জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ বলায় সরিয়ে দেয়া হয় জেনারেল মোমেনকে

ফন্ট সাইজ:

আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় এভাবেই উপস্থাপন করবে এবং মোমেন সভায় বিষয়টি এভাবেই উপস্থাপন করেছেন। তথাপি জিয়াউলকে ভালো অফিসার হিসেবে অভিহিত করে অধিকাংশ অফিসার তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছে। এছাড়া পদোন্নতি সভায় জিয়াউলকে এমনভাবে উপস্থাপন করায় জেনারেল মোমেনকে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে ডাম্পিং পোস্টে নিয়োগ দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর করা প্রশ্নের জবাবে সবেক সেনাপ্রধান এমন মন্তব্য করেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শতাধিক গুম-খুনের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার জেরা হয়। মামলার পরবর্তী জেরার জন্য ২৩শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউলের পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। সঙ্গে ছিলেন জিয়াউলের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। এসময় সেনাবাহিনীর অফিসারদের কীভাবে পদোন্নতি দেয়া হয় এ ব্যাপারে ইকবাল করিমকে প্রশ্ন করেন টিটো। কিন্তু ইকবাল করিম কিছুটা ভুল উত্তর দিলে জিয়াউল তার বোনের মাধ্যমে আদালতের অনুমতি নিয়ে এর সঠিক পদ্ধতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে দু’টি পদোন্নতি বোর্ড রয়েছে। একটি বোর্ডে মেজর র‌্যাঙ্ক থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে অপরটি বোর্ডটি ফুল কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি দিয়ে থাকেন। এসময় আইনজীবী টিটো জিয়াউল আহসানের পদোন্নতির ব্যাপারে ইকবাল করিমের কাছে জানতে চান। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, অধিকাংশই অফিসারই জিয়াউলের পদোন্নতির জন্য মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তবে বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছেন। কারণ এই বোর্ডে উপস্থিত অনেকে মোবাইলে কোন অফিসার কার বিপক্ষে কী বলেছে তা সরাসরি বাহিরে জানিয়ে দিতো।
ইকবাল করিম আরও বলেন, পদোন্নতির আগে আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় বিষয়টি এভাবেই উপস্থাপন করবে। পরে সভায় এভাবেই উপস্থাপন করেছেন মোমেন। তথাপি জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন অধিকাংশ সদস্য। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয় না। তিনি স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনো অর্জন করেননি। এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেননি। এজন্য তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না। এছাড়া পদোন্নতি সভায় জিয়াউলকে নিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। এ ধরনের পোস্টিংকে ডাম্পিং পোস্ট বলা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে জয়-পলকের বিরুদ্ধে ২৫শে ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৫শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকলেও আসামি জুনাইদ আহ্মেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন