কলকাতা পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনারকে (ডিসি ) গ্রেপ্তার করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাকে দীর্ঘ জেরার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গত ৫ মে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল ইডি। জাল নথির মাধ্যমে জমি দখল এবং ওই জমিতে অবৈধ নির্মাণের মামলায় তাঁকে একাধিক বার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হননি। পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল।
গত এপ্রিল মাসে সেই সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে রাত ২টো নাগাদ শান্তনুর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অভিযোগ, তার পর থেকেই শান্তনুকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতম বৃত্তে তার অবাধ যাতায়াত ছিল। দীর্ঘদিন কালীঘাট থানার ওসি থাকার পরে তাকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার কাজে নিয়োগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো। কলকাতা পুলিশের সেই ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছিল একাধিক অভিযোগ।
বুধবারই ডিসিপির খোঁজ পেতে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছিল ইডি। এ দিন দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। আগামীকাল আদালতে পেশ করা হবে তাকে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে কয়েক কোটি রুপির জমি কেলেঙ্কারির ঘটনায় তারা খুঁজছে। সোনা পাপ্পুও ছিল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে। ওই মামলাতেই বাজেয়াপ্ত হওয়া নথি ঘেঁটে তদন্তকারীদের দাবি, জমি কেলেঙ্কারির ঘটনায় শান্তনুও জড়িত। ওই মামলার সূত্র ধরেই গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি।
