ইরানের মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি নারীর অধিকার রক্ষার জন্য তিন দশকের আন্দোলনে বারবার কারাবন্দি হয়েছেন। তাকে নতুন করে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রোববার তাকে সমর্থনকারী একটি সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, ৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদি এক সপ্তাহব্যাপী অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন, যা রোববার শেষ হয়। নার্গিস ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার কারাগার থেকে দেয়া এক ফোনকলে মোহাম্মদি তার আইনজীবী মোস্তাফা নিলিকে জানান শনিবার তিনি নতুন ওই সাজা পেয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তেহরান আবারও ভিন্নমত দমনে কঠোর অভিযান শুরু করে। ১২ই ডিসেম্বর নার্গিস মোহাম্মদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আইনজীবী খোসরো আলিকোরদির সন্দেহজনক মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। কৌঁসুলি হাসান হেমাতিফার সাংবাদিকদের জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে আলিকোরদির স্মরণসভায় মোহাম্মদি উত্তপ্ত বক্তব্য দেন এবং উপস্থিত লোকজনকে ‘নিয়ম ভাঙা স্লোগান’ দিতে ও ‘শান্তি বিঘ্নিত করতে’ উৎসাহিত করেন। বর্তমানে মোহাম্মদিকে মাশহাদের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নার্গিস ফাউন্ডেশন জানায়, সম্পূর্ণ একাকিত্বে ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর অবশেষে তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত ফোনকলে নিজের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে পেরেছেন।
রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার দায়ে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে খুসফ শহরে দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসন এবং দুই বছরের বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নার্গিস মোহাম্মদি ২০২৩ সালে ইরানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। সে সময়ও তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
