মালয়েশিয়ার তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির মামলা

মালয়েশিয়ার তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির মামলা

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিকম মালয়েশিয়া (টিএম)-এর মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের তিন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এই অভিযোগ নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন- মোহদ হাফিজ লোকমান, মোহদ ইউজাইমি ইউসুফ এবং খান্থ থুওং নগুয়েন। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা মিথ্যা তথ্য ও জাল দলিলের সাহায্যে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং সরবরাহকারী, নিরীক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেমস সি. বার্নাকল জুনিয়র বলেছেন, অভিযুক্তরা নিজেদের আর্থিক সুবিধার জন্য কর্পোরেট রেকর্ড জাল করে পরিকল্পিতভাবে এই আত্মসাতের ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহদ হাফিজকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর দুইজন গত মাসে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড কনস্পিরেসি, ওয়্যার ফ্রড এবং অ্যাগ্রাভেটেড আইডেন্টিটি থেফটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা কোম্পানির কোটি কোটি ডলার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছেন। এক ক্ষেত্রে মূল প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে আট টেরাবাইট ক্যাপাসিটি বিক্রির অনুমোদন নেয়া হয়, অথচ প্রকৃতপক্ষে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ছয় টেরাবাইট। বাড়তি দুই টেরাবাইট একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এছাড়া ক্যাবল ক্রয়ের খরচ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর মাধ্যমে প্রায় ২৯ লাখ ডলার নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়। কাল্পনিক কর্মসফরের ব্যয় প্রতিদান দাবি করা হয় এবং কর্মী ও ইন্টার্নদের পরিচয় জালিয়াতি করে তাদের বেতন আত্মসাৎ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একবার এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া ব্যক্তিকে দিয়ে মানবসম্পদ বিভাগকে প্রতারণা করা হয়।

টেলিকম মালয়েশিয়া জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর এই তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেই স্বেচ্ছায় এই অপরাধমূলক কার্যক্রম ডিওজে-কে জানানোয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন