‘সিনিয়রদের নিয়ে নির্মাতারা ভাবেন না’

‘সিনিয়রদের নিয়ে নির্মাতারা ভাবেন না’

ফন্ট সাইজ:

হিন্দি ও উর্দু সিনেমার জোয়ারে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দর্শক বুঁদ হয়ে থাকতেন। সে জোয়ার থেকে দর্শকদের বাংলা সিনেমায় ফিরিয়ে আনতে যে ক’জন গুণী শিল্পী ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্যে সুচন্দা একজন। নাসিমা খান, সুজাতা, কবরী- এক সময় তাদের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নিজস্ব একটা ঘরানা তৈরি করতে পেরেছিলেন সুচন্দা। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও তার সাফল্য মনে রাখার মতো। তার প্রযোজিত ও পরিচালিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা আটটি। তার মধ্যে জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ তিনি সুনিপুণভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ছয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল। সিনেমাটি দেশের বাইরেও পুরস্কৃত হয়। ১৫০টি সিনেমায় অভিনয় করা এই অভিনেত্রীকে দীর্ঘদিন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০০৫ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। এখন কেমন আছেন এই অভিনেত্রী? উত্তরে সুচন্দা অনেকটা অভিমানের সুরে বললেন, গণমাধ্যম তো শুধু গ্ল্যামার আর নতুনদের নিয়ে মশগুল! আমি এবং আমাদের মতো বর্ষীয়ান শিল্পীদের খবর প্রকাশে অনীহা সত্যিই আমাদের ব্যথিত করে। সিনিয়র অনেক শিল্পী শত প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পটাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে নারী শিল্পীরা আউটডোর শুটিংয়ে কি যে কষ্ট করেছি- তা প্রকাশ করার মতো নয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটি এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ যৌথভাবে আয়োজন করে জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলনের। দুঃখের বিষয় আমার অভিনীত ১৫০টি সিনেমার মধ্যে সামান্য গুটিকয়েক সিনেমা আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে। আপনার এখন সময় কাটে কীভাবে? সুচন্দা বলেন, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। নামাজ-কালাম পড়ি। এভাবেই সময় কাটে। তবে আমি একটি কথা বলতে চাই। সেটা হচ্ছেÑ বর্তমানে অনেক তরুণ নির্মাতা সিনেমা নির্মাণ করছে। চাইলেই তারা নতুনদের সঙ্গে পুরাতন শিল্পীদের নিয়েও কাজ করতে পারেন। কিন্তু সিনিয়রদের নিয়ে নির্মাতারা ভাবেন না। পুরনো কথা মনে করে সুচন্দা বলেন, উপমহাদেশে আমি বোধ হয় একমাত্র পরিচালক যে আপন তিন বোনকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছি ‘তিন কন্যা’। এই সিনেমাটি শুধু আমাকে আর্থিকভাবেই সাফল্য এনে দেয়নি। এর সঙ্গে বাংলাদেশকে চম্পা নামের একজন নায়িকা উপহার দিয়েছি। আর ববিতার কথা না বললেই নয়। সেও আমার অনুপ্রেরণা ও উৎসাহেই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে আসে।

সুচন্দা বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যে শুধু আমাকে সম্মানিত করেছে তা নয়, পাকিস্তানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও আমাকে সবচেয়ে সম্মানিত পুরস্কার ‘নিগার অ্যাওয়ার্ড’ দুইবার প্রদান করেছে। পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেও অভিনয় করেছি যৌথ প্রযোজনার ছবিতে।

Sakhawat

২ মাস আগে

সুচন্দা ! সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আপনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি—আপনি যেন নিজেকে এতটাই আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন যে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেই না আপনি কত বড় মাপের অভিনেত্রী ছিলেন। যারা জানতো, সময়ের সঙ্গে তারাও ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে।
অথচ আবুল হায়াত ও দিলারা জামান-এর মতো গুণী শিল্পীরা এখনো নিয়মিত কাজ করছেন, দর্শকের কাছেও থাকছেন। আপনি যদি একটু সহজভাবে সবার সঙ্গে মিশতেন, নিজেকে নাগালের মধ্যে রাখতেন, তাহলে নির্মাতারাও নিশ্চয়ই আপনাকে নিয়ে কাজ করার সাহস ও সুযোগ পেতেন।
আপনার প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা আমাদের শিল্পাঙ্গনের সম্পদ। তাই অনুরোধ থাকবে আবার মানুষের মাঝে ফিরে আসুন, দর্শক আপনাকে অবশ্যই সাদরে গ্রহণ করবে।

Sakhawat

২ মাস আগে

সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আপনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি—আপনি যেন নিজেকে এতটাই আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন যে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেই না আপনি কত বড় মাপের অভিনেত্রী ছিলেন। যারা জানতো, সময়ের সঙ্গে তারাও ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে।

অথচ আবুল হায়াত ও দিলারা জামান-এর মতো গুণী শিল্পীরা এখনো নিয়মিত কাজ করছেন, দর্শকের কাছেও থাকছেন। আপনি যদি একটু সহজভাবে সবার সঙ্গে মিশতেন, নিজেকে নাগালের মধ্যে রাখতেন, তাহলে নির্মাতারাও নিশ্চয়ই আপনাকে নিয়ে কাজ করার সাহস ও সুযোগ পেতেন।

আপনার প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা আমাদের শিল্পাঙ্গনের সম্পদ। তাই অনুরোধ থাকবে আবার মানুষের মাঝে ফিরে আসুন, দর্শক আপনাকে অবশ্যই সাদরে গ্রহণ করবে।

মন্তব্য করুন