তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান বৈষম্য ও নৈরাজ্য দূর করে সব পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, এই কমিশন কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না, তেমনি সরকার ও মালিকপক্ষ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার করতে পারবে না। মঙ্গলবার দুপুরে দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অনেক সময় কোনো সাংবাদিক মারা গেলে তার পরিবারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া কিংবা কাফনের কাপড় কেনার টাকাও থাকে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে সরকার একটি আধুনিক গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই কমিশন এমন নীতিমালা তৈরি করবে, যেখানে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না এবং সাংবাদিকরাও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না। তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বীমা সুবিধা গ্রহণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমন্বিত এক জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে তথ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায়।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক সাংবাদিক ১৫ থেকে ২০ বছর কাজ করলেও কোনো সার্ভিস বেনিফিট বা প্রভিডেন্ট ফান্ড পান না। যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এখনো এসব সুবিধা নিশ্চিত করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নতুন কোনো গণমাধ্যমের অনুমোদনের আগে মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অনেক সময় কোনো সাংবাদিক মারা গেলে তার পরিবারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া কিংবা কাফনের কাপড় কেনার টাকাও থাকে না। তিনি সাংবাদিকদের পূর্ণ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৬০ বছরের বেশি বয়সী সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠনেরও দাবি জানান।
ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ডিআরইউ সবসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। বছরজুড়ে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নেরও জোর দাবি করেন।
এদিকে, ডিআরইউ তার সদস্যদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় সংগঠনের প্রয়াত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে গ্রুপ বীমার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও মো. কাজিম উদ্দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরী প্রমুখ।
