পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী অশান্তির একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে আইনজীবী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সওয়াল করেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মী এবং সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা করেন। শীর্ষণ্য মামলার অভিযোগে বলেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এসব ঘটনায় তৃণমূলের অন্তত ২ হাজার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের ৩৬৫টি দলীয় কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার জন্য গিয়েছিলেন মমতা। সকাল ১১টার কিছু আগে হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছেন তিনি। কালো শামলা পরে হাজির হন প্রধান বিচারপতি পালের এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন। এরপর এজলাস থেকে বেরোনোর সময়েই একদল বিক্ষুব্ধ আইনজীবী তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান ও নানা স্লোগান দেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান তুলতেও শোনা গেছে । আইনজীবীদের ভিড়ের মধ্যে থেকে ভেসে আসে কুকথাও। এই বিক্ষোভের মাঝেই হাইকোর্ট চত্বর ছাড়েন মমতা। আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।”
হাইকোর্ট চত্বরের এই পরিস্থিতির নিন্দায় ইতিমধ্যে সরব হয়েছে রাজ্যের বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, যারা এতদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন, তারা আজ কী বলবেন? রাজ্যের তিন বারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দরজায় গিয়েছেন। সেখানে যদি এই ঘটনা ঘটে, তা হলে বিজেপি রাজ্যে কী ধরনের গণতন্ত্রের চাষ করতে চাইছে, তা বোঝাই যাচ্ছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলের কর্মী ও সমর্কদের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কোনও কটু কথা ও অসদাচরণ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু আদালত চত্বরে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিপন্থি আইনজীবীরাই মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
