লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ফন্ট সাইজ:

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার পূর্ব আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আতঙ্কে সীমান্ত এলাকার ধান কাটতে সাহস পাচ্ছে না কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পূর্ব আমঝোল সীমান্তে।
বিজিবি ও গ্রামবাসী জানায়, গোতামারী পূর্ব আমঝোল সীমান্তের মেইন পিলার ৯০৬ ও ৯০৭-এর নিকট বাংলাদেশি যুবক খাদেমুলসহ কয়েকজন সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার নিকট যায়।

এমন সময় ভারতের কুচবিহার জেলার সীতলকুচি থানার পাগলীরবাড়ি বিএসএফ ৭৮ ক্যাম্পের টহল সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিএসএফের ছোড়া গুলিতে খাদেমুল গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খাদেমুলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি বিজিবিকে না জানিয়ে গোপনে রংপুর নিয়ে আসে চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সকালে মারা যান। লাশ গোপনে দাফনের চেষ্টা করে নিহত খাদেমুলের পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে বিজিবি এসে বাধা দিলে লাশ পুলিশের নিকট হস্তারন্তর করে। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। হাতিবান্ধা থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, বিএসএফের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার। তবে ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসবে কীভাবে খাদেমুলের মৃত্যু হয়েছে। ওদিকে সীমান্তে নিহতের ঘটনায় কাঁটাতারের নিকট বাংলাদেশি কৃষকরা ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে বলে জানান অনেক কৃষক। বনচৌকি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিএসএফকে।

তবে বিএসএফ ক্ষমা চেয়ে পরবর্তীতে এধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। ওদিকে নিহত খাদেমুল এক কন্যা সন্তানের পিতা ও তার স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় পুরো আমঝোল গ্রামে শোক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর দাবি, সীমান্তে গিয়ে অপরাধ করলে সেই দেশের প্রচলিত আইনে সাজা হোক, কিন্তু গুলি করে মানুষ হত্যা কাম্য নয়। নিহতের পিতা আমজাদ হোসেন জানান, আমি এই হত্যার বিচার চাই। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, এ বিষয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন