যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হুমকির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনকে তেহরানের প্রতি সম্মান দেখাতে আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির ভাষায়, তারা শক্তির ভাষা বোঝে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে আরেক দফা পারমাণবিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, পারমাণবিক ইস্যুতে আমাদের যুক্তি এনপিটিতে নির্ধারিত অধিকারের ওপর ভিত্তি করে। ইরানি জাতি সব সময় সম্মানের জবাবে সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু শক্তির ভাষা মেনে নিতে পারে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ওমানে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তার প্রশাসন সংলাপকে অগ্রাধিকার দেয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের কারণে তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার স্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তার সামরিক বহর জোরদার করছে। তবে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তাদের সামরিক মোতায়েন আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।
জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে আরব সাগরে পাঠায়। গত সপ্তাহে বিবিসি জানায়, অন্তত এক ডজন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ রিপার যুদ্ধড্রোন এবং কয়েকটি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট টু ভূমি-আক্রমণ বিমান জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি দেখেছে- নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক মিশরের সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশ করছে। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন উপসাগরীয় আকাশে তৎপর ছিল। এর আগেও এই অঞ্চলে ই-১১এ
যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি ও গোয়েন্দা বিমান মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে।এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশ সত্ত্বেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পরিত্যাগ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতে ভয় পাবে না। ওয়াশিংটন প্রথমে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের কারণে হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়। রোববার ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তিনজন বিশিষ্ট সংস্কারপন্থী নেতাকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ শুরুর আগেই গ্রেপ্তার হওয়া নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্নের অভিযোগে নতুন করে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেয়া হয়।
