বিএনপি জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় ডাকসু’র উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার ডাকসু এক বিবৃতিতে জানায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে অগ্রাহ্য করেছে। এটি গণতান্ত্রিক চর্চা ও জুলাই সনদে তাদের কৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে বলা হয়, সমপ্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সেই ফলাফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানো জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
ডাকসু উল্লেখ করে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। জনগণের অভিপ্রায়ের ফলেই তৎকালীন সরকার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করে। পরবর্তীতে বিপ্লবী ছাত্রজনতার অভিপ্রায় অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন- এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রণীত হয় এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়; সবকিছুই জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ধারা-০৮ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একযোগে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জনরায় উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণ করেনি। ডাকসু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার- বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ডাকসু অবিলম্বে বিএনপি‘র প্রতি আহ্বান জানায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। অন্যথায় নতুন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। বিবৃতির শেষে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই কেউ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চাওয়ার কথা জানায় ডাকসু।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন