জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মামলায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এর ১৯(২) ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের এ আবেদন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২- এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জবানবন্দি গ্রহনের এই আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন-অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য ৬ পলাতক আসামি হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মামলাটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অভিযুক্তরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বৈঠকে বসে তারা রাজপথে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর দমন-পীড়নের উস্কানি দেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সারাদেশে ব্যাপক প্রাণহানি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়াবহ সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই দিন প্রসিকিউশন ও বিবাদী পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আজ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা মামলাটি পরিচালনা করছেন এবং আসামিপক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।
