়রানি না করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বা সদস্যের ভালো স্থানে বা লোভনীয় পদে নিয়োগের তদবির করা হলে তা বাতিল করে দিতে সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ওই সূত্রটি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার ও র্যাব মহাপরিচালক নিয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অন্তত ১৫ জন পুলিশ কর্তা। পুলিশপ্রধান ও ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বিসিএসের ১৫তম ও ১৭তম ব্যাচের দুই কর্মকর্তাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম পর্যালোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন, যারা যোগ্য, তেলবাজ নয় ও দুর্নীতিমুক্ত এবং পেশাদার তাদের যোগ্য স্থানেই নিয়োগ করার। তিনি চান, তোমাষোদকারীরা যেন ভালো স্থানে না থাকে; দলমত নির্বিশেষে দেশের জন্য কাজ করে; জনগণকে নিরাপদে রাখে এবং বাংলাদেশকে অপরাধমুক্ত করে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্দেশনা আমরা মানতে প্রস্তুত। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আজ (গতকাল) বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তদবিরে পুলিশে বদলি বা নিয়োগ না হোক। প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে ঢেলে সাজাবেন। আগামী সপ্তাহেই পুলিশপ্রধান, ডিএমপি কমিশনার ও র্যাব মহাপরিচালকের পদে নতুন কর্মকর্তা আসছেন। অনেক কর্মকর্তাই নিজেকে বিএনপির একান্ত সমর্থক হিসেবে দেখাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিবেচনায় নেবেন না।
গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন একান্ত সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশে পদোন্নতি ও দায়িত্ব দেওয়া হবে। পুলিশে তদবির-বাণিজ্য হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘আইনের শাসনই হবে শেষ কথা’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতিনিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এ বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বাজারব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা, যোগাযোগব্যবস্থা, জুয়া, মাদক ও যানজট নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এ সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান। তিনি আরও বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা-গ্রহীতা, এই সরকার সবারই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।
তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান তথা দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সারা দেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
বাজার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। তিনি বলেন, সারা দেশে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।
