বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে গণশুনানি চলছে। শুনানি চলবে আগামীকালও। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এই গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গণশুনানিতে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল,ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ আরও অনেকে উপস্থিত আছেন।
গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন চলছে। এতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে বর্তমানে বিদ্যমান বাল্ক মূল্যহার প্রতি ইউনিট ৭ দশমিক শূন্য ৪ টাকা, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বিদ্যমান বাল্ক ট্যারিফ অনুযায়ী বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আয় হবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেছেন, এই মুহূর্তে মূল্যহার পরিবর্তন মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো অবস্থা হবে। সুতরাং আমি বলবো বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এই চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে।
বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনে বিইআরসি কর্তৃক গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সংগঠনের পক্ষে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে আমরা যে কম্পিটিটিভনেসটা হারাচ্ছি, যদি এই মূল্য আবার বৃদ্ধি করা হয় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা যারা শিল্পখাতে আছি, আমরা প্রতিযোগিতা হারাবো।
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে এক্সপোর্টের যে নিম্নগতি, বিগত কয়েক মাস যাবতই আমাদের এক্সপোর্ট কমে যাচ্ছে। একসময় আমরা এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলাম। এটা কিন্তু আস্তে আস্তে নিচের দিকে যাচ্ছে। চায়নার পরে বাংলাদেশ ছিল, এটা কিন্তু আমরা হারিয়ে ফেলবো। আমি বলবো যে, কোন অবস্থাতেই মূল্যহার বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
