সময়ে আলো
‘২৩-২৪ জুন চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’। দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে যেতে আগামী ২৩ ও ২৪ জুন চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, কূটনৈতিক অবস্থান, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম চীন সফর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গত মাসে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। প্রতিনিধি দল বেইজিংসহ দেশটির একাধিক প্রদেশ পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও চীন সফর করেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরটি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ত্রিদেশীয় আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয় ছিল চীন। বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করতে ওই সময়ে নানা পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা চালানো হয়। তবে বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি আর বেশি দূর এগোয়নি। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক ফোরামে যুক্ত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ পেতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। যদিও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য, তবু দেশটির বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং যোগাযোগ খাতের একাধিক প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ছাড়া দিয়েছে চীন। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের রফতানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের প্রধান ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। বিশেষ করে আমরা যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করি, তার তুলনায় রফতানি অনেক কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে এ ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে কার্যকর আলোচনা হতে পারে বলে আশা করছি। সরকারপ্রধানদের পর্যায়ে আলোচনায় নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উচিত চীনের বিশাল বাজারে নিজেদের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং ওষুধশিল্পের জন্য চীনের বাজার বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দুই দেশই লাভবান হবে।
সাবেক বাণিজ্য সচিব ড. মাহবুব আহমেদ বলেন, আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে এ সফর মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ সময়ে চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মো. খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ ঘাটতি কমিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীন মূলত ব্যবসা ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা করে। তাই বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক রফতানির সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশ লাভবান হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র হয়ে চীনে যাচ্ছে, ফলে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। দেখা গেছে, একটি চীনা কোম্পানি ছয় বছর আগে বিনিয়োগ করলেও এখনও গ্যাস সংযোগ পায়নি। তাই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সরকারের সদিচ্ছা ও বাস্তব পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।
খোরশেদ আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। দেশে যখন শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে পারে, তখন চীনা ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভাবা যেতে পারে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সুবিধাজনক হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সঙ্গী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে কুনমিংয়ে একটি বিশেষ বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোড’-এর মাধ্যমে বহু আগে থেকেই বাংলাদেশ ও চীনের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। উপকূলীয় রাষ্ট্র হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগও ছিল সমৃদ্ধ। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সামরিক ও বেসামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তারা মনে করছেন, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগকেন্দ্র হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথম আলো
‘সবাই চেয়েছিল বিলুপ্তি, তবু বহাল থাকছে র্যাব’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা, দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ এসেছে। তবে র্যাব বিলুপ্ত না করার চিন্তা করছে সরকার। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর অনেকটা ঝিমিয়ে পড়া এ সংস্থার কার্যক্রম কীভাবে চলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে এই বাহিনীর কাঠামোতে কী কী ধরনের সংস্কার আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর র্যাবের অতীতের কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। এ বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ। তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২-২৩টি ছিল র্যাবের।
পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।
মানবাধিকার ইস্যুতে গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। দেশি–বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই ধরনের অপরাধেই র্যাবের নাম সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে। এমন বাস্তবতায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। এ বছরের শুরুতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও সংস্থাটি বিলুপ্তির দাবি জানায়। এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। এর দুই দশক আগে ২০০৪ সালের মার্চে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি সরকারই বিশেষ এই ইউনিটটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরপর র্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র্যাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিষ্ঠার পর আলোচিত অপরাধী বা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরাই ছিল র্যাবের মূল লক্ষ্যবস্তু। তবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রভাবশালীদের নির্দেশনা এবং প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহার হতে শুরু করে র্যাব। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় সম্পৃক্ত হতে থাকে সংস্থাটি। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা এর বড় একটি উদাহরণ। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন।
শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় র্যাব। তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘র্যাব সৃষ্টির পর থেকে যেসব জনসাধারণ র্যাব সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছে এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ যাঁরা র্যাবের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
এমন বাস্তবতায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্তির দাবিটি আবার সামনে আসে। গত ৫ এপ্রিল র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ এক মতবিনিময় সভায় বলেন, র্যাবের বিলুপ্তি বা র্যাব-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার বিবেচনা করবে। তাঁদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া।
র্যাব বিলুপ্ত না করলেও বাহিনীটির বর্তমান কাঠামো বদলানো জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত রাখা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্য থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ইউনিট গড়ে তোলা যেতে পারে।
নূর খান বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যারা একসময় র্যাবকে সহযোগিতা করেছে, তারাই মানবাধিকার রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই সংস্কার করতে হলে বাহিনীর কাঠামো, জবাবদিহি, আইনি সীমা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে আইনে রাখতে হবে।
আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার শিরোনাম- 'সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন আইন হচ্ছে'। খবরে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি চাকরি আইন থাকলেও নতুন করে 'বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস' নামে আরেকটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা, না সব সরকারি কর্মচারীর জন্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সম্প্রতি ১৬ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
ওই কমিটির একজন সদস্য গত রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সরকারি চাকরিসংক্রান্ত সব আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের দিকে আগাব । শিগগিরই কমিটির বৈঠক হবে।' জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার চাইলে শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য নতুন এই আইন করতে পারে অথবা সব সরকারি কর্মচারীকে এই আইনের আওতায় আনতে পারে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম পুলিশের ‘সিস্টেমেই’ দুর্নীতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরাগ নদ থেকে গত ১৭ মে একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এটি নদী থেকে তুলতে প্রথমে ৩ হাজার টাকায় একজন ডোম ভাড়া করেন দায়িত্বে থাকা একজন এসআই। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৪ হাজার টাকা। মর্গের ডোমকে দিতে হয়েছে আরও ১ হাজার টাকা। পরে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় লাশটি দাফন করতে দেওয়া হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে। লাশ ব্যবস্থাপনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার মোট ৮ হাজার টাকা খরচ হলেও এই কাজের জন্য পুলিশে এক টাকাও বরাদ্দ নেই।
