থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে রক্ষণশীল শিবির প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটাই পেছনে ফেলে এগিয়ে থাকায় প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বিজয়ের দাবি করেছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, তার নেতৃত্বাধীন শাসক রক্ষণশীলরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। অনুতিন বলেন, তার এই সাফল্য সব থাই জনগণের- আপনি আমাদের ভোট দিন বা না দিন, এ জয় সবার।
জনমত জরিপে যেখানে সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছিল, সেখানে অনুতিনের দলের ফল সেই পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে। ভোটের প্রায় ৯০ শতাংশ গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, অনুতিনের দল ভুমজাইথাই পার্টি ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে প্রায় ১৯৪টি আসন পেতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পিপলস পার্টি। তাদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১১৬। পিপলস পার্টির নেতা নাত্তাফং রুয়েংপানিয়াওয়ুত কার্যত পরাজয় স্বীকার করে বলেন, অনুতিন যদি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তিনি বিরোধী দলে থেকে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।
গত ডিসেম্বর এই নির্বাচন ডাকা হয়, যখন অনুতিনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভেঙে পড়ে। যদিও কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে না, তবু অনুতিনের ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন প্রায় নিশ্চিত। তার ভুমজাইথাই দল ২০২৩ সালের আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার দ্বিগুণেরও বেশি আসন পেতে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের নির্বাচন প্রায়ই অনিশ্চিত হয়ে থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ফলাফল পিপলস পার্টির জন্য বড় ধরনের হতাশা। তিন বছর আগে যে জয় তারা পেয়েছিল, এবার সেটির ওপর আরও উন্নতি হবে বলে তারা আশা করেছিল। তরুণ ও আদর্শবাদী প্রার্থীদের ঘিরে প্রত্যাশিত ‘কমলা ঢেউ’ বাস্তবে দেখা যায়নি। ২০২৩ সালে মুভ ফরোয়ার্ড নামে পরিচিত দলটি ভোটে জিতলেও অনির্বাচিত সিনেটের বাধায় সরকার গঠন করতে পারেনি। এবার নতুন নামে পিপলস পার্টি হলেও, অনুতিনের বাস্তববাদী রক্ষণশীলদের কাছে তারা দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।
