ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে

ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে

ফন্ট সাইজ:

ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি’র উদ্যোগে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের সঙ্গে আলাপ করে তাদের চাওয়া অনুযায়ী অবিলম্বে এ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। আর ভারতের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সুযোগ এসেছে, সেটা নির্ভর করবে ভারতের এই গঙ্গা চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর দিয়ে। এ কথা আমি বিশ্বাস করি, সেই আহ্বান আমরা তাদের কাছে জানাতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনই কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেবো না। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার বৈধ উপায়ে নির্বাচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আজ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সুতরাং যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাদের অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। শুধু সজাগ নয়, সংগঠিতও হতে হবে- যাতে কোনো রকম চক্রান্ত সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে। দেশের জনগণ কখনোই কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না।

ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস এখন প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা। প্রতিবেশী দেশ যে অন্যায় করেছে, সেটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তিনি এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হলে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তখনই ভাসানী সেসব কথা তুলে ধরেছেন। আর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছিলেন। এ জন্য তিনি যে চুক্তি করেছিলেন, সেটা অনেকাংশে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য যেসব শক্তি বা দেশ আছে, তাদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সভায় আলোচক ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। এ ছাড়াও সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য নূরুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন