পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্তভার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-র হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। হত্যার অভিযোগে ৩ জনকে আততায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তারের এক দিন পরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার থেকে সিবিআই মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আগেই এই মামলায় সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
সিবিআই-এর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, মামলাটি পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হবে। সিবিআইয়ের নেতৃত্বে এটি গঠিত হবে। কলকাতা জোনের যুগ্ম পরিচালক/জোন প্রধানের (এইচওজেড) তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। গত ৬মে দমদম বিমান বন্দর ছাড়িয়ে মধ্যমগ্রামে দোহাড়িয়া মোড়ের কাছে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামায় একটি চারচাকার গাড়ি। তারপর একটি মোটরবাইক থেকে নেমে আততায়ীরা মুহূর্মুহূ গুলি চালিয়ে চন্দ্রনাথ ও তার গাড়ির চলকের উপর। চন্দ্রনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর তার চালক বর্মানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই খুনের তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পুলিশ চারচাকার গাড়ি এবং দুটি মোটর বাইক উদ্ধার করেছে। পুলিশের অনুমান, দেড় মাস আগে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চন্দ্রনাথ রথের খুনের চার দিনের মাথায় গত সোমবার প্রথম গ্রেপ্তারের কথা জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে এসেছেন।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার তিনজনই শার্প শুটার। উত্তরপ্রদেশ থেকে দুজন এবং একজনকে বিহারের বক্সার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সুত্র মারফত জানা গেছে। পুলিশএই শার্প শুটারদের কে বা কারা নির্দেশ দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছিল।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আততায়ীরা ইউপিআই পেমেন্টের মাধ্যমে কলকাতায় প্রবেশের আগে বালি টোলপ্লাজায় টাকা দেয়। ওই ডিজিটাল লেনদেন সূত্র ধরে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে পৌঁছন তদন্তকারীরা। খুনের পর ভিনরাজ্য়ে পালিয়ে গিয়েই গা ঢাকা দিয়েছিল তারা।
