উখিয়ায় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া গৃহবধূ ছৈয়দা খাতুন হত্যা ঘটনায় অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৭ থেকে ৮ জনকে। নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী।
জানা যায়, গত ১৬ই মে রাতে টাইপালং গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের মারধরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তার মা ছৈয়দা খাতুন। সোমবার রাত ৮টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন। পরে পুলিশ সেটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মিজান সিকদারকে। এ ছাড়া তার ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকেও আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের এম্বুলেন্স চালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল করিম, তার ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিক দল (দক্ষিণ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন ও রফিক উদ্দিন। বাদী আব্দুর রহমান বলেন, “আমার মাকে আমার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। যাদের আমি ঘটনাস্থলে দেখেছি, তাদের নামই মামলায় দিয়েছি। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।”
এর আগে রোববার দুপুরে টাইপালং গ্রামে ছৈয়দা খাতুনের জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এদিকে রুজু হওয়া মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আসামি পক্ষ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