এভাবে লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে চাঞ্চল্যকর হত্যা বা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত-সবখানেই পদে পদে পকেটের টাকা খরচ করতে হয় পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। সরকারিভাবে মামলার তদন্ত ব্যয় বাবদ যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, বাস্তব খরচের সঙ্গে তার আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যেমন-একটি হত্যা মামলার তদন্তে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও বরাদ্দ মেলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পান না ‘সোর্স মানি’ ও পর্যাপ্ত গাড়ি সুবিধা। দৈনন্দিন কাজের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে, ঊর্ধ্বতনদের খুশি করতে এবং ভালো পদায়ন পেতে বাধ্য হয়েই ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় হাঁটতে হয় অনেককে। অবাস্তব এই সিস্টেম আর আর্থিক সংকটের বেড়াজালেই মূলত লুকিয়ে আছে পুলিশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া ঘুস আর দুর্নীতির বীজ।
তুরাগ থেকে লাশ উদ্ধারকারী সেই এসআই যুগান্তরকে জানান, গত এক বছরে এমন বেশ কয়েকটি লাশ তাকে ব্যবস্থাপনা করতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকাও লেগেছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, বেতন পাই মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টাকা। চাকরি ঠিক রাখতে টাকা ম্যানেজ করতে হয়।
গত ১৬ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অধীন পল্লবী থানার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওপেন হাউজ ডে।’ সেখানে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন পেশার কয়েকশ লোক উপস্থিত ছিলেন। স্টেজ সাজানো, ফুল ও নাস্তা বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে পুলিশের। কিন্তু এমন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশকে এক টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয় না। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাছির যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টার ফ্রিতেই পেয়েছিলাম। বরাদ্দ না থাকায় আমরা সব অফিসার মিলেই খরচের টাকা দিয়েছি।
বিভিন্ন মহলে আলোচনা আছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত টাকা দিয়েই পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে টিকে থাকতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কনস্টেবল ও এসআই পদে চাকরি নেওয়ার সময়ও ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুস লাগে। চাকরিতে যোগ দিয়ে সেই টাকা তুলতে ঘুস খাওয়া শুরু করেন ওইসব পুলিশ সদস্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, পুলিশকে যদি সৎ ও দক্ষ রাখতে হয়, মনোবল চাঙা রাখতে হয় তাহলে আর্থিক এসব সংকট সমাধান করতে হবে। থানার তদন্ত কর্মকর্তাদের পেরেশানিটা বেশি থাকে। তাই যা খরচ হবে তাই তাদের দেওয়া উচিত। যেন কোনো কর্মকর্তাকে পকেট থেকে টাকা দিতে না হয়।
তিনি বলেন, সোর্স মানি যাতে যথাযথভাবে ব্যবহার হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কমান্ড লেভেলে তো খুব বেশি কাজকর্ম নেই। আমার মনে হয় তারা মিনিমামটা রেখে, বাকিটা তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া উচিত। সরকারেরও বাজেট একটু বৃদ্ধি করা উচিত।
মামলার তদন্ত ব্যয়ের বরাদ্দ অবাস্তব: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ব্যয় ২০২১ সালে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ডাকাতি ও হত্যা মামলার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৬,০০০ টাকা এবং অপহরণ বা মানব পাচার মামলার জন্য ৫,০০০ টাকা। তবে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বরাদ্দ একেবারেই অবাস্তব। কারণ একটি হত্যা মামলা তদন্তে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর অপহরণ মামলা তদন্তে ভিকটিম উদ্ধারে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।
কালের কণ্ঠ
‘অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বুড়াবুড়ি সাতভিটা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান (২৪) রাষ্ট্র্রের চোখে একজন ‘জুলাই শহীদ’। এ জন্য স্বীকৃতির পাশাপাশি অনুদানের ৩০ লাখ টাকাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে।
কিন্তু কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আন্দোলনের ধারেকাছেই ছিলেন না আশিকুর। মস্তিষ্কে অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজিসংক্রমণজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় পুরোটা সময় ছিলেন হাসপাতালের বিছানায়। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে ‘ব্রেন ইনফেকশন’ লেখা থাকলেও আশিকুরের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লেখা হয় ‘হেড ইনজুরি’।
কালের কণ্ঠের সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর আশিকুর রহমান মূলত মস্তিষ্কে সংক্রমণজনিত (পরিবারের সদস্যদের ভাষায় ব্রেন টিউমার) কারণেই মারা গেছেন।
