জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেল গোবিন্দভোগ-সহ পশ্চিমবঙ্গের তিন ধরণের চাল

জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেল গোবিন্দভোগ-সহ পশ্চিমবঙ্গের তিন ধরণের চাল

ফন্ট সাইজ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিন ধরণের সুগন্ধি চালকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে রয়েছে- সুগন্ধি গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড় চাল। এই তিনটি চালকে খাদ্য-সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ তকমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ওই সংস্থা। এছাড়া রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প মাটির সৃষ্টিকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্রের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যোগ্য উদ্যোগ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টে এই খবর জানিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পশ্চিমবঙ্গের সুগন্ধি গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড় চালকে খাদ্য-সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ আখ্যা দিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পশ্চিম অংশের জেলাগুলির অনাবাদি জমিতে ফসল ফলানোর কৌশল আয়ত্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ভূমি, সেচ এবং পঞ্চায়েত দফতরের সম্মিলিত প্রয়াসে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘ রাজ্যকে যে শংসাপত্রটি দিয়েছে, তা-ও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী উচ্ছ্বসিত।

রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি-সমস্যা দূর করতে ২০২০ সালে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প চালু করেছিল রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে রুক্ষ, অনাবাদি, এক-ফসলি জমিগুলিকে চাষের উপযোগী করে তোলা হয় বিশেষ কৌশলে। এই সমস্ত জমির আশপাশে নতুন পুকুর তৈরি করা বা অন্য উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের এফএও-র ডিরেক্টর জেনারেল যে শংসাপত্রগুলি পাঠিয়েছেন, সেগুলি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি আমরা আমাদের গ্রামবাংলার মানুষ এবং বাংলাদের কৃষকদের উৎসর্গ করছি।
উল্লেখ্য, সুগন্ধি চালের বাজারে গোবিন্দভোগের জনপ্রিয়তা বিপুল। বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে এই চালের চাষ হয়। তবে তুলাইপাঞ্জি উত্তরবঙ্গের চাল। মূলত উত্তর দিনাজপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় এই চালের চাষ হয়। কনকচূড় ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তবে পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তেই এই সমস্ত চাল কিনতে পাওয়া যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন