দুই স্কুলের ১৪১ শিক্ষকই ‘ভুয়া’

সহযোগীদের খবর

দুই স্কুলের ১৪১ শিক্ষকই ‘ভুয়া’

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

দুই স্কুলের ১৪১ শিক্ষকই ‘ভুয়া’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের খবর উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৪১ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ। তাদের কেউ করেছেন অনার্স পাশ সনদ জালিয়াতি, আবার কেউ দেখিয়েছেন ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, আবার অনেকে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ এবং এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ১৩৩ জন। এর মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক হয়েছেন ৬৮ জন। এছাড়া অবৈধভাবে ইচ্ছেমতো বেতন-ভাতা নেওয়া, কেনাকাটায় অনিয়ম, হিসাব জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের নিয়োগ অবৈধ হিসেবে প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। যার একটি কপি ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ এবং সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতিসহ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত দেড় হাজার শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত হয়েছে। এসব শিক্ষককে শোকজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাল সনদধারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যা এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইএ পরিচালক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, জাল সনদধারী সব শিক্ষককে চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত হয়েছে তো অল্প একটা অংশ। হয়তো এর পেছনে আরো অনেক রয়ে গেছে। জানা গেছে, জাল সনদের বিষয়টি তদন্তাধীন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষকদের জাল সদদের বিষয়টি লজ্জাজনক। শুধু যারা জাল সনদ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না, এই সনদের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে। সেই সঙ্গে এদের যারা নিয়োগ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনি ব্যবস্থা।

শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় অবহেলা করে কিংবা বাইরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সনদগুলো যাচাই না করার কারণে এসব হয়েছে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময় কেন সনদ যাচাই হয়নি—সে বিষয় খুঁজে বের করে জড়িতদেরসহ সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আরো যত অনিয়ম: রাজধানীর বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অবস্থান। ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন মোল্লা এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলুয়ার হোসেন ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দ্বিগুণ হারে উত্সব ভাতা গ্রহণ করেছেন। সাহাব উদ্দিন মোল্লা অবৈধভাবে বেসরকারি বেতন বাবদ ৯৭ লাখ টাকা এবং দেলুয়ার হোসেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা নিয়েছেন, যা ফেরতযোগ্য। এছাড়া দেলুয়ার হোসেনের নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় আরো প্রায় ৩৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অবৈধভাবে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ফেরত নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষিত তহবিলের সনদ যাচাইয়ে দেখা যায়, ফার্স্ব ফিন্যান্স লিজিং কোম্পানিতে ৫ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৬ টাকা, পিপলস লিজিং কোম্পানিতে ২ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৪৯ টাকা এবং এবং জিএসপি ফিন্যান্স কোম্পানিতে ৪ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়েছে; যা বিধিসম্মত হয়নি। বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উত্তোলন করে বিধি মোতাবেক তপশিলি ব্যাংকে এফডিআর করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির জেনারেটর ও লিফট কেনা এবং বিভিন্ন মেরামতকাজ, অভিভাবক শেড নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে ডিআইএ। ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে ভাড়া পেলেও সেসংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের জন্য কেনা পাঁচটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সময় দেড় লাখ টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সভাপতির ছেলে শেখ এমরানুল আলম ২০২৩ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪২ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা অবৈধভাবে নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির কোচিং বাবদ আদায় করা টাকার রসিদ, টাকা ব্যয়ের রেকর্ড পরিদর্শনকালে সরবরাহ করা হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলুয়ার হোসেনকে মোবাইলে একাধিক ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বনপাড়া স্কুলে ৭৩ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় ৬১ জন শিক্ষকের সবারই নিয়োগ অবৈধ। অন্যদিকে স্কুল শাখা ১২ শিক্ষকের নিয়োগের অবৈধ। ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তার পরিবারের ১১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের সবারই সনদ জাল। এর মধ্যে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, শ্যালকের স্ত্রী, চাচাতো ভাইবোন; বাদ পড়েননি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িচালকও। এমনকি অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকেরই সব সনদ জাল। শিক্ষক নিয়োগে ইমদাদুল হক নিয়েছেন ঘুষ। নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের বেতন-ভাতার একটা অংশও নিয়ে নিতেন তিনি। নিয়োগ পাওয়া এই ভুয়া ব্যক্তিদের দেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগারের ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ফেরত আনতে সুপারিশ করেছে ডিআইএ। আর ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইমদাদুল হকের স্ত্রী ইসমেতারাকে অফিস সহায়ক, ছেলে ইমরুল হাসান কায়েস ল্যাব সহকারী, ছেলের বউ সুস্মিতা আক্তার জেরিনকে ল্যাব সহকারী, মেয়ে ইসরাত জাহানকে ল্যাব সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া বোন আসমা খাতুনকে কৃষিশিক্ষার সহকারী শিক্ষক, বোনের জামাই আজিজুল হককে বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক, শ্যালকের স্ত্রী শেফালি খাতুনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইমদাদুল। চাচাতো ভাই কামরুল ইসলামকে ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক এবং চাচাতো বোন শাহনাজ পারভীনকে নিয়োগ দেন প্রভাষক হিসেবে। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালকও এই নিয়োগ থেকে বাদ যাননি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলো

‘হাওরে চালের ক্ষতি ২ লাখ টন, দাম বাড়ছে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হাওরে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির পরিমাণ চালের হিসাবে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন, যা বোরো মৌসুমের মোট উৎপাদনের ১ শতাংশের মতো। কিন্তু বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চালের দাম আবার বাড়ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন–চার দিনে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরায় এখনো এর প্রভাব পড়েনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো দেশের চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুম। এ মৌসুমের শুরুতে সাধারণত চালের দাম কমে। এবারও কমছিল। তবে কমার ধারা স্থায়ী হয়নি। দাম আবার বেড়ে যাচ্ছে।

২০১৭ সালেও বৃষ্টি, আগাম বন্যা ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরে ফসল তলিয়ে গিয়েছিল। তখন চালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন (২০১৭) বলছে, ওই বছর বোরো মৌসুমে চালের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২০ লাখ টন। অন্যদিকে বন্যায় আমনেরও ক্ষতি হয়। আমনে ১৫ লাখ টন চাল কম উৎপাদিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মোটা চালের দর কেজিতে ওঠে ৪৮ টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ টাকা বেশি ছিল। দেশের ইতিহাসে এ মূল্যবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ।

চাল দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। এর দাম বাড়লে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তরা। ২০২০ সালের পর থেকেই দেশে চালের দাম চড়া। বিগত সময়ে দাম কমাতে নানা চেষ্টা হয়েছে। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দাম কাঙ্ক্ষিত হারে কমেনি।

এবার বোরো মৌসুমের শুরুতে বেশি পরিমাণে চাল উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু মৌসুমের মাঝখানে ডিজেলসংকটে সেচ বিঘ্নিত হওয়া এবং শেষ দিকে বৃষ্টি ও ঢলে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতি কতটা

ক্ষতি কতটা, তার একটি হিসাব করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। তাদের তথ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত ৯ দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষি কৃষক।

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া—হিসাব এই সাত জেলার। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে নেত্রকোনায়। ক্ষয়ক্ষতির তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ।

হাওরের বাইরে বিভিন্ন জেলায় অতিবৃষ্টির কারণেও ধানের কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে তার হিসাব হয়নি। মৌসুম শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) উৎপাদনের হিসাব করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।

হাওরে মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে এবার বোরো মৌসুমের ধান চাষ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৪৯ হাজার হেক্টর, যা হাওরের মোট জমির প্রায় ১১ শতাংশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হাওর অঞ্চলের কৃষিজমিকে পানিপ্রবাহ ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করেছে। উজান অববাহিকা (আপার বেসিন), মধ্য অববাহিকা (মিডল বেসিন) ও ভাটি অববাহিকা (লোয়ার বেসিন)। অধিদপ্তরটি বলছে, হাওরের মোট কৃষিজমির ৩০ শতাংশ ভাটি অববাহিকায়। এখানে ধান চাষ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি তিন–চার বছর পর অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যার ঝুঁকি থাকে এখানে।

অধিদপ্তরের সরেজমিন শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর এ ধরনের বন্যা বা আগাম বৃষ্টি হয়নি। এবার হাওর থেকে পানি নামতে দেরি হওয়ার ধান চাষ শুরু হয়েছে ১০ থেকে ১২ দিন দেরিতে। অন্যদিকে আগাম বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে পাহাড়ি ঢল। সবমিলিয়ে এবার ক্ষতি হয়েছে কৃষকের।

এদিকে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জনপ্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে মোট ১৭৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে হিসাব করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে অধিদপ্তরের সরেজমিন শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। ত্রাণ মন্ত্রণালয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।’

বিষয়টি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুন আখতার (দুর্যোগ পূর্বাভাস, সাড়াদান ও সমন্বয়) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ মাস থেকে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি শুরু করব। মে, জুন ও জুলাই—এ তিন মাস এটি অব্যাহত থাকবে।’

দাম বাড়ছে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমের ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য ২ কোটি ২৭ লাখ টন। দেশের ধান উৎপাদনের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। বিবিএসের হিসাবে, গত বোরো মৌসুমে দেশে ২ কোটি ১৩ লাখ টনের কিছু বেশি চাল উৎপাদিত হয়েছিল।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রেজা প্রথম আলোকে বলেন, বোরো মৌসুমে চালের দাম কমে। এবারও অনেকটা কমছিল। সেটা এখন বাড়ছে।

একই কথা বলেন পুরান ঢাকার বাবুবাজারের চালের আড়ত শিল্পী রাইস এজেন্সির মালিক কাওসার রহমান। তিনি বলেন, নতুন চালের চাহিদা সাধারণত কম থাকে। পাইকারিতে সপ্তাহখানেক আগে আসা সরু চাল পুরোনো চালের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল। এখন আবার কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। একই রকমভাবে কমেছিল মোটা ও মাঝারি চালের দরও। এখন আবার সব ধরনের চালের দাম ২ থেকে ৫ টাকা বাড়তি।

বাবুবাজারে নতুন মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫-৪৬ টাকা, পাইজাম ও বিআর-২৮ চাল ৫১-৫২ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬৬ টাকা ও নাজিরশাইল মানভেদে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি মানভেদে ৪৮ থেকে ৬০ টাকা। মাঝারি চালের দাম ৫২ থেকে ৬৮ টাকা। সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা।

কয়েক বছর ধরে চালের দাম চড়া। কম ছিল ২০২০ সালের শুরুতে। টিসিবির হিসাবে, ২০২০ সালে ১ জানুয়ারি মোটা চালের কেজি ছিল ৩০-৩৫ টাকা। মাঝারি চাল ৪০-৫০ টাকা ও সরু চাল ৪৫-৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। অবশ্য ওই বছর মার্চ থেকে দাম বাড়তে থাকে।

আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, বললেন মাহফুজ আলম। প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম। খবরে বলা হয়,

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে এই অভিমত দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’

এরপরে আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরেছে, তার বিরাট একটি তালিকা তুলে ধরেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরিণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

এ ছাড়া মাজারে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব না হওয়াও আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম করেছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল।’

এ ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তাঁর ভাষায়, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকু৵লার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল।’

এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও * অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও * ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরিণ।’
মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরিণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’

আরও যেসব বিষয় আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে, তার তালিকায় মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ।’

মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এন্ড বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবু৵নাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’ এই তালিকা আরও বাড়বে বলে পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন মাহফুজ আলম।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘চাঁদাবাজির হাট’ রাজধানীর কাওরান বাজার: এ যেন সোনার ডিম পাড়া হাঁস। খবরে বলা হয়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়, রাজপথের স্লোগান বদলায়; কিন্তু কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি বদলায় না। শুধু টাকার অঙ্ক বাড়ে আর ক্যাশিয়ারের চেহারা পরিবর্তন হয়। কাওরান বাজার যেন অপরাধচক্রের ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই পাইকারি বাজারের চাঁদাবাজির ইতিহাস মূলত ঢাকার অপরাধজগৎ, রাজনীতি এবং অর্থনীতির এক সমান্তরাল দলিল। প্রায় চার দশক আগে এখানে যে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছিল স্রেফ ‘লাঠিয়াল’ বাহিনীর পেশিশক্তির জোরে, ২০২৬ সালে এসে তা রূপ নিয়েছে একটি সুনিপুণ, প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধচক্রে। ৩০ বছর আগে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এখানে চাঁদার হার ছিল ট্রাকপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা।

লাইনম্যানরা সেই টাকা তুলতেন মূলত ঝাড়ুদার বা রাতের পাহারাদারদের নাম করে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। বছরের পর বছর আলোচনায় রয়েছে এখানকার চাঁদাবাজি। বিষয়টি সোমবার ফের সামনে এসেছে সরকারি দল ও বিরোধী দলের দুই সংসদ-সদস্যের বাহাসে। এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, কাঁচা টাকার প্রভাবে স্থানীয় সংসদ-সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন নিজেই খুন হতে পারেন বলে যুগান্তরের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন দাবি করেন, তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১২-এর অন্তর্ভুক্ত কাওরান বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। তিনি বলেন, যে সরকার পালিয়ে গেছে, আগে সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানেও সরকারি দল চাঁদাবাজি করছে। এ সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য মাহমুদা হাবীবা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না।’ জবাবে সাইফুল বলেন, সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে পুলিশ চাঁদাবাজির মামলা নেয় না।

রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের এ দুই সংসদ-সদস্যের বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়, যা মঙ্গলবারও ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি।

এ বিষয়ে সংসদ-সদস্য মাহমুদা হাবীবা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজির মতো বিষয়ে কেবল মুখে না বলে আইনি পথে হাঁটা প্রয়োজন। দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে এই নেত্রী জানান, তাদের দল সব সময়ই চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দল থেকে অনেককে বহিষ্কার করার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমাদের দল কোনো দুষ্টু লোকদের আশ্রয় দেয় না। দল শক্তিশালী হলে কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ ঢোকার চেষ্টা করে, তবে দলীয় প্রধানের অবস্থান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে দলীয় ফোরামে নিয়মিত আলোচনা করা হয়। এটি প্রতিরোধে সর্বাত্মক সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ-সদস্যের মর্যাদা অনেক উঁচুতে। তাকে কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলতে হলে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়া উচিত। তারা যখন শুধু আলোচনার টেবিলে বা টকশোতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন, তখন তা কেবলই রাজনৈতিক অজুহাতে রূপ নেয়।

কালের কণ্ঠ

ঈদযাত্রায় ভোগাবে যানজট!-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ঢাকা থেকেই কমপক্ষে এক কোটি যাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে। তবে ঈদে যাত্রীদের প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে।

এবার ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি মহাসড়কে কমপক্ষে ৯৪টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়ক পুলিশ, পরিবহন সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিকল হয়ে পড়া, পশুবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের চলাচলে ব্যবস্থাপনার অভাব, মহাসড়কে পশুর হাট বসানো ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া এবং ভাঙাচোরা অংশ মেরামত না হওয়ায় এসব মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যানজট নিরসনে ব্যবস্থাপনা জোরদার ও সমন্বয় বাড়ানো না হলে যানজট থেকে রেহাই মিলবে না।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক কণ্ঠকে বলেন, ঈদযাত্রায় আগের চেয়ে যানজট কম হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বাংলাদেশ অটোরিকশা, অটো টেম্পো, ট্যাক্সি কার চালক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার বাহন অবাধে চলাচল করছে। এসব বাহনের কারণে সাধারণ সময়েও যানজট হচ্ছে বিভিন্ন মহাসড়কে। ঈদযাত্রায় অটোরিকশা ছাড়াও মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহায় পশুবাহী গাড়ির চাপও থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত গাড়ির চলাচলে সব সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ সময়ে গাড়ি চলে ৩৫ হাজার, ঈদযাত্রায় বেড়ে হয় প্রায় ৬০ হাজার। ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২২ হাজার থেকে বেড়ে ঈদযাত্রায় গাড়ি বেড়ে হয় ৬৪ হাজার।

ঈদুল আজহায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এরই মধ্যে সরকার সব সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সভা করেছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বয়ে সামান্য ঘাটতির কারণে যানজটের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে যানবাহনের চাপ ভিন্ন ধরনের হয়। একদিকে মানুষ ঢাকা ছাড়ে, অন্যদিকে পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ঢাকামুখী হয়। ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়তি ফোর্স মোতায়েন ও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রী ওঠানামা বেশি হয়, সেখানে কন্ট্রোলরুম থাকবে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কে প্যাট্রলিংও বাড়ানো হবে।’

মহাসড়ক পুলিশের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের সাতটি মহাসড়কে যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২৫, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুরে ২৫, ঢাকা-সিলেটে ২১, ঢাকা-ময়মনসিংহে সাত, ঢাকা-আরিচায় সাত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আট এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঈদযাত্রার আগেই যানজট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

একাধিক বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ঈদযাত্রায় শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই দেড় কোটির বেশি যাত্রী বাড়িমুখো হয়ে থাকে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ২৪ মে অফিস শেষে শুরু হবে সরকারি ছুটি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘দুবাইয়ে এক চক্রের কাছে জিম্মি ১৪ বাংলাদেশি নারী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বাভাবিক যে কোনো মানুষ রাতে ঘুমায়। কিন্তু তিনটি বছর রাতে ঘুম নেই আমার। প্রতিদিন রাত ৮টার সময় দুবাইয়ে বাসার সামনে মাইক্রোবাস আসত। যে কয়েকজন বাসায় থাকতাম, সবাইকে ডান্স ক্লাবে নিয়ে যেত। কখনও ১২-১৫ জন, কখনও আরও বেশি থাকতাম। সবাই বাংলাদেশি। ভোর পর্যন্ত ক্লাবে থাকতে হতো। বারে দেশি-বিদেশি যারা আসত, তাদের খুশি করতে না পারলে মালিকের নির্যাতন সইতে হতো। ঘুমাইতে দিত না। প্রতিদিন বাসায় ফেরার পর অনেক মেয়ে কান্নাকাটি শুরু করত। আমি চাই, শত্রুকেও যেন সেখানে নেওয়া না হয়।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইফেরত রুপালি (ছদ্মনাম) এভাবেই তাঁর জীবনের বিভীষিকার কথা সমকালকে বলছিলেন। ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা রুপালির মাধ্যমে দুবাইয়ে বাংলাদেশি তরুণী পাচার চক্রের খোঁজ সামনে এলো। দুবাইয়ে যেখানে রুপালি ছিলেন, সেখানে একই চক্রের কাছে জিম্মি আছেন বাংলাদেশি ১৪ তরুণী। তাদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে। রুপালি তাঁর জীবনের দুর্বিষহ বর্ণনা তুলে ধরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন।

গত ১৪ মে রুপালিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় পাচারকারী দলের অন্যতম সদস্য আব্দুল হান্নানকে। পাসপোর্ট ও বেতন বাবদ পাওনা ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করার প্রলোভন দেখিয়ে ওই দিন রুপালিকে আবার দুবাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

তিন বছর আগে রুপালিকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনে একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুবাইয়ের বিলাসবহুল শহরে নেওয়া হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২০। স্বপ্ন নিয়েই ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল দুবাই গিয়েছিলেন তিনি। তবে কাজের পরিবর্তে তাঁকে দেওয়া হয় ভ্রমণ ভিসা। লেখাপড়া কম থাকায় বিষয়টি ধরতে পারেননি রুপালি।

রুপালি সমকালকে বলেন, ‘তিন বছর আগে দুবাইয়ে বিমানবন্দরে নামার পরপরই আমার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আমাকে একটি বাসায় রাখা হয়। সেখানে ১০-১২ জন বাংলাদেশি মেয়ে ছিল। দু-একদিন যাওয়ার পর আমার কাজের বিষয়টি জানতে চাই। আগে থেকে যারা সেখানে ছিল তারা বলে, রেস্টুরেন্টের কোনো কাজ নেই। এখানে যারা আসে, সবাইকে ডান্স বারে কাজ করতে হয়। যাদের সঙ্গে আমাকে রাখা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলাম আমি। তাই আমার জন্য সবকিছু মেনে নেওয়া কঠিন ছিল।’

নিজের জীবন ও পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে রুপালি বলেন, ‘অনেক মেয়ের জীবন তো শেষ হয়ে গেছে। মানসম্মানের কথা ভেবে মুখ খোলে না। একবার নাম জানাজানি হয়ে গেলে দেশে ফিরে অন্য কোনো কাজ করে বেঁচে থাকব– এমন আশাও থাকে না। অনেকে খারাপ চোখে তাকায়। তবে আমি প্রতিবাদ করেছি; রুখে দাঁড়িয়েছি।’

রুপালি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে আমার মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। এরপর মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে সংকটে পড়ি। একসময় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে কানের দুল তৈরির কারখানায় সামান্য বেতনে চাকরি করতাম। মা বাসায় কাপড়ের ওপর পাথর বসানোর কাজ করতেন। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর বিদেশ যাওয়ার চিন্তা করি। তখন পাসপোর্ট করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের পারভেজ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা নেই। ভালো বেতনে চাকরির জন্য দুবাইয়ের ভিসা দিতে পারবে বলে আশ্বাস দেয় পারভেজ। বিদেশে গিয়ে সর্বনাশের শুরুটা পারভেজের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরেই। এরপর পারভেজের মাধ্যমে কুমিল্লার বাসিন্দা হান্নানের সঙ্গে পরিচয় হয়।’

বৈশাখী হলি ডে বিচ ক্লাব

রুপালির মাধ্যমে দুবাইয়ে বাংলাদেশি নারী পাচারের আন্তর্জাতিক যে চক্রের তথ্য সামনে এলো, তার কেন্দ্রে রয়েছে বৈশাখী হলি ডে বিচ ক্লাব। রুপালি ছাড়াও এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুবাইয়ের এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক কুমিল্লার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান। সে অধিকাংশ সময় দুবাই থাকে; মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসে। তার ভাগনে ইমরান ছাড়াও কয়েকজন ক্লাবটি দেখাশোনা করে।

রুপালি সমকালকে জানান, যন্ত্রণাদায়ক জীবন সইতে না পেরে কয়েকটি মেয়ে ওই ক্লাব থেকে পালিয়েছে। পাসপোর্ট আটকে থাকা ও বেতন না পাওয়ায় পালানোর সাহস করেননি তিনি। কারণ, পালাতে গিয়ে অনেককে দেশটির পুলিশের হাতে আটক হতে হয়। যেতে হয় কারাগারে।
রুপালি বলেন, দুবাইয়ে থাকাকালে মায়ের অসুস্থতা বা ঈদের সময় বেতন চাইলে ১০-১৫ হাজার টাকা দিত। পুরো বেতন চাইলে অন্যত্র বিক্রি করার ভয় দেখাত। অনেক আকুতির পর চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এর জন্য শর্ত দেওয়া হয়। ঢাকায় নেমেই পাসপোর্ট হান্নানের এক সহযোগীর কাছে দিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া কয়েক মাস দেশে থাকার পর আবার তাঁকে দুবাই ফিরে যেতে হবে।

রুপালি বলেন, ‘দুবাই থেকে ফেরার পর আমার পাওনা ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফায় দুই লাখ দিয়েছে। বাকি ১৬ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিচ্ছিল না হান্নান। ১১ মে হান্নান দেশে ফেরত এসে জানায়, দুবাইয়ে যাওয়ার টিকিট কাটা হয়েছে। দুবাই যেতে রাজি হলে পাওনা টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেবে। পাওনা টাকা ও পাসপোর্ট উদ্ধারের জন্য ১৪ মে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে বাধ্য হই।’

রুপালি বলেন, ‘দুবাইয়ে থাকাকালে পরিবারের সঙ্গে খুব কম যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো। কথা বলার সুযোগ দিলেও পরিবারের সদস্যদের কী বলছি, তা গোপনে রেকর্ড করা হতো।’

নয়া দিগন্ত

‘কোরবানির বাজারে স্বস্তি, আছে শঙ্কাও’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার প্রেক্ষাপটে এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির পশুর বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৮ মে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খামারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কয়েক বছর পর আবারো দেশে কোরবানির সংখ্যা কোটির ঘরে ফিরতে পারে।

তবে এই আশার মাঝেও বাজারজুড়ে বড় ধরনের শঙ্কা রয়েছে। পশুখাদ্য, শ্রমিক, বিদ্যুৎ, পরিবহন, ওষুধ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এখন খামারিদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খামারিদের আশঙ্কা- ন্যায্যমূল্য না পেলে আবারো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও চিন্তায় আছেন, শেষ পর্যন্ত কোরবানির পশুর দাম কোথায় গিয়ে ঠেকে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম এবার আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু বেশি রয়েছে।

প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি। অন্যান্য প্রজাতির পশু রয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৫টি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে বিদেশী গরু বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। তিনি বলেন, ‘খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ঠিকই, তবে অযৌক্তিকভাবে দাম যেন না বাড়ে সেদিকেও নজর রাখা হবে।’

তবে সরকারি হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত বিক্রি, অবিক্রীত পশুর সংখ্যা এবং হাটভিত্তিক বাস্তব তথ্যের ঘাটতি থাকায় সরকারি পরিসংখ্যান সবসময় বাজার বাস্তবতার সাথে পুরোপুরি মেলে না।

অবিক্রীত পশুর ভয় তাড়া করছে খামারিদের

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা এবারো খামারিদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, করোনার আগে দেশে বছরে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হতো। কিন্তু করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কা ও মূল্যস্ফীতির কারণে সেই সংখ্যা কমে যায়।

২০২১ সালে দেশে প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ পশু প্রস্তুত করা হলেও কোরবানি হয়েছিল ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। অর্থাৎ প্রায় ২৮ লাখ পশু অবিক্রীত থেকে যায়। গত বছরও প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি পশু বিক্রি হয়নি।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারো খামারিদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে- চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে আবারো লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, চাপে রাজস্ব আহরণ’। খবরে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ায় সামগ্রিক ভোগব্যয় কমেছে। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবির ভাব দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

চলতি মূলধন সংকটে উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির আয় ও মুনাফা কমে গেছে। একই সঙ্গে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে সরকারের রাজস্ব আহরণেও। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় গত বছরের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় কমেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের ৬৫ শতাংশের বেশি আসে পরোক্ষ কর থেকে। পরোক্ষ করের জোগানের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। উৎপাদকদের পণ্য বিক্রি ও ভোক্তার ভোগ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবে পরোক্ষ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে যায়।

সরকারের রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি শুল্ক বাবদ ৭ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কম। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাট খাতে ৩৬ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের চেয়ে দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানির বিপরীতে ভ্যাট বাবদ ১৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের চেয়ে ৪ শতাংশ কম। অবশ্য ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট বাবদ ২২ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে পরোক্ষ কর, বিশেষ করে আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। সাম্প্রতিক সময়ে এ দুই খাতেই রাজস্ব আহরণে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আমদানি শুল্ক আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় কমে যাওয়া এবং ভ্যাট আহরণেও প্রবৃদ্ধি না থাকা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতা বিরাজ করছে। আমদানি কমে যাওয়া, শিল্পোৎপাদনে ধীরগতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি রাজস্ব খাতে পড়ছে। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য যে মন্দা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা রাজস্ব আহরণে ধীরগতির অন্যতম কারণ।’

ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে না উল্লেখ করে ড. সেলিম রায়হান আরো বলেন, ‘সরকারকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও স্বচ্ছ করা, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদন ও বাণিজ্য খাতকে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আহরণ বাড়বে।’

দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদহার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ের ব্যয়েও। ফলে উৎপাদন, বিক্রি, বিনিয়োগসহ সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণের গতি কমে যাওয়াকে তারা অস্বাভাবিক মনে করছেন না। তারা মনে করছেন, বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর দিকে সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একদিকে মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে উচ্চ সুদহার—সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবাই খুব কষ্টে আছে। এখন ১৩-১৫ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালানো খুবই কঠিন। ব্যবসা ঠিকমতো চালাতে না পারলে কর দেব কীভাবে? সরকার সবসময় বলে, ১ কোটি ২০ লাখ টিআইএনধারী আছে, কিন্তু রিটার্ন জমা দেয় ৪০-৪৫ লাখ। তাই শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ালে হবে না, বরং করজাল বাড়াতে হবে। না হলে রাজস্ব বাড়ানো কঠিন হবে।’

আজকের পত্রিকা

‘শিশু স্বাস্থ্য: কমছে মাতৃদুগ্ধ পান, ভুগছে শিশুরা’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই’—এটি বিশেষ করে নবজাতক এবং ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা। মায়ের দুধ থেকে শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু দেশে ছোট শিশুদের একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার (শুধু মায়ের দুধ পান করা) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এই পতন শিশুর প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং পুষ্টিগত সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিস্তারেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মত দিয়েছেন শিশুবিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব ও পুষ্টিবিদেরা।

ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত ২০২৫ সালের মাল্টিক্লাস্টার ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) নামের জরিপে শিশু ও নবজাতক খাদ্যসংক্রান্ত ফলাফলে দেখা যায়, দেশে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ পান করানো শুরুর হার মাত্র ৩০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) হারও মাত্র ৫৭ শতাংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধ পান শুরুর হার কম থাকা এবং সময়মতো সঠিকভাবে দুধ পান নিশ্চিত না হওয়া শিশুর প্রাথমিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমআইসিএস একটি আন্তর্জাতিক মানের গৃহভিত্তিক জরিপ, যা শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, পানি-স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসূচক পরিমাপ করে।

শিশু ও নবজাতক খাদ্য (আইওয়াইসিএফ) নির্দেশক অনুযায়ী, শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ দেওয়া শুরু করা, যা রোগ প্রতিরোধ- ক্ষমতা গঠনে সহায়ক। শিশুর জন্মের পরপর মায়ের স্তন থেকে নিঃসৃত আঠালো শালদুধের পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। চিকিৎসকেরা বলেন, এটি শিশুকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

দ্বিতীয় ধাপটি হলো একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পান (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং)। অর্থাৎ জন্মের পর প্রথম ৫ মাস শিশুকে খাদ্য হিসেবে শুধু মাতৃদুগ্ধ দেওয়া। এ সময়ে তাকে অন্য কোনো খাবার এমনকি পানিও দেওয়ার দরকার নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফও জন্মের পর প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

এমআইসিএস এবং দেশের বড় জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ’ (বিডিএইচএস)-এর আগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল নয়। এমআইসিএস ২০১২-১৩ জরিপে এর হার ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা প্রায় ৬৩ শতাংশে পৌঁছায়। আবার সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফলে এটি কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিডিএইচএসের তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। ২০১১ সালের প্রায় ৬৪ শতাংশ থেকে ২০১৭-১৮ সালে হার সামান্য বেড়ে ৬৫ শতাংশ হয়। ২০২২ সালের বিডিএইচএস অনুযায়ী দেশে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ।

মাতৃদুগ্ধ পানের এই সূচকগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের উন্নতি নেই। উল্টো সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। শিশু ও নবজাতক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শিশুর প্রাথমিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধের অভাবে ভুগলে এবং পরবর্তী সময়ে টিকাদান ঘাটতি বা অপুষ্টির শিকার হলে তার হামের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ- ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাতৃদুগ্ধে থাকা অ্যান্টিবডি ও অন্যান্য জৈব উপাদান শিশুর অপরিণত রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে অ্যাম্বুলেন্সেই দুই দিন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীতে পা ফেলেছে মাত্র ১২ দিন আগে; গত ৮ মে বেলা ১১টায় বাবা আশরাফুল ইসলাম ও মা মাজেদা বেগমের সংসারে ফুটফুটে শিশুটির জন্ম হয়। বাবার নামের সঙ্গে মিল রেখে সন্তানের নাম রাখা হয় আজহারুল ইসলাম। শিশুর আগমনে আনন্দে ভাসছিলেন বাবা-মা। হঠাৎ সে আনন্দে আঘাত হেনেছে হাম-ভাইরাস।

একটি সন্তান একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলেই তাকে ঘিরে বাবা ও মা স্বপ্ন সাজাতে শুরু করেন এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু উদ্দিষ্ট পরিবারটির ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ও অস্বাভাবিক ঘটনা। সন্তানের আগমন যেমন তাদের জন্য খুশির ঘটনা ছিল, এখন ঠিক তেমনি তা দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

পৃথিবীর আলো-বাতাসের স্বাদ ভালোভাবে গ্রহণ করার আগেই বাঁচার লড়াই করতে হচ্ছে নবজাতক শিশু আজহারুলকে। গত ১৭ মে চিকিৎসক শিশুটির পরিবারকে জানান, ‘হাম-ভাইরাস বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। শ্বাস-প্রশ্বাস থাকলেও শিশুটি এখন সংকটাপন্ন।’ তার বাবা-মা এখন অসহায় ও দিশেহারা।

আরও দুর্ভাগ্য হলো ঢাকার হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করাতে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে পরিবারটিকে। গত ৪৮ ঘণ্টা হামে আক্রান্ত শিশুটিকে ও তার পরিবারকে থাকতে হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সে। ঢাকার এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়িয়েছেন শিশুটির বাবা ও মা।

এ প্রতিবেদককে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিউশন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালসহ বেসরকারি আরও দুটি হাসপাতালে ছোটাছুটি করেও ভর্তি করা সম্ভব হয়নি আমার হাম-আক্রান্ত শিশু আজহারুলকে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সংকটের কথা জানিয়ে এসব হাসপাতালের কোনোটিই আজহারুলকে ভর্তি করায় আগ্রহ দেখায়নি।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডিএনসিসি হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি করাতে না পেরে ফিরে যাওয়ার সময় শিশুটির মা মাজেদা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোনো হাসপাতালই ভর্তি নিচ্ছে না। আইসিইউ নাই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। গত দুদিন অ্যাম্বুলেন্সেই কেটেছে আমাদের। আমার সন্তানের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।’ মাজেদা বলেন, ‘আমার প্রসব যন্ত্রণা এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই ছেলেকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছি।’ তিনি অসহ্য যন্ত্রণার অবসান কামনায় আল্লাহর সহযোগিতা কামনা করেন আর্তস্বরে। হাসপাতালের সামনের পরিবেশ বেশ গুমোট হয়ে ওঠে তখন।

দুপুর দেড়টার দিকে ডিএনসিসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, জবাব দিতে আগ্রহ দেখাননি কেউ; বরং জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা উচ্চবাচ্য করেন। দায়িত্বরত দুজন নারী চিকিৎসক তাদের নাম পর্যন্ত জানাতে চাননি।

শিশুটির বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় যে হাসপাতালেই শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে, কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ৩টায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ‘ভর্তি নিলাম কিন্তু আইসিইউ দিতে পারব না; রিস্ক আপনাদের।’ তাতে পরিবারটির দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তারা নিশ্চিন্ত হতে পারছে না আমাদের সন্তানের জীবন নিয়ে।

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ছোট চাকরি করেন শিশুটির বাবা। মাজহারুল ইসলাম নামে ৫ বছর বয়সী তার আরেকটি সন্তান আছে। এত বড় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। তবু আশায় বুক বেঁধে আছেন, তার ছোট্ট শিশু সুস্থ হবে; বাসায় ফিরবে, পরিবার নিয়ে হাসি-আনন্দে থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন