জাতীয় নির্বাচনের পর এবার চলছে স্থানীয় নির্বাচনের তোড়জোড়। সরকারের তরফে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) সেই লক্ষ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচলিত নিয়মকানুন পরিমার্জনে কাজ শুরু করেছে ইসি। সর্বস্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিন্ন ও যুগোপযোগী নিয়ম প্রবর্তনে বিভিন্ন বিধির তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন অনেক কিছুই যুক্ত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও নিয়মনীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার না রাখার কথা ভাবছে ইসি।
আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কারে একটি কমিটি করেছে কমিশন। বুধবার আগারগাঁওয়ে ইসি গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইসি’র নির্বাচন পরিচালনা ও আইন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন। বৈঠক শেষে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকার এরইমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল আইনে যেসব পরিবর্তন এনেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিধিমালা সংশোধন করা জরুরি। কর্মকর্তারা এখন বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখনো নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সংশোধনী দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে নীতিগত এ সিদ্ধান্ত হয়। ইসি জানিয়েছে, পোস্টার থাকবে কিনা যাচাই-বাছাই করাসহ অন্যান্য সংশোধনীর জন্য ইসিতে নির্দিষ্ট কমিটি কাজ করছে। স্থানীয় নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া তৈরি করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় নির্বাচনেও নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) রাখা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইসি’র কর্মকর্তারা। জাতীয় নির্বাচনের আগে জোট মনোনীত প্রার্থী হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে নিজ দলের প্রতীকেই। এমন বাধ্যবাধকতা রেখে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫’ এর গেজেট জারি করে সরকার। যা জাতীয় নির্বাচনে কার্যকর করা হয়। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে এর ব্যতিক্রম পথে হাঁটছে ইসি। স্থানীয় নির্বাচনে এখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করার বিধান রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবজমিনকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনের বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন আসছে। জাতীয় নির্বাচনে পোস্টার ছিল না; স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার রাখা হবে কি না- এ নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। একইসঙ্গে গ্রহণীয় ও বর্জনীয় সংশোধনীর বিষয়েও তারা আলোচনা করছে। তবে এখন এই নির্বাচনে প্রার্থীরা আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
একই দিন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মানবজমিনকে বলেন, পোস্টার না থাকা এবং ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্দিষ্ট পরিমাণ সমর্থন থাকতে হবে না- এমনটিও আলোচনায় রয়েছে। কবে নাগাদ স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাবলিক পরীক্ষা, বর্ষাকাল ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষণ চূড়ান্ত করবো।
ওদিকে, গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এখন আমাদের টপ প্রায়োরিটি হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
