পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র প্রতিবাদ বিরোধীদের

ফন্ট সাইজ:

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অনুকরণে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই বুলডোজার সংস্কৃতি চালু করেছেন। রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে মুহুর্মুহূ বুলডোজার ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, বাড়িঘর থেকে হকারদের দোকান, সবর্ত্রই রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য আজ গরীব মানুষকে দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তার মতে, 'সংস্কৃতি, সহমর্মিতা এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার কখনও শাসনের ভাষা হতে পারে না। সিপিআইএম থেকে এসইউসি পযর্ন্ত সব দল এই জুলুমবাজির প্রতিবাদ জানিয়েছে'।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, বেআইনি দখলকারীদের উচ্ছেদ, ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এই রাজ্যে উত্তর প্রদেশের ধাঁচে চালু করা হবে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’। সেই শুভেন্দু এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েই চালু করেছেন ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’। এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ প্রথম শুরু করেছিলেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই প্রথম বিজয় উল্লাসের নামে বুলডোজার দিয়ে নিউমার্কেটের বাইরে সংখ্যালঘুদের দোকান ভাঙা হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু প্রথম ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু করেন কলকাতার উপকণ্ঠের তপশিয়া-তিলজলা অঞ্চলে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বেআইনি বাড়ি ভাঙার কাজে। বসিরহাটের হাসনাবাদের তালপুকুর এলাকার তৃণমূল নেতা সাদ্দাম হোসেনের অবৈধভাবে তৈরি একটি ভবন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ভেঙে দেওয়া হয় বুলডোজার ব্যবহার করে। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার একটি খেলার মাঠে অবৈধভাবে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জীব দাস। এ নিয়ে মামলা হলে কলকাতা হাইকোর্ট ওই ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে ফেলার আদেশ দিলেও এত দিন তা ভাঙা হয়নি। সরকার বদলের পরেই ওই ওয়াচ টাওয়ার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে গত শনিবার গভীর রাতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে সব অবৈধ দোকান বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করে দেয় প্রশাসন। রাতেই মাইকে অবৈধ দোকানের মালিকদের দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানোর পরেই রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ করেন অবৈধ দোকানপাট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন