পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষের শিরচ্ছেদে ১ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশের সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার (পুরসভা) চেয়ারম্যান ও বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিতের এই সংক্রান্ত একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সোরগোল তৈরি হয়েছে। বছর দশেক আগে ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো’র ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করে জোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সায়নী। পরবর্তীতে একাধিকবার সেই ইস্যু ‘অভিশাপে’র মতো ফিরে ফিরে এসেছে সাংসদ-অভিনেত্রীর জীবনে। এবার সংশ্লিষ্ট বিতর্ক টেনে হিন্দু ভাবাবাগে আঘাতের দাবি তুলে সায়নী ঘোষের শিরচ্ছেদ করতে পুরস্কার ঘোষণা করেন উত্তরপ্রদেশের ওই বিজেপি নেতা।
শিবের বিরুদ্ধে অবমাননাকর পোস্ট নিয়ে যদিও অভিনেত্রী-সাংসদ সাফ জানিয়েছিলেন, সেসময়ে তার এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করা হয়েছিল। তৎসত্ত্বেও বারবার এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। এবার সেই বিষয়টি নিয়েই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দারাবাদে গত রবিবার এক প্রতিবাদ সভার ডাক দেয় হিন্দু সংগঠনগুলি। যেখানে বলা হয়, সায়নীর মন্তব্য হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করেছে।
এবার সে বিষয়েই বিজেপি সরকারের উদ্দেশে তোপ দেগেছেন যাদবপুর থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষ। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ট্যাগ করে সায়নী ঘোষ লিখেছেন, আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত যে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদের এক পুরপ্রধান তথা বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে আমার মাথা কেটে আনার জন্য ১ কোটি রুপির পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সায়নী প্রশ্ন করেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যের একজন বিজেপি জনপ্রতিনিধির একজন নারী তথা বর্তমান সংসদের মাথা কাটার ফতোয়া জারি করাই কি আপনাদের ‘নিউ ভারত’-এর ‘নারী শক্তি বন্দন’ প্রকল্পের আসল রূপ ?
নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করার দাবিও জানিয়েছেন সায়নী ঘোষ। নেত্রী-অভিনেত্রীর কথায়, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিনিধিত্বকে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেখানে একজন নির্বাচিত নারী সাংসদকে খোদ আপনারাই প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিচ্ছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে খুন করার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার আর্জি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ওই বিজেপি নেতার উদ্দেশে সায়নীর চ্যালেঞ্জ, তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন, বরং এযাবৎকাল সংসদের ভিতরে-বাইরে যেভাবে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলে এসেছেন, বরাবরের মতো সেটাই করবেন।