এরপর তাঁর মৃত্যুর এক মাস ১০ দিন পর কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর ১৩) করা হয়। মামলায় আসামির সংখ্যা ১০৪, যেখানে তিনজন সাংবাদিক। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই শহীদদের নামের তালিকাসংবলিত গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেটে ২১৭ নম্বরে আছে আশিকুরের নাম।
গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ সাংবাদিকতাকে বিক্ষত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৪৯টি মামলায় ২৮২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। মামলার নথিগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, বেশির ভাগই অদ্ভুত এবং কারসাজিতে ভরা।
আশিকুর রহমানের মামলা নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমাদের হাতে আসে তাঁর চিকিৎসাপত্র এবং মৃত্যুসনদ। প্রথম চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-১ বিভাগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে (বি-১১ শয্যা) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন বিএসএমএমইউ) রেফার করা হয়।
রংপুর মেডিক্যালের ওই ছাড়পত্রে আশিকুরের রোগ হিসেবে লেখা ছিল, ‘সেপসিস উইথ ফোকাল সিজার (এইচ/ও এনসেফালাইটিস)’ অর্থাৎ চিকিৎসকরা তখন বলেছিলেন, রোগীর শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ছিল। এমনকি তাঁর এনসেফালাইটিস বা ব্রেন ইনফেকশনের ইতিহাস ছিল। সেই সঙ্গে তিনি খিঁচুনিজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেই ছাড়পত্রে কোথাও উল্লেখ নেই, তিনি জুলাই আন্দোলনে মাথায় আঘাত বা সে কারণে কোনো ধরনের ট্রমা, ব্লান্ট ইনজুরিতে আহত ছিলেন। অর্থাৎ চিকিৎসার প্রথম আনুষ্ঠানিক নথিতে তাঁকে একজন সংক্রমণজনিত জটিলতায় আক্রান্ত রোগী হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ছাড়পত্রের মাত্র কয়েক দিন পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, আশিককে ২৬ আগস্ট রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিএমইউর আইসিইউ-২-তে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি মারা যান ১ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায়। এরপর বিএমইউ থেকে দেওয়া মৃত্যুসনদে আগের চিকিৎসার ইতিহাস হঠাৎ করেই নতুন মোড় নেয়।
ডেথ সার্টিফিকেটে যা বলা হয়েছে
আশিকুর রহমানের মৃত্যুসনদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোগের ঘরে লেখা হয়— ‘সেপটিক শক উইথ একেআই উইথ মেনিনগোএনসেফালাইটিস উইথ অ্যালেজড এইচ/ও হেড ইনজুরি ডিউরিং স্টুডেন্ট প্রোটেস্ট’। অর্থাৎ এখানে নতুনভাবে যুক্ত হয়—সেপটিক শক (গুরুতর সংক্রমণের কারণে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার মতো সংকটজনক অবস্থা), অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (হঠাৎ কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া/কিডনি ফেইলিওরের অবস্থা), মেনিনগোএনসেফালাইটিস (মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ/সংক্রমণ) এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যালেজড হিস্ট্রি অব হেড ইনজুরি ডিউরিং স্টুডেন্ট প্রোটেস্ট’ অর্থাৎ ছাত্র আন্দোলনের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ার অভিযোগ/ইতিহাস ছিল। এরপর মৃত্যুর কারণে লেখা হয়, ‘ইরিভার্সিবল কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্ট ডিউ টু অ্যাবাভ মেনশনড ডিজিজেস’। অর্থাৎ উপরোক্ত রোগগুলোর কারণে অপরিবর্তনীয় হৃদযন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মৃত্যুসনদে কোনো তথ্য লেখার ক্ষেত্রে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মৃত্যুসনদে কোনোভাবেই ‘হেড ইনজুরি ডিউরিং স্টুডেন্ট প্রোটেস্ট’ বা এ জাতীয় কিছু লেখার সুযোগ নেই। সেখানে এর আগে ‘অ্যালেজড’ শব্দ ব্যবহার করলেও এটি সরকারি নথির অংশ হয়ে যায়। পরে সেটি ভিন্নভাবে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডেথ সার্টিফেকেট প্রদানকারী ডা. মন্তোষের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। কিন্তু ঘটনা শুনে এর পেছনে ভিন্ন কিছু বা তৎকালীন সময় কোনো পক্ষের চাপ ছিল বলেই মনে হয়েছে। এ ছাড়া ডেথ সার্টিফিকেটে এমন কিছু তিনি লেখার কথা না। আর যদি তিনি লিখেও থাকেন, তার পরও তিনিসহ তৎকালীন প্রশাসনকে এ বিষয়ে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কারণ, এমন ঘটনা যে শুধু একটা ঘটেছে তা কিন্তু নিশ্চিত নয়। আমার ধারণা এমন ঘটনা আরো ঘটে থাকতে পারে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বিরোধী দলের আসনে নারী এমপিরা উন্নয়ন তদারকি করবেন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে বিএনপির সংরিক্ষত নারী আসনের এমপিদের। ওই সব আসনের জন্য আধা-সরকারিপত্রও (ডিও লেটার) দিতে পারবেন তারা।
গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের এমপিদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এমপি সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কয়েকজন এমপি জানান, উন্নয়ন ছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারি দলের নারী এমপিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
তবে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে বিএনপির সংরিক্ষত নারী আসনের এমপিদের। ওই সব আসনের জন্য আধা-সরকারিপত্রও (ডিও লেটার) দিতে পারবেন তারা।
গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের এমপিদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এমপি সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কয়েকজন এমপি জানান, উন্নয়ন ছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারি দলের নারী এমপিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
তবে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে বিএনপির সংরিক্ষত নারী আসনের এমপিদের। ওই সব আসনের জন্য আধা-সরকারিপত্রও (ডিও লেটার) দিতে পারবেন তারা।
গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের এমপিদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এমপি সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কয়েকজন এমপি জানান, উন্নয়ন ছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারি দলের নারী এমপিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
নয়া দিগন্ত
তিতাস সিন্ডিকেটের ‘মরণফাঁদ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাটির ওপর দিয়ে ধুলাবালু ও যানবাহনের কোলাহল। কিন্তু ঠিক তার কয়েক ফুট নিচেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর মরণফাঁদ। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ গ্যাস লাইন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যৌথ প্রযোজনায় গড়ে উঠেছে এই সমান্তরাল গ্যাস সাম্রাজ্য।
আধুনিক প্রযুক্তি বা জিও-ম্যাপিংয়ের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অন্ধকার উপায়ে মাইলের পর মাইল টেনে নেয়া হয়েছে এসব বিপজ্জনক লাইন। ফলে একদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, অন্য দিকে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আতঙ্কে। কিছু বোঝার আগেই নিমিষেই পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন ।
সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো বলছে অতিরিক্ত গ্যাস অপচয় এবং অবৈধ সংযোগ ও চুরির কারণে সাড়ে তিন থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। তিতাস সূত্র বলছে, গত দুই বছরে প্রায় ৯ লাখ অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশই অবৈধ সংযোগ রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাসের দীর্ঘদিনের পুরনো জরাজীর্ণ সঞ্চালন লাইনে অসংখ্য লিকেজ, জোড়াতালি দিয়ে লিকেজ মেরামত, চুলার লুজ কনেকশন, বাসাবাড়িতে গ্যাস লাইনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং গ্রাহক সচেতনতার অভাবে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। গ্যাসে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ঝরে পড়ছে অনেক তাজা প্রাণ। অবৈধ এসব সংযোগ বেশি ঢাকার পাশাপাশি গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ঘটনা ঘটলেই তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অফিস সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে গত ছয় বছরে দুই শতাধিক বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
সর্বশেষ গত রোববার ও সোমবার শুধু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লাকি বাজার ও গিরিধারা এলাকায় দু’টি বিস্ফোরণের ঘটনায় গৃহকর্তা আবুল কালাম, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা যান। স্থানীয়রা বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নিমিষেই একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল। গিরিধারা এলাকায় বিস্ফোরণে মারা গেছেন দুইজন।
অন্ধকার সিন্ডিকেটের ভৌগোলিক বিস্তার : অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও নরসিংদীর মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবৈধ গ্যাসসংযোগের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। তিতাসের বৈধ পাইপলাইনের নকশাকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে এই সিন্ডিকেট নিজস্ব কায়দায় ‘ভূগর্ভস্থ মানচিত্র’ বা জিও-ম্যাপিং তৈরি করেছে। কোথায় মূল লাইন আছে, সেখান থেকে কিভাবে শাখা লাইন বের করা যাবে- তার নিখুঁত হিসাব থাকে এই চক্রের কাছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বা গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ি এলাকার একাধিক স্পটে দেখা গেছে, তিতাসের উচ্চচাপ সম্পন্ন মূল পাইপলাইন থেকে রাতের আঁধারে সংযোগ কেটে সাবলাইন বের করা হয়েছে। এই সাবলাইনগুলো দুই থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে চলে গেছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং নামসর্বস্ব বাণিজ্যিক কারখানায়। তিতাসের মেইন গ্রিডের সমান্তরালে চলা এই অবৈধ লাইনের কোনো সরকারি নথিপত্র নেই। কিন্তু সিন্ডিকেটের নিজস্ব খাতায় এর প্রতিটি ইঞ্চি জায়গার হিসাব বা ‘ম্যানুয়াল ম্যাপিং’ রয়েছে।
যেভাবে কাজ করে তিতাস ও লোকাল সিন্ডিকেট : অবৈধ বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি তিতাসের কিছু টেকনিশিয়ান, প্রকৌশলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ‘লুম্পেন সিন্ডিকেট’। সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তার মধ্যে তথ্য পাচার ও রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তারা প্রথমে সরকারি পাইপলাইনের আসল জিও-ম্যাপিং বা রুট ম্যাপ সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়। কোথায় গ্যাস চাপ বেশি এবং কোন এলাকায় নজরদারি কম, তা চিহ্নিত করা হয়। এরপর পাইপ ও সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত নিম্নমানের পাইপ, রাইজার এবং রেগুলেটর তিতাসেরই ঠিকাদারের মাধ্যমে কালোবাজারে কেনা হয়। রাতের আঁধারে খননের প্রক্রিয়ার পর স্থানীয় মাস্তান ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের পাহারায় মাঝরাতে রাস্তা খনন করা হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় মাটির নিচে পাইপ বসিয়ে তা ঢেকে দেয়া হয়।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘অভিভাবকহীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী-শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্নভাবে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বঞ্চিত এসব মানুষের একমাত্র প্রতিকারের জায়গা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত দেড় বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষই প্রতিকার পাচ্ছেন না মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন' থেকে।
এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির ছি পক্ষ থেকে বেশ সমালোচনাও আছে। ২০২৪ সালে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে অভিভাবকহীন ও অকার্যকর থাকার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন পুনর্গঠন করা হলেও দুই মাসের মাথায় গত ১৩ এপ্রিল বিদায় নিতে হয় এই কমিশনকেও। যার ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কার্যত অভিভাবকহীন ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ সময়ে শত শত অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান-তদন্ত বন্ধ থাকায় কোনো আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
এ অবস্থায় সব অভিযোগ ফাইলবন্দি হয়ে আছে। শুধু প্রশাসনিক কিছু রুটিন কাজ ছাড়া কোনো অভিযোগেরই সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে দেড় বছর ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিশনের কার্যক্রম।
মানবাধিকার কমিশন সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৪৭১টি নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়ে।
গত ১৩ এপ্রিল সবশেষ বিদায়ি কমিশন থাকাবস্থায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে সর্বমোট এক হাজার ২১৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে আগের চলমান অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৫৩৮টি। বাকি ৬৮১টি অভিযোগই নতুন। এর মধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে আসা অভিযোগ ৫২৪টি। চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ১৯৮টি, খুলনা ও বরিশাল থেকে ২২৯টি এবং রংপুর ও রাজশাহী থেকে ২৫৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সূত্র জানায়, কমিশনের হাতে থাকা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে এ বেশি অভিযোগ জমিজমা ও সম্পত্তি দখল নিয়ে। এরপর রয়েছে চাকরি, বেতনভাতা, ইউনিয়ন, কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত, মিথ্যা মামলা ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
সূত্র জানায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে কোনো অভিযোগ এলে প্রথমে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর কমিশনের তিনটি পৃথক বেঞ্চে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়। সেখানে অনুসন্ধান বা তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। একটি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১ নম্বর বেঞ্চ এবং দ্বিতীয়টি সার্বক্ষণিক সদস্যের নেতৃত্বে ২ নম্বর বেঞ্চ। আরেকটি আছে আপস বেঞ্চ-যেখানে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সেটিও একজন সদস্যের নেতৃত্বে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ব্যক্তির জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য ও সদস্যরা না থাকায় বর্তমানে একটি বেঞ্চও কার্যকর নেই।
বণিক বার্তা
‘আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ২৬টি ব্লকে আগামী সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
