পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) রাজ্যটির বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি থেকে উপভোক্তাদের নাম বাদ দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসআইআরের মাধ্যমে মৃত, ভুয়া বা অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতি রোধের কাজে এটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের কয়েকদিন পরেই প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে, তারা বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য যোগ্য হবেন না।
এসআইআর-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেয়ার পর রেশন তালিকা থেকেও সুবিধাভোগীদের নাম বাদ দেয়া হবে। ফলে রাজ্যটির ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে, তারা রেশন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পসহ সরকারি কোনো সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন না। কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ডাটাবেসকে সংশোধিত ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়াটি এখন রাজ্য সরকারের কল্যাণ বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় রোধ করতে ভুয়া, মৃত এবং কথিত অযোগ্য সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করতে এবং কথিত অযোগ্য নাম বাদ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের এসআইআর চালু করে। এসআইআর-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া এসব মানুষের মধ্যে ২৭ লাখেরও বেশি মানুষ যৌক্তিক অসঙ্গতির তালিকায় থেকে গিয়েছেন । এদের আবেদন ট্রিইবুনালে বিবেচনাধীন।
প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) মডেলটি দালাল এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে কল্যাণমূলক পরিষেবা বিতরণে অপচয় কমাবে। তবুও এই ব্যবস্থায় এখনও বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি রাজ্য বিহারেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানেও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায়।
