পশ্চিমবঙ্গে ফলতা উপনির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। মাত্র তিনদিন আগে ফলতায় প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জাহাঙ্গীরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তারপরই হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ যোগাড় করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার শুভেন্দু যখন ফলতায় রোড শো করছিলেন তখনই সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের যে প্যাকেজের কথা জানিয়েছেন তাকে স্বাগতও জানিয়েছেন।
দলকে না জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বিপাকে পড়েছে। তড়িঘড়ি মান বাঁচাতে বিবৃতি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, "ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। দল এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা আসনেই তৃণমূলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে দখল করা হয়েছে। অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে। এইসব চাপের মুখেও তৃণমূল কর্মীরা অটল রয়েছেন।
বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপি যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও বলেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি দুই জায়গাতেই চলবে।
অবশ্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, জাহাঙ্গির খানের আচমকা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় অনেকে ভয়ের কথা বলছেন, কেউ বলছেন চাপ। কিন্তু চাপ থাকলে আগে এই সিদ্ধান্ত নয় কেন? ভয়ের পরিবেশ থাকলে বাড়িতে কেন?
গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ২১ মে পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেয়।