এবারের দরপত্রে বিদেশী কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ বেশকিছু সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে এ মডেলের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ২৩ মাস পর আবারো সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের তৎপরতা শুরু হতে যাচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। দেশী ও বিদেশী পত্রিকায় এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে পেট্রোবাংলা। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দেশে ‘রোড শো’ করবে জ্বালানি বিভাগ তথা পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এবারের দরপত্র আগের চেয়ে আরো বেশি আকর্ষণীয় করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসের ট্যারিফ, পাইপলাইন নির্মাণ ব্যয়, তথ্য-উপাত্তের দাম কমানো, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অংশগ্রহণ বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আকৃষ্ট করা। এবার দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি রোড শো, বিদেশী দূতাবাসগুলোকে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি পিএসসিতে যেসব সংশোধন আনা হয়েছে, তাতে বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ভালো ফলাফল মিলবে।’
বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনায় জ্বালানি খাতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয়া হয়। যার মধ্যে ছিল স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, বেশকিছু কূপের সংস্কার এবং অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি চূড়ান্তকরণ। এরই মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে অফশোর মডেল পিএসসি চূড়ান্ত করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রমোশনাল প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে। এ দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা থাকবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে বিদেশী কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জরিপের তথ্য-উপাত্ত ক্রয় করতে পারবে। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে।
পেট্রোবাংলার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রমোশনাল প্যাকেজ আগামী ১ জুন শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান নিয়ে মিট দ্য প্রেস, দেশী ও বিদেশী গণমাধ্যমে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাসে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো ও রোড শোর পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত পিএসসি মডেলে যেসব বিষয় নিয়ে বিদেশী কোম্পানিগুলোর আপত্তি ছিল সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। যেখানে গ্যাসের দাম, পাইপলাইন নির্মাণ ব্যয়, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সিভিল সার্ভিস আইন: সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন আইন হচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি চাকরি আইন থাকলেও নতুন করে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস’ নামে আরেকটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা, না সব সরকারি কর্মচারীর জন্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সম্প্রতি ১৬ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটির একজন সদস্য গত রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সরকারি চাকরিসংক্রান্ত সব আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের দিকে আগাব। শিগগিরই কমিটির বৈঠক হবে।’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার চাইলে শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য নতুন এই আইন করতে পারে অথবা সব সরকারি কর্মচারীকে এই আইনের আওতায় আনতে পারে। তবে সব সরকারি কর্মচারীকে এই আইনের মধ্যে রাখা হলে সরকারি চাকরি আইনে নতুন করে হাত দিতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির আরেকজন সদস্য বলেন, ‘ধারণা করছি, শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য নতুন এই আইন করা হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
ওই সদস্য জানান, সরকারি চাকরি আইন থাকার পরেও নতুন এই আইন করলে সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হবে কি না, তা কমিটি বিবেচনায় নেবে। নতুন এই আইন হলে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করতে হবে কি না বা ওই আইনের ভবিষ্যৎ কী হবে, কমিটির সভায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
সুশাসন বিষয়ে বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, দক্ষ, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তাদের জন্য সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট ছিল। ওই আইনের মাধ্যমে সিএসপি কর্মকর্তাদের চাকরির শর্ত, নিয়োগ, পদোন্নতি, শৃঙ্খলার বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিধিবিধান রয়েছে। সরকার চাইলে এ-সংক্রান্ত সব বিধিবিধান একীভূত করে নতুন একটি আইন করতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সেই আইনে সব সরকারি কর্মচারীকে রাখা হলে সরকারি চাকরি আইন নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নইলে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক কিছুই নির্ভর করবে নতুন আইনে কোন কোন বিষয় রাখা হবে তার ওপর।
দেশ রূপান্তর
‘টার্গেট কেন চিকিৎসক’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত ২০ এপ্রিল আনুমানিক বিকেলে ৪টায় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমেদ হোসেন তার দায়িত্ব পালন শেষে হেঁটে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। মহাখালীতে পুরাতন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের একটি গলিতে আকস্মিকভাবে দুজন এসে তাকে ছুরি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করে চলে যায়। এই ঘটনার এক মাস হতে না হতেই হত্যার হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানকে। চিঠিতে শুধু তাকে নয়; তার পুরো পরিবার শেষ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার এক দিন পর গত ১৫ মে রাতে শরীয়তপুরে হামলার শিকার হন ডা. নাসির ইসলাম নামে আরও এক চিকিৎসক।
রোগীর মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি এতটাই গুরুত্বর আঘাত পান যে, উন্নত চিকিৎসা দিতে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসে সরকার। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিউইতে চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগে চাঁদপুরে হামলার শিকার হন, ড্যাবের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বশির আহাম্মদ খান।
এই কটি ঘটনাই নয়; প্রায়ই ঘটছে চিকিৎসকদের ওপর হামলার হচ্ছে এমন ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, অপমান ও কর্মস্থলে অনিরাপত্তার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। একদিকে হামলার শিকার হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ জন্ম নিচ্ছে অন্যদিকে তারা হতাশও হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকরা সেবা দেওয়ার আগ্রত হারিয়ে ফেলবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। সেজন্য চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতের তাগিদও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও নজরে এসেছে। তিনি সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে নির্দেশ দিয়েছেন।
চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার নেপথ্যে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে রোগী এবং চিকিৎসকদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব। চিকিৎসা বৈজ্ঞানিক বিষয়। রোগীরা সেটি অনেক সময় বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চান না। আবার চিকিৎসকও হয়তো তাদের সেভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন না। দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায়, চিকিৎসকদের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বেশি চাপ থাকে। সেই কারণে রোগী বা তার স্বজনের সঙ্গে বেশি কথা বলা বা বুঝিয়ে বলার সময় তারা পান না। কিছু ক্ষেত্রে যে দুই একজন চিকিৎসকের অসতর্কতা থাকে না, তাও নয়। তবে তার জন্য হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ মনে করেন, চিকিৎসকদের দুর্বল মনে করাও হামলার একটি কারণ হতে পারে। আরেকটি বড় কারণ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। এ ছাড়া বিদেশে রোগী টানতে কৌশলে দেশের চিকিৎসকদের দুর্নাম ছড়াতে একটি সিন্ডিকেট এর পেছনে কাজ করতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘হয়তো মানুষজন বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করছে। কিন্তু এটা একেবারেই কাক্সিক্ষত নয় এবং এটা মানুষের কাজও নয়। এগুলো করার কেন সাহস পাচ্ছে, সেটা সরকারের দেখা উচিত। শুধু হাসপাতালে কেন হামলা? অনিয়ম তো আরও অনেক জায়গাতেই আছে। সেখানে তো সাহস করে না। হয়তো এটা নরম ক্ষেত্র, ডাক্তারদের হামলা করলে তেমন কিছু হয় না- এটাও একটা বিষয় হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুরের ঘটনা আমরা সর্বোচ্চভাবে বিভিন্ন দিক থেকে জানার চেষ্টা করছি, রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসে, তখন তার পালস বিপি রেকর্ড করা যাচ্ছিল না। তারপর তাকে রেফার করেছে, কিন্তু তারা যাবেন না। তারা ওখানেই থাকবেন। মারা যাওয়ার পর ডাক্তারকে ফিজিক্যাল এসল্ট করল। এ রকম ঘটনা যদি ঘটতেই থাকে তাহলে ডাক্তাররা তো ট্রিটমেন্ট করা বন্ধ করে দেবেন। ডাক্তারদের কেউ ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। অনেক টেকনিক আছে, আমি রোগী এভয়েড করতে পারি। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো রোগী যেমন ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করতে পারে, ডাক্তারও কিন্তু রোগীর চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করতে পারে। এটা আইনেই আছে। কিন্তু আমরা সবসময় চাই, কেউই যেন আমাদের দ্বারা বিব্রত না হন, এই ঘটনার পরে চিকিৎসকরা যেভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, সারা দেশে যদি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত। তখন কি হতো? আমরা কেউই চাই না, যে মানুষ বিপাকে পড়ুক। সেজন্য আহ্বান জানাব ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটান।’
